Home /News /explained /
Pak Pm Shehbaz Sharif: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নিচ্ছেন শেহবাজ শরিফ, ভারতের কী লাভ হতে পারে?

Pak Pm Shehbaz Sharif: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নিচ্ছেন শেহবাজ শরিফ, ভারতের কী লাভ হতে পারে?

Shehbaz Sharif: বর্তমানে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় যে নামটি জ্বলজ্বল করছে সেটি হল শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: একেবারে স্বাধীনতার প্রাক্কাল থেকে আজ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের সম্পর্ক কখনও মধুর হয়নি। তার কারণ একটাই, তা হল কাশ্মীর ইস্যু। মূলত কাশ্মীরকে সামনে রেখে কয়েক দশক আগে থেকে পাকিস্তানের মাটিতে দিনের পর দিন দানা বেঁধেছে সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যকলাপ।

বিশেষ করে একেবারে গোড়া থেকে অর্থাৎ প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ আলি জিনা (Muhammad Ali Jinnah) থেকে শুরু করে নওয়াজ শরিফ কিংবা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, প্রায় প্রত্যেকেই ভারতবিরোধী মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বার বার।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের স্পষ্ট সখ্যতা নিয়ে একাধিক বার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল মেলেনি। উল্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীরা জঙ্গিযোগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টিকে বার বার অস্বীকার করেছেন। ফলস্বরূপ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের এই ধামাচাপা মনোভাবের কারণে ক্রমশ পাকিস্তানের মাটি পরিণত হয়েছে জঙ্গিদের আঁতুড়ঘরে।

আরও পড়ুন- XE ভ্যারিয়েন্ট কী? এখনই এই প্রজাতি নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, কেন বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

এর পাশাপাশি গত দু'বছর যাবত করোনা, তার ওপর বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বাতাবরণে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক হাল একেবারে তলানিতে। এই অবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)। ফলে কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পাকিস্তানের নাগরিকরা।

বর্তমানে গোটা পাকিস্তান জুড়েই হাহাকারের ছবি স্পষ্ট। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে নিজের প্রধানমন্ত্রী পদের সমর্থনে নির্বাচনের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন ইমরান খান। বর্তমানে পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় যে নামটি জ্বলজ্বল করছে সেটি হল শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)।

কিন্তু কে এই শেহবাজ শরিফ। ভারতের সঙ্গে শেহবাজের সম্পর্কই বা কী? শেহবাজ পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের কী লাভ?

কে এই শেহবাজ শরিফ?

পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের (Nawaz Sharif) ভাই হলেন শেহবাজ শরিফ। বর্তমানে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের সভাপতি তিনি। মূলত পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের হাত ধরেই শেহবাজের রাজনীতিতে প্রবেশ। কূটনীতিকরা বলেছেন বরাবরই স্পষ্টবাদী এবং উন্নত মনের মানুষ হলেন শেহবাজ। তিনি একজন দক্ষ প্রশাসকও বটে। পাশাপাশি উন্নয়নই তার প্রধান লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে শেহবাজের। এ হেন শেহবাজই এবার আস্থা ভোটে ইমরান খানকে পরাস্ত করলেন। জানা গিয়েছে, ভারতীয় সময় রাত ন'টার সময় শপথ নেবেন, শপথ বাক্য পাঠ করাবেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি। ভোটের জয়ের পর শেহবাজ শরিফ বলেছেন, এক নতুন সূর্যের উদয় হল পাকিস্তানে। এই জোট নতুন করে পাকিস্তানকে গড়ে তুলবে।

বিতর্ক এবং শেহবাজ শরিফ:

২০১৯ সালে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো মোট ২৩টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শেহবাজের। তাঁর ছেলে হামজা শরিফের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে লাহোর হাই কোর্ট থেকে শেহবাজকে গ্রেফতার করে ন্যাব। গত বছর এপ্রিল মাসে জামিনে মুক্তি পান। এর পর গত ৮ মার্চ তাঁর নেতৃত্বে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় পাক সংসদে।

ভারত সম্পর্কে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের মনোভাব কেমন?

এ বিষয়ে কূটনীতিকরা বলেছেন সর্বদা স্পষ্টবক্তা শেহবাজ ইতিমধ্যেই ভারত-পাকিস্তানের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন একাধিক বার। কাশ্মীর নিয়ে শেহবাজ ইতিমধ্যেই বলেছেন, "আমার প্রথম অগ্রাধিকার জাতীয় সম্প্রীতি। আমরা ভারতের সঙ্গে শান্তি চাই, কিন্তু কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়"।

সম্প্রতিও শেহবাজ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী হয়ে তাঁর প্রথম কাজই হবে ভারতের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তৈরি করা। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে আখেরে লাভ হবে পাকিস্তানের। তিনি আরও বলেছেন, দু'দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে তিনি কাশ্মীর নিয়ে সেনাবাহিনী স্তরে আলোচনার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত।

নেতা হিসাবে শেহবাজ শরিফ কতটা সহনশীল?

এ বিষয়ে কূটনীতিকরা বলেছেন, সহনশীলতার প্রসঙ্গে ৭০ বছর বয়সী নেতা শেহবাজের জুড়ি মেলা ভার। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের মাটিতে সংখ্যালঘু মানুষদের নিয়ে তাঁর মতো সহনশীল মনোভাব কোনও প্রধানমন্ত্রী দেখাননি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। উদাহরণ হিসাবে বিগত হোলির সময়, পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের শেহবাজের তরফ থেকে শুভেচ্ছা জানানোর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।

ওই সময়ে এক ট্যুইট বার্তায় শেহবাজ পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, "আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

পাকিস্তান জাতি, ধর্ম এবং বর্ণ নির্বিশেষে তার সকল নাগরিকের অন্তর্গত। দিনটি সবার জন্য শান্তি ও সুখের উৎস হয়ে উঠুক"। অতীতে পাকিস্তানে হিন্দু ও খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের উপর হামলার নিন্দা করতেও তিনি দ্বিধা করেননি। পাশাপাশি সহনশীলতার বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীরা, বিশেষ করে ইমরান খান যে সর্বদা উল্টো পথে হেঁটে ধর্মীয় স্বাধীনতার স্থান সংকুচিত করেছেন সে প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বিশেষজ্ঞদের মতামতে।

আরও পড়ুন- সারি সারি মৃতদেহ, যুদ্ধের বীভৎস বাস্তব! ইউক্রেনের বুচায় যা হয়েছে, তা কি গণহত্যা?

উন্নয়ন নিয়ে শেহবাজের মনোভাব কেমন?

বলিষ্ঠ স্বভাব, স্পষ্টবাদিতা, সহনশীলতার পাশাপাশি পাকিস্তানের মাটিতে শেহবাজ শরিফকে উন্নয়নপন্থী নেতা হিসেবেও দেখা হয়। বরাবরই তাঁর মধ্যে ব্যবসায়িক সুলভ মানসিকতা বিদ্যমান বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর স্বচ্ছ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে পাড়ি দেয়। যা ওই সময় পঞ্জাবের সার্বিক ও প্রভূত উন্নয়ন করতে সহায়তা করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শেহবাজের এই মানসিকতা ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে।

আবার, ২০১৭ সালে যখন পঞ্জাব এবং উত্তর ভারত উভয়ই ধোঁয়াশা সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল ওই সময় শেহবাজ শরিফ ভারতের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংকে (Amarinder Singh) ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের পঞ্জাব প্রদেশের মানুষের সার্বিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন চেয়ে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার জন্য আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

শেহবাজের সঙ্গে ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক কেমন হতে পারে?

এক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের ব্যবসায়িক উন্নতি সম্ভব বলেই মোট দিয়েছেন কূটনীতিকরা। কারণ শরিফ সহ তাঁর পরিবার বরাবরই ভারতের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন বরাবর। ভারতের স্টিল ম্যাগনেট সজ্জন জিন্দালের সঙ্গে শেহবাজের বড় ভাই নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং শেহবাজ শরিফ নিজেও একটি ইস্পাত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

এই ঘটনার উদাহরণ টেনে পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেহবাজ প্রধানমন্ত্রী হলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৩ সালে ভারত সফরের সময়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শেহবাজ স্যার ক্রিক, সিয়াচেন, জল এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুদ্ধের বিরুদ্ধেই মত দিয়ে বলেন যুদ্ধ কোনও বিকল্প পথ হতে পারে না, একমাত্র শান্তি আলোচনায় যে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

ভারত -পাকিস্তান যুদ্ধের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?

বর্তমানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সে দেশের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সমর্থন হারিয়েছেন। কিন্তু এ কথাও স্পষ্ট যে এখনও সে দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবে পরোক্ষে তা নির্ভর করে সেনাবাহিনীর ওপর। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে উদাহরণ হিসাবে কূটনীতিকরা শেহবাজ শরিফের বড় ভাই পাকিস্তানের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের একটি বক্তব্যকে তুলে ধরেছেন।

এ বিষয়ে নওয়াজ বলেছেন, "এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনও শীর্ষ বিরোধী নেতার সেনাবাহিনীর সঙ্গে শেহবাজের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই। তিনি সামরিক বাহিনীর প্রতি সংঘর্ষের অবস্থান এড়িয়ে গিয়েছেন এবং লড়াইয়ের উপরে থাকার চেষ্টা করেছেন যা তাঁকে পাকিস্তানের মাটিতে একটি প্রিয় পুত্রের মর্যাদা উপভোগ করতে সহায়তা করেছে।"

এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শেহবাজ শরিফ একজন দক্ষ প্রশাসক এবং যুদ্ধবিরোধী শান্তি কামী মানুষ। তিনি সর্বদা যুদ্ধের বদলে নিজেকে উন্নয়নের মোড়কে মুড়িয়ে রাখতে বেশি পছন্দ করেন। যদিও তিনি ইতিমধ্যেই কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরেছেন, তবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমস্যা সে দেশের মাটিতে ঘোর সংকট তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইমরান খান তাঁর ভারতবিরোধী মনোভাব ব্যক্ত করার পাশাপাশি কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে স্পষ্ট কোনও ইতিবাচক মনোভাবও দেখাননি। অন্য দিকে, শেহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করেছেন, তবে তাঁর বক্তব্যে দু'দেশের মধুর সম্পর্ক তৈরিতে ইতিবাচক মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে দুটি দেশের এবার আরও গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান কাশ্মীর ইস্যু চলাকালীন শেহবাজ শরিফের প্রধানমন্ত্রীত্ব দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে বলেই আশাবাদী নয়াদিল্লি।

Published by:Suman Majumder
First published:

Tags: Pakistan, Shehbaz Sharif

পরবর্তী খবর