Home /News /explained /
Explained: শেষ হতে চলেছে রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ, এরপর কী হবে?

Explained: শেষ হতে চলেছে রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ, এরপর কী হবে?

বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের (Ram Nath Kovind) পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৫ জুলাই।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Elections 2022) হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি (BJP) তার মধ্যে চারটি রাজ্যে জিতেছে। তবুও, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (President Election 2022) পদের জন্য মনোনীত তাদের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য এনডিএ (NDA)-কে বেগ পেতে হতে পারে। তাদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট সংখ্যা নাও থাকতে পারে। বিরোধী দলগুলি রাষ্ট্রপতি (President) এবং উপ-রাষ্ট্রপতি (Vice President), উভয় নির্বাচনেই যৌথ প্রার্থী দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এনডিএ-র রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর সমর্থন চেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ দলগুলির সঙ্গে কথা বলার আগামীদিনে শীর্ষ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাঁধে ভার দেবে বিজেপি। যদিও এডিএ জোট এখনও তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা বিজু জনতা দল (BJD) এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসের (YSRCP) মতো দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সমর্থন দেওয়ার আবেদন জানাবে। কারণ, এই দলগুলি কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের অংশ নয়। বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের (Ram Nath Kovind) পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৫ জুলাই। আমরা এই প্রতিবেদন জানব কীভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

কীভাবে ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন?

রাষ্ট্রপতি সংসদের উভয় কক্ষের (Lok Sabha And Rajya Sabha) নির্বাচিত সদস্য, রাজ্য বিধানসভার (Assembly) নির্বাচিত সদস্য এবং দিল্লি ও পুদুচেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচিত সদস্যদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী কলেজ (Electoral College) দ্বারা নির্বাচিত হন। সুতরাং, ইলেক্টোরাল কলেজে ৫৪৩ জন লোকসভা সাংসদ, ২৩৩ জন রাজ্যসভার সাংসদ এবং ৪,১২০ জন বিধায়ক রয়েছেন। ইলেক্টোরাল কলেজে ১০,৯৮,৯০৩ ভোট রয়েছে।

প্রতিটি নির্বাচকের (সাংসদ/বিধায়ক) ভোটের মূল্য পূর্বনির্ধারিত:

প্রতি সাংসদের জন্য ভোটের মূল্য (Value Of Vote) ৭০৮ স্থির করা রয়েছে। একজন বিধায়কের ক্ষেত্রে তিনি যে রাজ্য থেকে নির্বাচিত, সেই রাজ্যের জনসংখ্যার উপরে ভিত্তি করে এই ভোটের মূল্য স্থির হয়। ১৯৭১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী রাজ্যের জনসংখ্যা ধরা হয়। তাই, বিধায়কদের ভোটের মূল্য রাজ্য ভেদে ভিন্ন হয়।

উদাহরণস্বরূপ, উত্তরপ্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। এখানে প্রতিটি বিধায়কের ভোট মূল্য ২০৮। যা সব রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। উত্তরপ্রদেশের ৪০৩ জন বিধায়কের মোট ভোট মূল্য ৮৩,৮২৪। রাজ্যের ৮০ জন সাংসদের মোট ভোটের মূল্য ৫৬,৬৪০। রাজ্যের সাংসদ এবং বিধায়কদের ভোটের সামগ্রিক মূল্য ১.৪ লক্ষ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোট মূল্যের ১২.৭ শতাংশ রয়েছে উত্তরপ্রদেশের কাছে। আবার পঞ্জাবের মতো একটি ছোট রাজ্যে একজন বিধায়কের ভোটের মূল্য হল ১১৮। এটি উত্তরাখণ্ডে ৬৪, গোয়াতে ২০। এইভাবে পঞ্জাবের মোট মূল্য হল ১৩,৫৭২, আর উত্তরাখণ্ডের ৪,৪৮০ এবং গোয়ার ৮০০।

আরও পড়ুন Explained: যুদ্ধ ও এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আবহে কি দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তেই থাকবে?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন জমা পড়ার পরে বিধায়কদের তাঁদের রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোট দেন। এর জন্য ব্যালট পাঠানো হয়। আর সাংসদরা ভোট দেন সংসদে, তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্যও ব্যালট পেপার দেওয়া হয়। সাংসদদের জন্য সবুজ এবং বিধায়কদের জন্য গোলাপি ব্য়ালট দেওয়া হয়। এবার জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা না থাকার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাংসদদের ভোটের মূল্য ৭০৮ থেকে ৭০০-তে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভোটের অঙ্ক: সর্বাধিক ভোট পেলেই কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন না। বরং যে ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট কোটার উপরে বেশি ভোট পান তিনিই জয়ী হন। সুতরাং, প্রতিটি প্রার্থীর ভোটের মোট মূল্য গণনা করার পরে রিটার্নিং অফিসার সমস্ত বৈধ ভোটের মূল্য যোগ করেন। বৈধ ভোটের যোগফলকে ২ দ্বারা ভাগ করে এবং ভাগফলের সঙ্গে ১ যোগ করে কোটা নির্ধারণ করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, সমস্ত প্রার্থীর দ্বারা বৈধ ভোটের মোট মূল্য হল ১,০০,০০১। নির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোটা ১,০০,০০১-কে ২ দ্বারা ভাগ করে এবং ভাগফলের সঙ্গে ১ যোগ করে গণনা করা হবে। অর্থাৎ, ৫০,০০০.৫০ + ১ (.৫০ অবশিষ্টটিকে উপেক্ষা করা হয়)। এইভাবে কোটা হবে ৫০,০০০ + ১ = ৫০,০০১। যদি কেউ এই কোটার চেয়ে বেশি ভোট না পান, তবে সবচেয়ে কম ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়।

২০১৭-২০২২ সাল পর্যন্ত এনডিএ-র সংখ্যা: ২০১৭ সালে এনডিএ-র প্রার্থী রামনাথ কোবিন্দ ৬৬১,২৭৮ ভোট (৬৫.৬৫ শতাংশ) পেয়েছিলেন। যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলির প্রার্থী মীরা কুমার (Mira Kumar) ৪৩৪,২৪১ ভোট (৩৪.৩৫ শতাংশ) ভোট পেয়েছিলেন। সেই সময় ২টি রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল এনডিএ। ২০২০ সালে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তিত হয়েছে, বিশেষত ১০ মার্চের পরে। আজ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ১৭টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিজেপি এবং তার সহযোগীরা মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, রাজস্থানের মতো বড় রাজ্য এবং ছত্তিসগঢ়, ঝাড়খণ্ডের মতো ছোট রাজ্যগুলিতে ক্ষমতা হারিয়েছে। অবশ্য মধ্যপ্রদেশ ও কর্নাটকে ক্ষমতায় ফিরে পেয়েছে। এছাড়াও এনডিএ ছেড়েছে টিডিপি (TDP), শিবসেনা (Shiv Sena) এবং অকালি দল (Shiromani Akali Dal)। জেডিইউ (JDU) অবশ্য এনডিএ-তে ফিরে এসেছে।

আরও পড়ুন Explained: গরমে পেটের গণ্ডগোল, কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেকে?

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাদের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট শেয়ার থেকে এনডিএ কমপক্ষে ১.২ শতাংশ দূরে রয়েছে। এডিএ-র ভোট ভাগে এই পতনের কারণ হল ২০১৭ সালের রাজ্য নির্বাচনের পরে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি ৩১২টি আসন জিতেছিল এবং তার সহযোগী আপনা দল (Apna Dal) ১১টি আসনে জয়লাভ করেছিল। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে জোটের শক্তি কমে দাঁড়িয়েছিল ৩১৫ তে। এখন সংখ্যা আরও কমেছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে বিজেপি ২৫৫টি আসনে এবং আপনা দল ১২টি আসনে জিতেছে। বিজেপি-র সহযোগী নিষাদ পার্টির ৬ জন বিধায়ক সহ এনডিএ-র মোট আসন সংখ্যা এখন ২৭৩।

মিত্র দলগুলির সংখ্যা: বিজেপি তার মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার কোন সুযোগই হাতছাড়া করতে চাইছে না। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) জনতা দল (ইউনাইটেড) নেতা এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের (Nitish Kumar) সঙ্গে দেখা করতে পটনায় গিয়েছিলেন। এনডিএ-র শরিক জেডিইউ-র সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক কয়েকমাস ধরে ঠিক নেই। অতীতে নীতীশ কুমার বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন। আঞ্চলিক দলগুলিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চাবিকাঠি। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) আম আদমি পার্টি (AAP), কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের (K Chandrashekar Rao) তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (TRS), জগন মোহন রেড্ডির (Jagan Mohan Reddy) ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP) এবং নবীন পট্টনায়কের (Naveen Patnaik) বিজু জনতা দল (BJD)।

টিএমসি, এএপি এবং টিআরএস এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থন করবে না বলেই মনে হচ্ছে। মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে চারটি রাজ্যের নির্বাচনে জয় পেলেও আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়া বিজেপির পক্ষে সহজ হবে না। মমতা বলেছিলেন, "খেলা এখনও শেষ হয়নি। শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমাদের সমর্থন ছাড়া, বিজেপি তাদের প্রার্থীকে জেতাতে পারবে না। এটি ভুলে যাওয়া উচিত নয়।"

এই পরিস্থিতিতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোট নিশ্চিত করার জন্য বিজেপি ওয়াইএসআরসিপি এবং বিজেডি-র উপর নির্ভর করছে। ইলেক্টোরাল কলেজে ওয়াইএসআরসিপি-র ৪ শতাংশ এবং বিজেডি-র প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০১৭ সালে ওয়াইএসআরসিপি ও বিজেডি বিজেপি-র প্রার্থীকে সমর্থন করেছিল। তবে উপ-রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থন করেনি বিজেপি। পরিবর্তে, তারা ইউপিএ মনোনীত গোপাল কৃষ্ণ গান্ধিকে (Gopal Krishna Gandhi) সমর্থন করেছিল। সম্প্রতি নতুন দিল্লি সফরে গিয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেডি প্রধান নবীন পট্টনায়ক বলেছিলেন যে তাঁর দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবে। নবীন জানিয়েছিলেন যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ-র প্রার্থীকে সমর্থন জানানো হবে কি না, তা কে প্রার্থী হচ্ছেন, তার উপরে নির্ভর করছে।"

প্রার্থী হওয়ার জন্য কাদের নাম ভাসছে?

বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আদিবাসী মহিলা মুখ সামনে আনতে চাইছে তারা। সেক্ষেত্রে ওড়িশার আদিবাসী নেত্রী ও ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) নাম রয়েছে সবার আগে। এছা়ডাও আরেক আদিবাসী মহিলার নাম ঘুরছে রাজনীতির অলিন্দে। তিনি হলেন ছত্তিসগঢ়ের বর্তমান রাজ্যপাল অনসূয়া উইকে (Anusuiya Uikey)। আরেক মহিলা মুখ হিসেবে উঠে আসছেন উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজ্যপাল তথা গুজরাতের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আনন্দী বেন পটেল (Anandiben Patel)। অন্য নামগুলির মধ্যে সবার আগে উঠে আসছে কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের (Arif Mohammad Khan) নাম। অন্যদিকে বিরোধীদের তরফেও কয়েকটি নাম ঘোরাফেরা করছে। তাতে সবার আগে রয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ার (Sharad Pawar)। এছাড়াও জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন রাজ্যপাল করণ সিংয়ের (Karan Singh) নামও উঠে আসছে।

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: President Election 2022, Ram Nath Kovind

পরবর্তী খবর