Home /News /explained /
Explained: মোটা কাচে ঢেকে রাখা দু’টি চোখ, মুক্তির আলো দেখাচ্ছে Refractive Surgery, বিস্তারিত জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে!

Explained: মোটা কাচে ঢেকে রাখা দু’টি চোখ, মুক্তির আলো দেখাচ্ছে Refractive Surgery, বিস্তারিত জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে!

সাধারণত হাই পাওয়ার চশমা যাঁদের থাকে, তাঁদের রেফ্র্যাক্টিভ সার্জারি (Refractive Surgery)-র মাধ্যমে চশমা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: চশমা থেকে মুক্তি! এমনটাও যে হতে পারে বিশ্বের অনেক মানুষের কাছেই তা স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন পূরণ করে দিতে পারে রেফ্র্যাক্টিভ সার্জারি (Refractive surgery)। কী এই বিশেষ অস্ত্রোপচার, বিস্তারিত জানাচ্ছেন চিকিৎসক ও ব্রিটেনের ম্যাক্সিভিশন চক্ষু হাসপাতাল (MaxiVision Eye Hospitals)-এর রিজিওনাল মেডিক্যাল ডিরেক্টর শিবু ভারকে (Dr. Shibu Varkey)

সাধারণত হাই পাওয়ার চশমা যাঁদের থাকে, তাঁদের রেফ্র্যাক্টিভ সার্জারি (Refractive Surgery)-র মাধ্যমে চশমা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব। এই বিশেষ পদ্ধতির অস্ত্রোপচারকে কসমেটিক (Cosmetic) পদ্ধতির মধ্যে ধরা হয়। কিন্তু এটি কি আদৌ কসমেটিক? নাকি অনেক বেশি কিওরেটিভ (curative)?

আরও পড়ুন Explained: যুদ্ধ ও এবং জলবায়ু পরিবর্তনের আবহে কি দেশে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তেই থাকবে?

মনে করা যাক এমন একজন মানুষ, যাঁর খুব হাই পাওয়ার চশমা রয়েছে (High Glass Power), সকালে ঘুম চোখ মেললেই তাঁকে হাতড়ে বেড়াতে হয় টেবিল। রাতে ঘুমোনোর ঠিক আগে তিনি চশমাটা কোথা্য় খুলেছিলেন তা মনে করার জন্য। যাঁদের চোখে মাইনাস পাওয়ার (Minus Power) থাকে তাঁরা তবু চোখ মেলে বিছানার পাশের ছোট টেবিল ঘড়িটি দেখতে পান। কিন্তু যাঁদের প্লাস পাওয়ার (Plus Glass Power) তাঁরা চশমা না পরে দেওয়াল ঘড়িটিও স্পষ্ট দেখতে পান না, টেবিল ঘড়িও না। মজা করে অনেকেই বলে থাকেন, স্বপ্ন দেখতে গেলেও তো আমাদের চশমা পরে রাতে ঘুমোতে হয়।

সুতরাং এ কথা বলাই যায় যে, চশমা নির্ভরতা মানুষের জীবনে, এবং যাপনে একটা বড় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে নাকের উপর চশমা এঁটে ঘোরা জীবন থেকে মুক্তি চাওয়াটা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের ইচ্ছা নয়। বরং এটা মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও খুব জরুরি। আর এমন মুক্তির পথ হিসেবেই বিজ্ঞান নিয়ে এসেছে দু’টি পদ্ধতি— এক, লেন্স ভিত্তিক অস্ত্রোপচার (LENS-based surgical procedures), দুই, লেসার ভিত্তিক অস্ত্রোপচার (LASER-based)

আরও পড়ুন Explained: গরমে পেটের গণ্ডগোল, কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেকে?

LASIK বা লেসার অ্যাসিস্টেড ইন সিটু কেরাটোমিলিউসিস (Laser-assisted in situ keratomileusis) এখন খুবই চেনা শব্দ। সাধারণ গৃহস্থ পরিবারেও এই বিশেষ চিকিৎসা শব্দের আনাগোনা। অবশ্য তার প্রাথমিক কারণটি খুবই পিতৃতান্ত্রিক। বিবাহযোগ্য কন্যার নাক থেকে চশমা সরিয়ে দিতে উৎসাহী বেশিরভাগ পরিবারই। কিন্তু শুধু তো এটুকুই নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির শর্তেও পিছিয়ে পড়েন চশমাধারীরা।

১৯৮৯ সালে প্রথম একটি সহজ এবং নিরাপদ পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়। সাধারণত একজিমার লেসার (Excimer LASER) ব্যবহার করা হত তখন। এখন ফেমটো (FEMTO) লেসার ব্যবহার করা হয়। আর তাতে গোটা পদ্ধতিটি আরও সরল ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে। আর বর্তমান বিশ্বে যা কাজ করছে তা হল আধুনিকতম প্রযুক্তি স্মাইল (SMILE)। চিকিৎসা বিজ্ঞান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রায় কোনও রকম জটিলতাই তৈরি হয় না এই পদ্ধতিতে। সাধারণ LASIK পদ্ধতিতে তবু তেমন সম্ভাবনা ছিল।

তবে সবটাই যে লেসার প্রযুক্তির দ্বারা সম্ভব এমনটা নয়। এমন অনেক মানুষ আছেন যাঁদের ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। তাঁদের হাই পাওয়ারের সমস্যা সমাধান করার জন্য রয়ছে ফেকিক আইওএল (Phakic IOL) প্রযুক্তি। যার সাহায্যে খুব পাতলা জৈব সামঞ্জস্যপূর্ণ বা বায়ো কম্পিটেবল (Bio-compatible) সিন্থেটিক লেন্স চোখের তারার ভিতরে বসিয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি চিরস্থায়ী।

এই পদ্ধতিও প্রায় ঝুঁকিহীন এবং খুব ভাল প্রতিক্রিয়া মিলেছে এ যাবৎকাল। তবে হ্যাঁ, সবটাই নির্ভর করছে অস্ত্রোপচারের উপর। LASIK হোক বা Phakic IOL, কতখানি নির্ভুল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, তার উপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে সাফল্য। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ শল্যচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকের দেখে নেওয়া দরকার রোগীর চোখের পরিস্থিতি। সে ক্ষেত্রে কাটিং এজ (Cutting-edge Technology) প্রযুক্তি ব্যবহার করাই সব থেকে নিরাপদ। আধুনিক সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পৃথক পৃথক ভাবে চিকিৎসা পদ্ধতি স্থির করা হয়।

আরও পড়ুন Explained: NATO-তে কেন যোগ দিতে চায় ফিনল্যান্ড? পুতিনের সমস্যার কারণ কী?

এতদিন পর্যন্ত যে সব শব্দ আমরা জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত টেলিস্কোপের ক্ষেত্রে শুনে এসেছি, যেমন, অ্যাসফেরিক (Aspheric), ওয়েভফ্রন্ট (Wavefront), হাই-অর্ডার অ্যাবেরোমেট্রি (Higher-order Aberrometry)— এখন রেফ্র্যাক্টিভ শল্যচিকিৎসকদের (Refractive Surgeons) কাছে খুব পরিচিত হয়ে উঠেছে। আর এর অর্থ এই যে, চক্ষুসংক্রান্ত প্রযুক্তি (Optical Technology) উন্নতির প্রায় শিখর স্পর্শ করেছে, যার লক্ষ্য হল চশমা ছাড়া স্পষ্ট দৃষ্টি।

রেফ্র্যাক্টিভ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আসলে পাওয়া যেতে পারে সহজ, সরল সমাধান। অন্তত যাঁরা চশমার বোঝা ছুড়ে ফেলে একটা স্পষ্ট অথচ, হালকা জীবন কাটাতে চান তাঁদের কাছে এ বিজ্ঞানের আশীর্বাদ।

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Eye Surgery, Refractive Surgery

পরবর্তী খবর