Home /News /explained /
President’s Fleet Review of the Indian Navy: রাষ্ট্রপতির দৃষ্টিতে নৌ-মহড়ার ইতিহাসের তাৎপর্য এবং ১২তম সংস্করণের প্রত্যাশা!

President’s Fleet Review of the Indian Navy: রাষ্ট্রপতির দৃষ্টিতে নৌ-মহড়ার ইতিহাসের তাৎপর্য এবং ১২তম সংস্করণের প্রত্যাশা!

File image of Navy's battleship INS Ganga during an operational demonstration as a pre-cursor to the President's Fleet Review in 2011. AFP

File image of Navy's battleship INS Ganga during an operational demonstration as a pre-cursor to the President's Fleet Review in 2011. AFP

President’s Fleet Review of the Indian Navy: সর্বশেষ নৌ-মহড়া ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukherjee) নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ (Ram Nath Kovind) আজ বিশাখাপত্তনমে নৌ-মহড়ার এক অভিনব অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। যেখানে ৬০টিরও বেশি জাহাজ এবং সাবমেরিন, ৫০টি বিমান অংশগ্রহণ করবে।

    রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ আজ বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীর নৌ-মহড়া বা ফ্লিট রিভিউতে (President’s Fleet Review) যোগ দেবেন। নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর ৬০টিরও বেশি জাহাজ, যার সবকটিই দেশে তৈরি হয়েছে, সেগুলি এই নৌ-মহড়ায় অংশ নেবে।

    নৌবাহিনীর মুখপাত্রের তরফে জানানো হয়েছে, নৌ-মহড়ার ক্ষেত্রে এটি ১২তম রাষ্ট্রপতির ফ্লিট পর্যালোচনা হবে। সর্বশেষ নৌ-মহড়া ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukherjee) নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল।

    নৌবাহিনী এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাঁরা এই ইভেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রথম কবে নৌ -হড়া হয়েছিল, তার তাৎপর্য এবং প্রত্যাশা কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য থাকছে নৌবাহিনীর মুখপত্রে। নৌ-মহড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এবং উৎসাহের যাবতীয় উত্তর মিলবে এখানে।

    রাষ্ট্রপতির ফ্লিট রিভিউ কী?

    নৌবাহিনীর মতে ফ্লিট রিভিউ একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য যা সারা বিশ্বের নৌবাহিনী অনুসরণ করে। এটি সার্বভৌম শক্তি এবং নৌবাহিনীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে একটি পূর্ব-নির্ধারিত স্থানে জাহাজের সমাবেশ। রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালে সাধারণত একবার একটি ফ্লিট পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর, প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডের পরের দিনই এই নৌ-মহড়া হয়। রত্নগিরির উপকূলীয় দুর্গে বিখ্যাত সরখেল (গ্র্যান্ড অ্যাডমিরাল) কানহোজি আংগ্রের অধীনে 'ঘুরাব' এবং 'গ্যালিভাট' সমন্বিত শক্তিশালী মরাঠা নৌবহর দ্বারা ১৮ শতকে প্রথম রেকর্ড করা ভারতীয় নৌবহরের পর্যালোচনার কথাও বলেছেন নৌবাহিনীর মুখপাত্র। আজ অবধি, স্বাধীনতার পর থেকে ১১টি প্রেসিডেন্সিয়াল ফ্লিট রিভিউ পরিচালিত হয়েছে। যার মধ্যে দুটি ২০০১ এবং ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক ফ্লিট রিভিউ। এই দ্বিতীয়বার বিশাখাপত্তনমে রাষ্ট্রপতির ফ্লিট রিভিউ আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আব্দুল কালাম (A. P. J. Abdul Kalam) ২০০৬ সালে বিশাখাপত্তনমে নৌবহরের পর্যালোচনা করেছিলেন।

    নৌবাহিনীর জাহাজের পর্যালোচনার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানরা নৌবহরের প্রতি বিশ্বাস এবং দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষমতাকে পুনর্নিশ্চিত করেন এবং এই ধরনের মহড়া কোনও যুদ্ধোদ্দীপনা ছাড়াই করা হয়।

    মহড়ার এই অনুশীলনটি সর্বশেষ ২০২০ সালেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে মহামারীর কারণে তা বাতিল করা হয়েছিল। আন্দামান ও নিকোবরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এই নৌ-মহড়াটি।

    রাষ্ট্রপতির এই ফ্লিট পর্যালোচনাতে কী আশা করা যায়?

    স্বাধীনতার ৭৫ বছর স্মরণে পিএফআর (PFR) ২০২২-এর থিম হল 'ভারতীয় নৌবাহিনী-জাতির সেবায় ৭৫ বছর।' ৬০টির বেশি জাহাজ ও সাবমেরিন এবং ৫০টি বিমান নৌ মহড়ায় অংশ নেবে বলে জানা গিয়েছে।

    কোস্ট গার্ডের জাহাজ, ভারতের শিপিং কর্পোরেশন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজির সাবমেরিনগুলিও এই নৌ-মহড়ায় অংশ নেবে। নির্ধারিত ইভেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে 'রিভিউ অ্যাঙ্করেজ', মোবাইল কলাম দ্বারা 'স্টিম্পপাস্ট' এবং 'ফ্লাইপাস্ট', 'পালের প্যারেড' এবং একটি স্মারক ডাকটিকিটের কভার প্রকাশ হবে প্রথম দিনে।

    সমস্ত অংশগ্রহণকারী ইউনিট, যার মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, সহায়ক জাহাজ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক সংস্থার সম্পদও রয়েছে, তাদের চারটি সুনির্দিষ্ট কলাম অনুসরণে নোঙর করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি সমস্ত অংশগ্রহণকারী জাহাজগুলিকে নিয়ে পর্যালোচনা করবেন। 'প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ট' হিসাবে মনোনীত হবে একটি নৌযান।

    বিশাখাপত্তনমে ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছরের অঙ্গ হিসেবে আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের অংশ হিসেবে ভারত সরকার এবং ভারতের নৌবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ প্রদর্শিত হবে। কোভিড জনিত অতিমারী সত্বেও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় এই ধরনের যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের ফলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছে নৌবাহিনী।

    এছাড়া আধুনিক একটি যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করা হয়েছে। জাহাজটির নকশা তৈরি করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর অধীন ডিরেকটোরেট অফ নাভাল ডিজাইন। জাহাজটি তৈরি করেছে মুম্বইয়ের মেসার্স মাজগাঁও ডক শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। জাহাজের নামকরণ করা হয়েছে দেশের চার কোণ থেকে বড় বড় চারটি শহরের নাম অনুসারে। এই নামগুলি হচ্ছে বিশাখাপত্তনম, মার্মাগাঁও, ইম্ফল এবং সুরাট।

    জাহাজটির মূল নকশায় হুল ফর্ম, প্রপালসন মেশিনারি, মেনি প্লাটফর্ম ইকুইপমেন্ট এবং মেজর উইপন ও সেন্সরের ব্যবস্থা রাখা রয়েছে।

    নৌবাহিনীর মহড়ায় জলপথে সুদৃশ্য প্রত্যেকটি জাহাজ সুপ্রিম কমান্ডারকে স্যালুট জানাবে যখন ইয়ট পাশ দিয়ে যাবে। ভারতীয় নৌবাহিনীর বিমান একযোগে তাদের স্যালুট প্রদান করে জলপথের ওপর আকাশে উড়বে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

    আরও পড়ুন - ইউক্রেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত, পূর্ব ইউরোপে অশান্তির আশঙ্কা

    বাষ্পচালিত জাহাজ ছাড়াও প্রায় ৫০টি বিমানের ফ্লাইপাস্ট হবে। ভারতীয় নৌবাহিনীর এভিয়েশন শাখার অধীনে পরিচালিত সমস্ত বিমান ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে‌। যার মধ্যে সর্বশেষ সংস্করণ মিকোয়ান মিগ-২৯ কে, বোয়িং পি-৮আই নেপচুন এবং এইচএএল ধ্রুব এমকেআইআই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ফ্লাইপাস্টের পর মেরিন কমান্ডো (মার্কোস) যুদ্ধ-সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান সম্পর্কেও প্রদর্শনী করবে। একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও বিপর্যস্তকে উদ্ধারের মহড়া এবং কয়েকটি সাবমেরিন দ্বারা একটি স্টিম-পাস্ট প্রদর্শন করবে নৌসেনার জাহাজগুলি।

    আরও পড়ুন - ইউক্রেনের রুশপন্থী অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণা করলেন পুতিন, ইউক্রেন ঘিরে সঙ্কট চরমে

    সবশেষে রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। যা এই নৌ-মহড়ার সমাপ্তি ঘোষণা করবে। পরে রাষ্ট্রপতি এই দিনটি উপলক্ষে নৌ-ঘাঁটিতে একটি বিশেষ প্রচ্ছদ ও একটি পোস্টাল স্ট্যাম্প উদ্বোধন করবেন।

    Published by:Uddalak B
    First published:

    Tags: Ram Nath Kovind

    পরবর্তী খবর