Home /News /explained /

Plasma Therapy: দ্বিতীয় ওয়েভে করোনা রোগীদের সারিয়ে তুলতে ব্যবহার হয়েছে প্লাজমা থেরাপি, এটি কি আদৌ কার্যকরী?

Plasma Therapy: দ্বিতীয় ওয়েভে করোনা রোগীদের সারিয়ে তুলতে ব্যবহার হয়েছে প্লাজমা থেরাপি, এটি কি আদৌ কার্যকরী?

Plasma Therapy: এত পথ পেরোনোর পর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই প্লাজমা থেরাপি কি আদৌ করোনা থেকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে?

  • Share this:

#কলকাতা: ২০২০-র শুরুতে দেশে করোনাভাইরাসের আগমন। তার পর থেকে কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে মানুষের জীবন, লাইফস্টাইল, খাওয়াদাওয়া, পড়াশোনা সব কিছুতেই একটা আমূল পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তন এসেছে যাতায়াত ব্যবস্থা, কেনাকাটার ধরন ইত্যাদিতেও। একটা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে সব কিছুতে। যার মধ্যে সবচেয়ে যে ক্ষেত্রটি আলোচনায় বেশি উঠে এসেছে তা হল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (Plasma Therapy)। এই ভাইরাস কোথাও যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো দেশে রয়েছে তা এক কোটি মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় বা কী কী পরিকাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

এই পরিকাঠামো নিয়েই দেশের চিকিৎসকরা বীর সৈনিকদের মতো লড়েছেন এবং একের পর উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি আনার চেষ্টা করেছেন। মানুষকে ভালো করে তোলার চেষ্টা করেছেন। প্রথম ওয়েভে খুব বেশি সমস্যা না হলেও ২০২১-এ দ্বিতীয় ওয়েভ সব কিছুই প্রায় ওলোট-পালোট করে দেয়। চিকিৎসকরাও আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকেন পরিষেবা(Plasma Therapy) দেওয়ার।

দ্বিতীয় ওয়েভ, দেশকে এক অন্য পরিস্থিতির সামনে এনে ফেলে। যেখানে হাসপাতালে বেড না পাওয়ার হাহাকার। অক্সিজেন পরিষেবা না থাকা বা অক্সিজেন থেকেও তা সকলকে দিতে না পারার আক্ষেপ হয় তো আজও সকলের আছে। এই দ্বিতীয় ওয়েভেই বহু সন্তান অনাথ হয়েছে, বহু বাবা- মা অল্প বয়সী সন্তানদের হারিয়েছে। এই দ্বিতীয় ওয়েভ কোথাও যেন অনিশ্চয়তার পথে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলার বার্তা দিয়েছে। একদিকে যখন হাসপাতালে দরজায় ঘুরে বেড না পেয়ে অসহায় হয়ে বাড়িতেই প্রচুর দামে অক্সিজেন কিনে প্রিয়জনকে বাঁচানোর চেষ্টা চলেছে তখন অন্য দিকে, SARs-COV-2-র সঙ্গে লড়াইয়ে উঠে এসেছে চিকিৎসা পরিষেবায় প্লাজমা থেরাপির(Plasma Therapy) কথা।

এই প্লাজমা থেরাপির (Plasma Therapy)জেরে বহু মানুষ এই দ্বিতীয় ওয়েভে প্রাণে বেঁচেছেন। বহু প্লাজমা থেরাপি আশার আলো দেখিয়েছে। ফলে প্লাজমা ডোনেশনও রক্তদানের মতোই নৈতিক কর্তব্যে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে, এত পথ পেরোনোর পর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই প্লাজমা থেরাপি কি আদৌ করোনা থেকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে? যা নিয়েই শুরু হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা।

কী এই প্লাজমা থেরাপি?

যখন কেউ অসুস্থ হয়, সে ইনফেকশনটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে শরীরে অর্থাৎ অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডিগুলিই একজনের রক্তের প্লাজমায় থাকে।

প্লাজমা থেরাপিতে(Plasma Therapy) চিকিৎসকরা কোভিড থেকে সেরে ওঠা রোগীদের প্লাজমা নিয়ে, তা পরীক্ষা করে সংগ্রহ করে রাখে এবং প্রয়োজনে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় তা কাজে লাগায়।

প্লাজমা থেরাপি কি সত্যিই করোনা থেকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করছে?

প্রথমে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের উপর জরুরিভিত্তিতে প্লাজমা থেরাপির প্রয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছিল US Food and Drug Administration (FDA)। মনে করা হচ্ছিল, যারা করোনায় আক্রান্ত এবং অবস্থা অত্যন্ত খারাপ তাদের এই থেরাপি সুস্থ করে তুলতে পারে।

National Institute of Allergy and Infectious Diseases এবং US President-এর চিফ মেডিক্যাল অ্যাডভাইসর অ্যান্থনি ফাউচি (Anthony Stephen Fauci) ও National Institutes of Health-এর অ্যাডভাইসর ফ্রান্সিস এস কলিনস (Francis S. Collins) করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার নিয়ে FDA-কে নিরুৎসাহিত করেন।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO করোনা নিয়ে তার নতুন গাইডলাইনে জানায়, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের উপরও প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু এই থেরাপি শুধুমাত্র করোনায় আক্রান্ত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরই প্রয়োগ করা যাবে।

ICMR-এর সমীক্ষা বলছে, প্লাজমা থেরাপি করোনা থেকে সারিয়ে তুলতে আদৌ সাহায্য করে না -

দ্বিতীয় ওয়েভে এই প্লাজমা থেরাপি নিয়ে প্রচুর চর্চা হয়েছে, এই থেরাপি বহু মানুষকে আশার আলো জুগিয়েছে। যেখানে প্লাজমা থেরাপি নিয়ে এত কথা এবং এর বিপুল পরিমাণে প্রয়োগ চলছে সেখানে নতুন করে উঠে আসছে একাধিক তথ্য।

প্লাজমা থেরাপি কতটা কার্যকরী করোনা রোগীকে সারিয়ে তুলতে তা দেখার জন্য ICMR (Indian Council of Medical Research) ৩৯টি হাসপাতালে ৪৬৪ জন করোনা রোগীর উপর একটি সমীক্ষা করে। এই ৪৬৪ জনেরই প্লাজমা থেরাপি হয়েছে।

এই ৪৬৪ জনের মধ্যে ২৩৫ জন বেস্ট স্ট্যান্ডার্ড অফ কেয়ারে প্লাজমা গ্রহণ করেন যাকে ইনভেনশন আর্ম বলা হয়। বাকি ২২৯ জন স্ট্যান্ডার্ড অফ কেয়ার পান কিন্তু কোনও প্লাজমা পান না। তাই বলা হচ্ছে, প্লাজমা পাওয়া এবং না পাওয়া তেমনভাবে কোনও পার্থক্য গড়ে তোলেনি। এমনকী মৃত্যুর হারও কমায়নি।

৩৪ জন (১৩.৬%) -এর মৃত্যু হয়েছে ইনভেনশন আর্ম পাওয়ার পর আর ৩১ জন (১৪.৬%) মৃত্যু হয়েছে কন্ট্রোল আর্ম পাওয়ার পর।

গবেষকরা বলছেন, প্লাজনা থেরাপি করোনায় মৃত্যু কমাতে বা করোনা রোগীর অসুস্থতা কমাতে সাহায্য করেনি।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা বনাম পরীক্ষামূলক চিকিৎসা -

করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ সকলের সামনে চিকিৎসা পরিষেবার বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছে। হাসপাতালে বেডের অভাব, অক্সিজেনের জোগান কম থাকা ইত্যাদি দেখেছে সকলে। এই পরিস্থিতি কোথাও যেন করোনা চিকিৎসায় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির দাবি জানাচ্ছিল। কারণ চোখের সামনে অক্সিজেন না পেয়ে, বেড না না মৃত্যু হতে দেখা কী এত সহজ? এখান থেকেই বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি আসে এবং উঠে আসে প্লাজমা থেরাপির কথা। অনেকে বিভিন্ন ওষুধের সাহায্যেও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে। টাকা পয়সার কথা এই সময়ে অনেকেই ভাবেননি। শুধু চেয়েছেন এই মারণ ভাইরাস থেকে বেঁচে ফিরুক প্রিয় জন।

আরও পড়ুন: আপনারও কি এই অভ্যাসগুলি আছে? তাহলে হার্টের অসুখের ঝুঁকি এড়াতে এখনই সতর্ক হয়ে যান!

অনেকেই তাই প্লাজমা থেরাপির উপর ভরসা করেছে। মনে হয়েছে এই থেরাপিই হয় তো বাঁচিয়ে দিতে পারে সন্তানকে বা বাবা-মাকে। এই থেরাপির জন্য করোনা থেকে সেরে উঠে প্লাজমা দানও করেছেন অনেকে। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি এমন কঠিন ছিল যে এই থেরাপি কতটা কার্যকরী তার তেমনভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালই হয়নি। মানুষ অসুস্থ হয়েছে, বাঁচার চেষ্টা করেছে এবং এই পদ্ধতি প্রয়োগে দিশাহীন চিকিৎসকরাও একজনকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। আদৌ এই ট্রিটমেন্টে কেউ বাঁচছে কি না কেউ সুস্থ হচ্ছে কি না তা আর দেখা হয়নি। সে বিষয়ে আর কেউ ভাবেনি। তবে, করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ কমতে শুরু করতেই এই নিয়ে কথা-বার্তা শুরু হয় এবং নতুন করে এই থেরাপি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।

Published by:Piya Banerjee
First published:

Tags: Coronavirus, Plasma therapy

পরবর্তী খবর