Home /News /explained /
Mukesh Ambani : অপ্রতিরোধ্য ভারতের অগ্রগতি! আগামী ২০ বছরে গ্রিন এনার্জি সুপারপাওয়ারে পরিণত হবে দেশ: মুকেশ আম্বানি!

Mukesh Ambani : অপ্রতিরোধ্য ভারতের অগ্রগতি! আগামী ২০ বছরে গ্রিন এনার্জি সুপারপাওয়ারে পরিণত হবে দেশ: মুকেশ আম্বানি!

আগামী ২০ বছরে গ্রিন এনার্জি সুপারপাওয়ারে পরিণত হবে দেশ: মুকেশ আম্বানি

আগামী ২০ বছরে গ্রিন এনার্জি সুপারপাওয়ারে পরিণত হবে দেশ: মুকেশ আম্বানি

Mukesh Ambani : জেনে নেওয়া যাক, মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত মশলকরের আলাপচারিতায় ভারতের অর্থনীতির অগ্রগতি সংক্রান্ত কী কী তথ্য উঠে এল।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই অর্থনৈতিক নিরিখে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করবে ভারত। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর (Reliance Industries Limited) চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুকেশ আম্বানি (Mukesh Ambani)।

বুধবার এশিয়া ইকোনমিক ডায়লগে (Asia Economic Dialogue 2022) পুণে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (Pune International Centre) প্রেসিডেন্ট ড. রঘুনাথ অনন্ত মশলকরের (Dr Raghunath Anant Mashelkar) সঙ্গে আলোচনায় মুকেশ আম্বানি জানান, ভারতের অগ্রগতি নিয়ে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। শুধু তা-ই নয়, একুশ শতক হয়ে উঠবে এশিয়ারই শতক। এটা যত দিন যাবে, ততই দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

আম্বানি বলেন, ভারতের অর্থনীতি ৫ লক্ষ কোটি ডলারে, এমনকী ১০ লক্ষ কোটি ডলারেও চলে যাবে। আর সেটা ২০২৫ অথবা ২০২৭ সালের মধ্যে হতে পারে, কিংবা ২০৩০ অথবা ২০৩২ সালের মধ্যেও হতে পারে। তবে একটা কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, এটা সম্ভব হলে প্রতিটি ভারতীয়ের জীবনযাত্রার উন্নতিসাধন ঘটবে।

জেনে নেওয়া যাক, মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত মশলকরের আলাপচারিতায় ভারতের অর্থনীতির অগ্রগতি সংক্রান্ত কী কী তথ্য উঠে এল।

সাক্ষাৎকার শুরুর আগে মুকেশ আম্বানির প্রশংসা করেন মশলকর এবং উষ্ণ ও আন্তরিক অভিনন্দনও জানান। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, বিদেশ মন্ত্রকের সহায়তা ও আশীর্বাদে পুণে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ইকোনমিক ডায়লগ ২০২২-এর আয়োজন করেছে। এই বছরের থিম হল– প্যান্ডেমিক পরবর্তী বিশ্বে প্রাণবন্ত বিকাশ। এর পরেই শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব।

ড. রঘুনাথ অনন্ত মশলকর: স্থায়ী ভবিষ্যতের মূলেই থাকবে গ্রিন এনার্জি– এই সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করার আগে আমি জানতে চাই এশিয়ার ভবিষ্যৎ বা বিকাশ নিয়ে আপনার মতামত কী? শুধু তা-ই নয়, সেখানে ভারতের স্থানই বা কোথায়? কী মনে করেন আপনি?

মুকেশ আম্বানি: যত দিন যাবে, তত স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, একুশ শতক এশিয়ারই শতক। আসলে সারা বিশ্বের অর্থনীতির ভরকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এশিয়া। প্রথম থেকে আঠেরো শতক পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী জিডিপি-তে সবথেকে এগিয়ে ছিল এশিয়া মহাদেশই। তবে গত দুই শতকে নিজের স্থান থেকে পিছিয়ে গিয়েছিল এশিয়া। আর এ বার এই শতকে এশিয়া ফের নিজের স্থানে বলিষ্ঠ ভাবে কামব্যাক করতে চলেছে। আমরা সকলেই দেখেছি যে, ২০২০ সালে সারা বিশ্বের সমস্ত জিডিপি-কে পিছনে ফেলে দিয়েছে এশিয়ার জিডিপি।

আরও পড়ুন- রাষ্ট্রপতির দৃষ্টিতে নৌ-মহড়ার ইতিহাসের তাৎপর্য এবং ১২তম সংস্করণের প্রত্যাশা!

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিকাশ বা উন্নয়নের ৬০ শতাংশই থাকবে এশিয়ার অবদান। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সারা বিশ্বের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ রয়েছে এশিয়াতেই।

আগামী দুই দশকে অন্যান্য মহাদেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় বেশি পরিমাণে এশিয়াবাসী মধ্যবিত্তের আওতায় আসবে। ফলে এখানেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির ক্ষেত্রে সবথেকে এগিয়ে থাকতে চলেছে এশিয়াই। জনসংখ্যা ও উন্নয়নের অমিল এ বার বন্ধ হতে চলেছে। সমান বিশ্বের যে লক্ষ্য, তাতে পুনরুত্থিত এশিয়ারই সবথেকে বেশি অবদান থাকতে চলেছে। এই ট্রেন্ডকে সত্যিই অভিনন্দন! আর এই ট্রেন্ডের হাত ধরেই ভারতও অর্থনীতিতে একটা সময় জাপানকে টেক্কা দেবে এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে পরিচিত হবে। আর অর্থনীতির নিরিখে বিশ্বে ভারতের স্থান হবে তৃতীয়। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এটা ভারতেরই সময় বলে গণ্য হবে।

ড. রঘুনাথ অনন্ত মশলকর: খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক! এ বার আসা যাক আমাদের মূল থিম সংক্রান্ত আলোচনায়। বিশ্বের স্থায়ী ভবিষ্যতের মূল অঙ্গ গ্রিন এনার্জি, কিন্তু কেন গ্রিন এনার্জি? আপনার কথা হিসেবে কেন নতুন এনার্জি?

আরও পড়ুন- মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি চিকিৎসা কী? কোভিডের বিরুদ্ধে এটা কতটা কার্যকর? পড়ুন

মুকেশ আম্বানি: এর উত্তর খুবই সরল এবং সোজা। মানবতা হিসেবে আমাদের সকলের একটাই গ্রহ আছে। এর কোনও বিকল্প নেই। সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে সমস্ত জীব এবং মানুষের একটাই গ্রহ, আর সেটা হল পৃথিবী। আর জলবায়ুর পরিবর্তনের জেরে আমাদের পৃথিবী মারাত্মক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে। আর জলবায়ুর সঙ্কট আসলে এনার্জির সঙ্কট।

বিগত দু'শো বছর ধরে জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আর জলবায়ুর পরিবর্তন গোটা জীবজগতের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আমি এক জন প্রকৃতিপ্রেমী হিসাবে এটা মনে করি যে, প্রকৃতি মায়ের এই সমস্ত অমূল্য দান সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। যাতে তা আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে পারি।

তাই পুরনো এনার্জি থেকে নতুনে বদল এবং সবুজ ও পরিচ্ছন্ন এনার্জি কোনও বিকল্প নয়, এটা বাধ্যতামূলক। আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করছে আমরা কত তাড়াতাড়ি সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি অথবা হাইড্রোজেন শক্তিকে স্বাগত জানাচ্ছি। আর একটা বিষয় একুশ শতকে শক্তির পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক বদলও নিশ্চিত হয়ে উঠবে। তাই ভারত যখন গ্রিন এবং ক্লিন এনার্জিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে, তখন সারা বিশ্বে সব থেকে শক্তিশালী হবে আমাদের দেশ। এখানেই শেষ নয়, এনার্জির পরিবর্তন ঘটলে গ্রিন জবের পরিমাণও দেশে বাড়বে। পরিশেষে সবার ভালো জীবনযাত্রার জন্য গ্রিন ও ক্লিন এনার্জি অপরিহার্য। আর আমি বিশ্বাস করি, পুরনো থেকে নতুন এনার্জিতে পরিবর্তনই পরিবেশবান্ধব শিল্পবিল্পবের ডাক দেবে।

ড. রঘুনাথ অনন্ত মশলকর: পরিবেশবান্ধব শিল্পবিপ্লব তো দারুণ ব্যাপার! শিল্পবিপ্লবের কথা জানি, কিন্তু পরিবেশবান্ধব শিল্পবিপ্লবের বিষয়ে শুনিনি! এটা নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি যদি জানান!

মুকেশ আম্বানি: আমরা যদি প্রথম তিনটি শিল্পবিপ্লবের ইতিহাস ঘাঁটি, তা হলে দেখতে পাব যে, সবক’টি শিল্পবিপ্লবের ক্ষেত্রেই জীবজগৎ ও প্রকৃতির মধ্যেকার সমন্বয়ে বিঘ্ন ঘটেছে। বিগত কয়েক শতকে অর্থনৈতিক বিকাশ শুধুমাত্র প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদকে নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করে গিয়েছে। আমাদের নতুন শক্তির প্রযুক্তি প্রকৃতি মা-কে যেন নকল করছে। কারণ সূর্যরশ্মি এবং জলের হাইড্রোজেনকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, প্রকৃতি মা দারুণ কার্বন চক্র তৈরি করেছে, যা আমাদের জন্য দায় নয়, বরং সম্পদ। ধীরে ধীরে এই কার্বন ক্যাপচার ইউটিলাইজেশন এবং স্টোরেজ (সিসিইউএস) প্রযুক্তিই প্রসিদ্ধ হবে এবং পরিবেশে কার্বনের ভার লাঘব করবে।

পরবর্তী গ্রিন ও ক্লিন এনার্জির যুগে প্রতিটি বাড়ি, কলকারখানা, ক্ষেত-খামার গ্রিড থেকে নিজেদের মুক্ত করতে সক্ষম হবে, কারণ নিজেরাই শক্তি উৎপাদন করতে পারবে। এটা আমরা কল্পনা করতে পারি। সারা বিশ্বে প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে, আমরা তাই বলতে পারি অল্প থেকেই বেশি পরিমাণ তৈরি করা যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব শিল্পবিপ্লবের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই রিলায়েন্স পরিবেশের এবং মানুষের যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ড. রঘুনাথ অনন্ত মশলকর: আপনি সব সময় ডিজিটাইলাইজেশন, ডিসেন্ট্রালাইজেশন ও ডিকার্বনাইজেশ-এর কথা বলেন। আর আপনার সংস্থা রিলায়েন্স এই তিনটে ‘ডি’ অনুসরণ করে চলে। আর আপনার স্বপ্ন, ভারত সব সময় নেতৃত্ব দেবে। ভারত কি বিশ্বব্যাপী নতুন এনার্জির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারবে?

মুকেশ আম্বানি: নিঃসন্দেহেই ভারত তা পারবে! গত কালের কথাই ধরুন না! আমাদের পুনর্নবীকরণ শক্তি মন্ত্রী হাইড্রোজেন পাম্পের কথা ঘোষণা করেছেন। যা বিশ্বের মধ্যে প্রথম! যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশ এটা নিয়ে লড়াই করে চলেছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করতে চান যে, আমাদের পরের প্রজন্ম শুধু শক্তির খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ বা আত্মনির্ভরই হবে না, সেই সঙ্গে ভারত গ্রিন এনার্জিও তৈরি করতে পারবে।

আর আমার আত্মবিশ্বাসের তিনটি মূল কারণ হল– প্রথমত, ভারত এমন দেশ যেখানে যুবশক্তি, উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনীশক্তি প্রচুর। দ্বিতীয়ত. আমাদের দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রে রয়েছে অত্যন্ত সক্রিয় এবং দূরদর্শী ও বিচক্ষণ সরকার। তৃতীয়ত, আমাদের উদ্যোগপতিরা অর্থায়নের বিকল্প নিশ্চিত করেছেন।

আমার বিশ্বাস, আমি যে সময়ের মধ্যে রিলায়েন্স সংস্থাকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি, তার অর্ধেক সময়ের মধ্যেই পরবর্তী প্রজন্মের উদ্যোগপতিরা নিজেদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যাবেন।

ড. রঘুনাথ অনন্ত মশলকর: তবে আমরা জানি যে, পা সব সময় শক্ত জমিতে রাখতে হয়! তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে সব সময় নীতি ও বিনিয়োগের ব্যাকআপ রাখতে হবে। আপনি কি সেক্ষেত্রে কোনও বাধা-বিপত্তি দেখতে পাচ্ছেন?

মুকেশ আম্বানি: আমার দৃষ্টিভঙ্গী, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে পুনর্নবীকরণ শক্তির ক্ষেত্রে ভারতেই সবথেকে বেশি লগ্নির সুযোগ ও সুবিধা রয়েছে। আর নীতি নিয়ে ভাবনা প্রসঙ্গে আমি বলব যে, ভারত সরকারও নতুন শক্তিকে বর্ধিত করতে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সারা বিশ্বের মধ্যে আমরা সবথেকে বেশি সক্রিয়। আর এই প্রতিশ্রুতি শুরু হচ্ছে একেবারে উপরের তলা থেকে– খোদ আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) গুজরাতের সময় থেকেই যথেষ্ট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা আপনারাও জানেন! আসলে পুনর্নবীকরণ এবং ক্লিন এনার্জির ক্ষেত্রে মোদিই হলেন সবথেকে বড় প্রবক্তা। নতুন এনার্জি সেক্টরের অর্থায়নে সরকারও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। সাম্প্রতিক বাজেটে সার্বভৌম গ্রিন বন্ডের বিষয়েও ঘোষণা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমাদের দেশ পুনর্নবীকরণ শক্তি তৈরির লক্ষ্যমাত্রার ৪০ শতাংশই পূরণ করে ফেলেছে। এখানেই শেষ নয়, ভারতের এখন মূল লক্ষ্যমাত্রা হল, ৫০০ গিগাওয়াটের পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষমতা উৎপাদন। আর আমার বিশ্বাস, ভারত সেই লক্ষ্যমাত্রাও শীঘ্রই পূরণ করবে এবং এটা নিয়ে আমি ভীষণই আশাবাদী।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Mukesh Ambani, RIL

পরবর্তী খবর