Home /News /explained /
Explained: সুদের হার বাড়লে ব্যাঙ্কের কি আদৌ কোনও লাভ হয়? সত্যি জানলে অবাক হবেন

Explained: সুদের হার বাড়লে ব্যাঙ্কের কি আদৌ কোনও লাভ হয়? সত্যি জানলে অবাক হবেন

সুদের একটি পতনশীল হারের পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কগুলো ঋণের হারের তুলনায় আমানতের হারে আরও বেশি হ্রাস করতে আগ্রহী হয়

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মূল পলিসি রেটগুলিতে সামান্য পরিমাণ বর্ধিত অর্থ ব্যাঙ্কগুলির জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার উপার্জন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে, যেহেতু তারা ঋণের জন্য আরও বেশি সুদ ধার্য করতে পারে। আমানতকারীদের এক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের তরফে বেশি অর্থ প্রদানের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সময়কে প্রতিফলিত করে। এটি একটি শক্তিশালী অর্থনীতির সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে আরও বেশি গ্রাহক ঋণ নিতে পারেন।

সুদের হার বেড়ে গেলে ব্যাঙ্কগুলি কীভাবে উৎসাহিত হয়

সুদের হার হল গ্রাফের মতো। সুদের হার কখনও বৃদ্ধি পায়, কখনও কমে। সাধারণভাবে সুদের হার হল সেই অর্থমূল্য যা ঋণদাতা গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়, টাকা ধার দেওয়ার সময়ে সুদের হার নির্ধারণ করে ব্যাঙ্ক। এই কারণেই ক্রমবর্ধমান সুদের হার ঋণগ্রহীতাদের জন্য সব সময় যে সদর্থক হবে তা নয়। যাদের বেশি অর্থ প্রদান করতে হবে এবং যারা বেশি উপার্জন করে, তাদের জন্য সুদের বর্ধিত হার খুব একটা তফাত তৈরি করতে পারে না। যখন সুদের হার বৃদ্ধি পায়, তখন ব্যাঙ্কের লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং খরচ (আমানতের হার) একই থাকে, ফলে তখন আয় (ঋণের উপর চার্জ করা হার) বাড়তে পারে। কেউ হয় তো অনুমান করবে যে আমানতের হারও বাড়বে, সুদের সঙ্গে। তবে এটি খুব কমই ঘটে। আমানতের হার বাড়াতে এবং তাদের লাভের মার্জিন কমাতে ব্যাঙ্কগুলির জন্য সামান্য লাভের কথা ভাবা হয়, বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে নিয়মিত সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনও কখনও দেখা যায় যে আমানতের হারও বাড়ে, কিন্তু এটি শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানেই ঘটতে পারে, যখন ব্যাঙ্কগুলি মোটামুটি লাভের মার্জিন ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

সুদের একটি পতনশীল হারের পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্কগুলো ঋণের হারের তুলনায় আমানতের হারে আরও বেশি হ্রাস করতে আগ্রহী হয়। ২০২০ সালে আরবিআই (RBI) মার্চ এবং মে মাসের মধ্যে নীতিগত রেপো রেট ১১৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ওয়েটেড এভারেজ লেন্ডিং রেট (WALR) ১২২ bps কমে গিয়েছে, যখন মধ্যমেয়াদী ডিপোজিট রেট ১৫০ bps কমে গিয়েছে।

সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঋণের মুনাফাও বৃদ্ধি পায়। কারণ আরবিআই পলিসি রেট এবং ব্যাঙ্ক তার গ্রাহকদের কাছ থেকে যে হারে সুদ নেয় তার মধ্যে একটি বৃহত্তর ক্ষেত্র রয়েছে। সুদের হার বৃদ্ধির সময় দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী হারের মধ্যে বিস্তারও প্রসারিত হয়, কারণ দীর্ঘমেয়াদী হার স্বল্পমেয়াদী হারের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এটি ব্যাঙ্কগুলিকেও সাহায্য করে কারণ তারা স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে ঋণ নেয় এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে ঋণ দেয়।

যদিও ব্যাঙ্কগুলির ঋণের সিংহভাগ স্বল্পমূল্যের আমানত থেকে আসে, তবে তাদের ঋণের কিছু অংশ বন্ড, বাজার ইত্যাদি থেকেও আসে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার তাদের জন্য ধারের খরচও বাড়ায় এবং উচ্চতর উপার্জন থেকে বেনিফিট বা লাভের মুখ দেখায়। যদিও সুদ অনেক কম পরিমাণে নেওয়া হয়।

কখন ক্রমবর্ধমান সুদের হার, ব্যাঙ্ককে আঘাত করতে পারে?

কখনও কখনও সুদের হার যখন বেড়ে যায়, তখন ব্যাঙ্কের বন্ডের পোর্টফোলিও কম মূল্যবান হয়ে ওঠে। বন্ড এবং সুদের হারের একটি বিপরীত সম্পর্ক আছে বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বন্ডগুলি তাদের প্রদান করা সুদের আয়ের উপর একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করে। যখন সুদের হার বেড়ে যায়, নতুন বন্ডগুলি উচ্চ হারের সঙ্গে বাজারে আসে এবং সংস্থাকে আরও আয় প্রদান করে। কিন্তু ফিক্সড-রেট বন্ড ইস্যুকারীরা তাদের হারকে নতুন ইস্যু বন্ডের মতো একই স্তরে বাড়াতে পারে না, অন্য দিকে রেট আকর্ষণীয় থাকার জন্য বন্ডের মূল্য অনেক বেড়ে যায়। এইভাবে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার একমাত্র উপায় হল বন্ডের দাম কমানো। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এই কাজ করে চলেছে। এই কারণেই যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুদের হার বৃদ্ধি পায়, তখন বন্ডের দাম কমে যায়। যা ব্যাঙ্কের বন্ড পোর্টফোলিওগুলিকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে। সুদের হার যখন পতনশীল, তখন দেশের বিভিন্ন সরকারপোষিত ব্যাঙ্কগুলো গ্রাহকদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা দান করে। বর্তমানে যেমন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক ইদানীংকালে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে- যা নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন দেশের সাধারণ মানুষ।

First published:

Tags: Banks, Interest Rates

পরবর্তী খবর