Home /News /explained /
Explained: আধ-সেদ্ধ চাল কী জানেন, কিন্তু কেন্দ্র আর কিনতে চাইছে না

Explained: আধ-সেদ্ধ চাল কী জানেন, কিন্তু কেন্দ্র আর কিনতে চাইছে না

what is parboiled rice- Photo- File

what is parboiled rice- Photo- File

কেন্দ্র বলেছে, এই চালের চাহিদা কম এবং তাই অতিরিক্ত পরিমাণে এই চাল কেনার জন্য তারা অর্থ অপচয় করতে পারবে না।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সম্প্রতি, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (K Chandrashekar Rao) এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা অভিন্ন ধান সংগ্রহ নীতির (Uniform Paddy Procurement Policy) দাবিতে দিল্লির তেলঙ্গানা হাউসে (Telangana House) ধর্না দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার আধ-সেদ্ধ চাল (Parboiled Rice) কেনা বন্ধ করছে, যার অন্যতম প্রধান উৎপাদন তেলঙ্গানা রাজ্যে। কেন্দ্র বলেছে, এই চালের চাহিদা কম এবং তাই অতিরিক্ত পরিমাণে এই চাল কেনার জন্য তারা অর্থ অপচয় করতে পারবে না।

আধ-সেদ্ধ চাল কি?

পারবয়েলড-এর অর্থ হল 'আংশিকভাবে ফুটিয়ে রান্না করা'। এইভাবে, পারবয়েলড চাল বলতে বোঝায় যে ধানের পর্যায়ে চাল আংশিকভাবে সিদ্ধ (Partially Boiled) করা হয়েছে মিলিংয়ের আগে। চাল সেদ্ধ করা একটি নতুন প্রথা নয় এবং প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে এটি চলে আসছে। যদিও, ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (Food Corporation of India) বা খাদ্য মন্ত্রকের (Food Ministry) কাছে এই চালের কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই।

চাল সেদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মাইসোরের সেন্ট্রাল ফুড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে, যাতে ধানকে ৮ ঘণ্টার বদলে ৩ ঘণ্টা গরম জলে ভিজিয়ে রাখা হয়। তারপর জল ঝরিয়ে ২০ মিনিটের জন্য ধান ভাপানো হয়। মিলে নিয়ে যাওয়ার আগে ধান প্রথমে ছায়াতে রেখে শুকনো করা হয়। তবে সাধারণ পদ্ধতিতে ভাপানো ধান রোদে শুকানো হয়।

আরও পড়ুন - Viral Video: মাঠেই খেলেন চুমু! কেসটা কি পোলার্ড ও ব্র্যাভোর

তাঞ্জাভুর ধান প্রক্রিয়াকরণ গবেষণা কেন্দ্র অন্য একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে ক্রোমেট (Chromate) ব্যবহার করে ভেজা চালের গন্ধ দূর করা হয়। সমস্ত প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিনটি পর্যায় জড়িত থাকে- ভেজানো, ভাপানো এবং শুকানো। এই পর্যায়গুলি শেষ হওয়ার পর ধান মিলে পাঠানো হয়।

সব জাতের ধানই কি আধ-সেদ্ধর জন্য উপযুক্ত?

সাধারণত, সমস্ত জাতের ধানকেই সেদ্ধ করা যেতে পারে, তবে মিলিংয়ের সময় যাতে ভেঙে না যায় তার জন্য লম্বা সরু ধান সেদ্ধ না করাই ভাল। এছাড়াও সুগন্ধি ধানগুলিকেও (Aromatic Varieties) সেদ্ধ করা উচিত নয়, কারণ তাতে সুবাস চলে যায়।

ধান সেদ্ধ করলে লাভ কী কী?

বেশ কিছু সুবিধা আছে। ধান সেদ্ধ করলে তা চালকে আরও শক্ত করে তোলে। এটি মিলিংয়ের সময় চাল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কমায়। সেদ্ধ করার ফলে চালের পুষ্টিগুণও বৃদ্ধি পায়। তৃতীয়ত, পোকামাকড় এবং ছত্রাক প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে সেদ্ধ চালের।

আরও পড়ুন - Covid 19 in IPL 2022: রিকি পন্টিং কোয়ারেন্টাইনে, দিল্লি বনাম রাজস্থান ম্যাচে থাকবেন না মাঠে

যদিও আধ-সেদ্ধ চালের কয়েকটি অসুবিধাও রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখার কারণে চাল কালচে বা লালচে হয়ে যায়। বাজে গন্ধ হতে পারে। এছাড়াও সেদ্ধ ধান থেকে চাল বের করার ক্ষেত্রে রাইস মিল স্থাপনের জন্য বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

দেশে সেদ্ধ চালের মজুত কত?

খাদ্য মন্ত্রকের মতে, ২০২০ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ৪০.৫৮ লক্ষ মেট্রিক টন সেদ্ধ করা চাল মজুত রয়েছে। এর মধ্যে, সর্বোচ্চ মজুত রয়েছে তেলঙ্গানায়- ১৬.৫২ লক্ষ মেট্রিক টন, তারপরে তামিলনাড়ু (১২.০৯ লক্ষ মেট্রিক টন) এবং কেরালা (৩ লক্ষ মেট্রিক টন)। অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তিসগঢ়, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক, বিহার, পঞ্জাব এবং হরিয়ানা-সহ ১০টি অন্য রাজ্যে মজুতের পরিমাণ ০.০৪-২.৯২ লক্ষ মেট্রিক টন৷

কেন্দ্র ২০২০-২১ সালের খরিফ মরসুমের জন্য তেলঙ্গানা থেকে ১.৩৬ লক্ষ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করবে। চলতি মরসুমের শুধুমাত্র দু'টি রাজ্য-ঝাড়খণ্ড (৩.৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন) এবং ওড়িশা (২.০৮ লক্ষ মেট্রিক টন) থেকে মোট ৫.৮২ লক্ষ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করবে বলে আশা করছে। তেলঙ্গানা সহ অন্যান্য ১০টি চাল-উৎপাদনকারী রাজ্য থেকে মন্ত্রকের সেদ্ধ চাল সংগ্রহের কোনও পরিকল্পনা নেই। আগামী দিনে, মোট সেদ্ধ চালের মজুত বেড়ে ৪৭.৭৬ লক্ষ মেট্রিক টন হবে।

চাহিদা কত বেশি?

২০১৩ সালের খাদ্য নিরাপত্তা আইনের অধীনে বার্ষিক ২০ লক্ষ মেট্রিক টন চাল বিতরণের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে খাদ্য মন্ত্রক। মন্ত্রকের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেদ্ধ চালের চাহিদা কমেছে। বর্তমানে আধ সিদ্ধ চালের যা মজুত রয়েছে তা আগামী ২ বছরের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট।

তেলঙ্গানা থেকে কতটা চাল সংগ্রহ করা হয়েছে?

তেলঙ্গানা এখনও পর্যন্ত আধ-সেদ্ধ চালের প্রধান সরবরাহকারী। খাদ্য মন্ত্রকের তথ্যে দেখা গিয়েছে যে এফসিআই ২০২০-২১ সালের খরিফ এবং রবি উভয় মরসুমে তেলঙ্গানা থেকে ২৫.৬২ লক্ষ মেট্রিক টন আধ-সেদ্ধ চাল সংগ্রহ করেছে। ২০১৯-২০ সালে এর পরিমাণ আরও বেশি ছিল, ৪৪.৭১ লক্ষ মেট্রিক টন।

Published by:Debalina Datta
First published:

Tags: Central government, Rice

পরবর্তী খবর