Home /News /explained /
Explained: পিঠ-কোমরের মারাত্মক ব্যথা? স্পন্ডিলাইটিস নয় তো? কী ভাবে বুঝবেন, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

Explained: পিঠ-কোমরের মারাত্মক ব্যথা? স্পন্ডিলাইটিস নয় তো? কী ভাবে বুঝবেন, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

Ankylosing spondylitis

Ankylosing spondylitis

Ankylosing spondylitis: অজ্ঞতার কারণেই প্রায় ৬৯ শতাংশ রোগী শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। প্রাথমিক ভাবে এই রোগ নির্ণয় করতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়।

  • Share this:

সম্প্রতি পেরিয়ে গেল ওয়ার্ল্ড অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস ডে (World Ankylosing Spondylitis Day 2022)। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই মে মাসের প্রথম শনিবারটি পালন করা হচ্ছে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা প্রসারের লক্ষ্যে। কিন্তু এখনও তেমন ভাবে রোগটি সম্পর্কে জানেন না উপমহাদেশের মানুষ।

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস কী? অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (AS) হল এক ধরনের প্রদাহজনক আর্থ্রাইটিস (Arthritis) যা প্রধানত মেরুদণ্ড এবং স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টকে (Sacroiliac Joints) প্রভাবিত করে। মেরুদণ্ড যেখানে শ্রোণির (Pelvis) সঙ্গে যুক্ত হয়, তাকে স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট বলে। ফলে পিঠের নিচে, নিতম্ব এবং শ্রোণীতে ব্যথাই এই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ। এ থেকে চোখের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের দাবি, ভারতে বর্তমানে প্রায় ১.৬৫ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুসারে বছরে প্রায় ২.৯৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অজ্ঞতার কারণেই প্রায় ৬৯ শতাংশ রোগী শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। প্রাথমিক ভাবে এই রোগ নির্ণয় করতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়।

আরও পড়ুন Explained: কোভিড নিয়ে নয়া কার্যকলাপ চিনের, কী কারণ?

কেন এই রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ? ঠিক কেন এই রোগে মানুষ আক্রান্ত হয় তা আজও তেমন স্পষ্ট করে জানা যায়নি। গবেষকরা মনে করেন এর পিছনে যেমন জিনের হাত রয়েছে। তেমনই মানুষের জীবনচর্যাও বেশ খানিকটা প্রভাবিত করে।

রোগ প্রতিরোধে কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক? কলকাতার অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশ্যালিটি হাসপাতালের (Apollo Multispeciality Hospitals, Kolkata) রিউমাটিলোজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Dr. Syamasis Bandyopadhyay) বলেন, ‘অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস এমন একটি অবস্থা যেখানে মেরুদণ্ডের হাড়গুলি একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এ জন্য পিঠে ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু এটিকে সাধারণ পিঠে ব্যথা বলে ভুল করলে রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়ে যায়। রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। এক সময় দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা তৈরি হয়।’ তাই সময়মত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে জীবনচর্যা ও খাদ্যাভ্যাস ছোটখাট পরিবর্তন ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের সঙ্গে শারীরিক প্রদাহের সম্পর্ক কী? অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস একধরণের প্রদাহ সৃষ্টিকারী রোগ (Inflammatory Disease)। মেরুদণ্ডের হাড়ের জোড়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ফলে AS হতে পারে। দীর্ঘদিন চলাফেরার অভ্যাস না থাকলে বা তেমন ভাবে শরীরচর্চা না হলে ব্যথা হয়। ধীরে ধীরে তাই মেরুদণ্ডের জয়েন্টগুলিতে রোগের বৃদ্ধি করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর একসঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা কত দূর? কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জয়েন্টে প্রদাহ, হাড়ের ক্ষয়, বা হাড় ঘন হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। আবার অনেকের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের হাড়ের চাকতিগুলি লিগামেন্টের ক্যালসিফিকেশনের জন্য একত্রিত হয়ে যেতে পারে। পরবর্তী কালে রোগীর ‘Bamboo Spine’ দেখা দিতে পারে। আর তার ফলে রোগী চলচ্ছক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন।

আরও পড়ুনExplained: গরমে পেটের গণ্ডগোল, কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেকে?

অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের চিকিৎসা কীভাবে হয়? যে কোনও রকম ব্যথাকেই অবহেলা করা ঠিক নয়। সময় থাকতে থাকতে একজন রিউমাটোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করে চিকিৎসা শুরু করা দরকার। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো জীবনচর্যার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসের বদল এবং ওষুধ প্রয়োগে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই রোগ ফেলে রাখলে পরবর্তী কালে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অল্প বয়স থেকেই কি এই রোগের প্রকোপ দেখা দেয়? সাধারণ আর্থ্রাইটিস মধ্য বয়সে শুরু হয়। কিন্তু ইনফ্লেমেটরি আর্থারাইটিস (Inflammatory Arthritis) বেশ অল্প বয়সেই আক্রমণ করতে পারে। সমীক্ষা বলছে AS রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশই জানিয়েছেন ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই তাঁরা প্রথম উপসর্গ লক্ষ করেছিলেন। মাত্র ৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগের প্রথম প্রকাশ দেখা গিয়েছে ৪৫ বছর বা তার পরবর্তী কালে। পিঠে মাত্রাতিরিক্ত ভার বহন, বসার ভঙ্গির গোলমাল, ভুল জীবনচর্যা, মানসিক চাপ প্রভৃতি কারণে এ রোগ বাসা বাঁধে অল্প বয়সীদের মধ্যে।

নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে কি সমস্যা একই রকম হয়? পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত মেরুদণ্ড এবং শ্রোণিতে রোগের মারাত্মক প্রভাব পড়ে। কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় হাত পা এবং ঘাড়ে ব্যথা হয়। রক্তে প্রদাহের উপরও মহিলা-পুরুষের রোগের প্রভাব নির্ভর করে। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, AS আক্রান্ত পুরুষের রক্তে উচ্চমাত্রায় প্রদাহ পাওয়া গিয়েছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না।

রোগের পিছনে জিনের ভূমিকাই কি আদতে কাজ করে? একটি নির্দিষ্ট জিন HLA-B27 এই রোগের পিছনে রয়েছে বলে মনে করেন গবেষকরা। তবে HLA-B27 জিন যে সব সময় রোগের সৃষ্টি করবে তা নয়। এই জিনের বাহকেদর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ মানুষের এই রোগ হয় বলে দাবি। আবার স্পন্ডিলাইটিস অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকার (Spondylitis Association of America) দাবি, সমস্ত AS রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিই যে HLA-B27–এর বাহক, তাও নয়।

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Ankylosing Spondylitis, Healthy Lifestyle, Spondylitis

পরবর্তী খবর