corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘‌ছবি তোলার রাজনীতির মধ্যে আমি নেই’, বললেন কর্তব্য পালনে মগ্ন দেব

‘‌ছবি তোলার রাজনীতির মধ্যে আমি নেই’, বললেন কর্তব্য পালনে মগ্ন দেব

বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে ৩৫ জন শ্রমিককে ঘাটালে ফেরানো হয়। সমস্ত ব্যবস্থা করেন সাংসদ দীপক অধিকারী। অভিনেতা দেব, লাইমলাইট তাঁকে অনুসরণ করে। তবে সাংসদ হয়ে তিনি যখন কর্তব্য পালন করেন, তখন আলোর ঝলকানির থেকে দূরেই থাকতে চান। NEWS18 বাংলার সঙ্গে কথা বলার সময় ধরা পড়ল দেবের এই মানসিকতা।

  • Share this:

প্রঃ আপনি ঘাটালের জন্য প্রচুর কাজ করছেন, ভিনদেশ থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাচ্ছেন‌। আগে থেকে সে বিষয় কিছু বলেননি তো?

আমি খবরে থাকতে চাই না। ছবি তোলার জন্য কিছু করি না। কিছু করব সেটা আগে থেকে প্রচার করে বেড়াই না।

প্রঃ কী ভাবে নেপালে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা জানতে পারলেন?

ঘাটাল আমার সংসদীয় এলাকা। রোজই যোগাযোগ হয় ওখানকার আধিকারীকদের সঙ্গে। গতবার ঘাটালে যখন মিটিং করতে গিয়েছিলাম, তখনই নেপালে আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কথা হয়েছিল। প্রথম ঘাটালের সাংসদ দফতরে নেপাল থেকে ফোন আসে। ৩৫ জন আটকে রয়েছেন খবর পাই। তখন বুঝতে পারিনি, ওঁদের ফেরানো এতোটা কঠিন হবে।

প্রঃ তারপর কী করলেন?

জেলাশাসককে ফোন করলাম। তিনিও বললেন, যে তাঁর কাছে খবর এসেছে। এখন নেপাল সরকার ওঁদের রাখতে চাইছে না। ওঁরা ফিরতেও পারছেন না। খাবার নেই, থাকার জায়গা নেই, খুব খারাপ অবস্থা। এঁদের মধ্যে শিশু আছে, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও রয়েছেন। কীভাবে ওঁরা রয়েছেন, দেখলে চোখে জল চলে আসবে। আসলে ঘাটালের প্রচুর স্বর্ণশিল্পী ভিন রাজ্যে কাজ করে, নেপালেও তার সংখ্যা কম নয়। ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিক আনা খুব কঠিন নয়। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে আসা এই পরিস্থিতিতে খুব মুশকিল। এঁদের সকলের কাছে আইনসম্মত কাগজপত্র নেই। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে ওঁদের আনতে গেলে কেন্দ্রর কাছ থেকে অনুমতি নিতেই হবে।

প্রঃ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিলেন?

বুঝতে পেরেছিলাম যতদিন ওভাবে সীমান্তের কাছে পড়ে থাকবেন ওঁরা, তত সমস্যা বাড়বে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তারপর প্রচুর আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার পর বিষয়টা প্রায়োরিটি লিস্টে আসে। এই পরিস্থিতিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো কতটা প্রয়োজন সেটা সকলেই বুঝতে পারছেন। খুব তৎপরতার সঙ্গে কাজটা হয়ে গিয়েছে।

প্রঃ ব্যাপারটা শুরু আপনি করেছেন ?

কলকাতা থেকে ব্যাপারটা দিল্লি পৌঁছনোর জন্য, আমি তাগিদ দেখিয়েছি। প্রত্যেকটা দফতর খুব ভাল কাজ করেছে। তা ছাড়াও আমি ঘাটালের সাংসদ। এখানকার উন্নয়নের জন্য সাধারণ মানুষ আমাকে বেছে নিয়েছেন, এইটুকু কাজ আমাকে করতেই হবে।

প্রঃ আরও পরিযায়ী শ্রমিকরা যোগাযোগ করেছেন?

বিশ্বাস করবেন না এই ৩৫ জন ফেরার পর, ৭০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক আমাদের সঙ্গে যোগযোগ করেছেন। এক একটা ব্যাচে তাঁদেরকে নিয়ে আসব। শনিবার নেপাল থেকে ৭০ জন ফিরবেন। তারপর আরও ১০০ জন আসবেন।

প্রঃ ঘাটালে ফেরার পর এঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা খুব প্রয়োজন, সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা করা হয়েছে?

সকলকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে করোনা টেস্ট করা হয়েছে। ১৪ দিনের জন্য তাঁরা নিজেদের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এখনও কারও রিপোর্টে করোনা ধরা পড়েনি। আগামী দিনে যদি পড়ে, তাহলে তাঁকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে।

প্রঃ এত পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন। ঘাটালের মতো জায়গায় তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা, এটা বোধহয় খুব সমস্যার?

এটা সবচেয়ে বড় সমস্যার। শুধু ঘাটালেই ৩-৪ লক্ষ্য পরিযায়ী শ্রমিক এসেছেন এখনও পর্যন্ত। গোটা রাজ্যের কথা ভাবুন তো। তাও বলব শহরের চেয়ে গ্রামের মানুষ অনেক বেশি সতর্ক। গ্রামবাসীরাই বাইরের লোককে ঢুকতে দিচ্ছেন না। যাঁরা ফিরছেন তাঁদের চোখে চোখে রাখছেন। এই ব্যাপারে গ্রাম বাংলা কলকাতাকে হারিয়ে দিয়েছে।

প্রঃ আপনি কী ঘাটালেই এখন?

না আমি কলকাতা থেকে পুরো কাজটা তদারকি করছি। এই তো, জম্মু থেকে ঘাটালগামী পরিযায়ী শ্রমিক বোঝাই একটা বাস আটকে গিয়েছিল। সেটাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করলাম। নেপাল থেকে বাকিদের নিয়ে আসার বিষয়ে এইমাত্র অনুমতি পেলাম। শুধু বাস পাঠানো তো নয়, তাঁদের খাবার, ফেরার পরের ব্যবস্থা, সবকিছু দেখতে হচ্ছে। দেখুন, এখন ঘাটাল যাওয়া মানে শুধু ছবি তুলতে যাওয়া। এটা তো কোনও উৎসব নয়, গিয়ে সকলের সঙ্গে দেখা করবো। কলকাতায় থেকে অফিশিয়াল কাজ করা অনেক সহজ। চাইলে চট করে নবান্ন যেতে পারবো। ছবি তোলার রাজনীতির মধ্যে আমি নেই।

প্রঃ শ্যুটিং ক’দিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে। অভিনেতা, প্রযোজক দেব কবে থেকে কাজ শুরু করবে?

শ্যুটিং শুরু করা নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। ‘গোলন্দাজ’-এর ক্লাইম্যাক্স বাকি, ফুটবল নিয়ে ছবি, মাঠের উত্তেজনা বোঝাতে কত লোক লাগবে, সেটা অনুমান করতে পারছেন। সেভাবে কবে শ্যুট করতে পারবো জানি না। আমার প্রযোজিত ছবিগুলোও খুব বড় ওজনের হয়। তাই কবে কাজ শুরু করবো ঠিক করিনি। অর্থের জন্য সিরিয়াল, সিনেমার শ্যুটিং চালু করা প্রয়োজন ছিল। তবে নিয়ম মেনে, সতর্ক হয়েই কাজ করতে হবে।

Arunima Dey

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: June 6, 2020, 3:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर