• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • TOLLYWOOD MOVIES AN EXCLUSIVE INTERVIEW OF TELEVISION ACTOR SUSMITA ROY CHAKRABORTY SR

শিয়ালদহের ফুটপাতে একা ১৫ দিন কাটিয়েছি, আমার কাছে জীবনটাই যেন সিরিয়াল: সুস্মিতা

‘‘চিকিৎসকের একটা ‘ছোট্ট’ ভুলে আমি মৃত সন্তান প্রসব করি । মায়ের শরীরের সমস্ত কষ্ট সহ্য করেও, আমার কোল ছিল শূন্য ’’, একান্তে সাক্ষাৎকারে মন খুললেন সুস্মিতা রায় চক্রবর্তী ((Susmita Roy Chakraborty) ।

‘‘চিকিৎসকের একটা ‘ছোট্ট’ ভুলে আমি মৃত সন্তান প্রসব করি । মায়ের শরীরের সমস্ত কষ্ট সহ্য করেও, আমার কোল ছিল শূন্য ’’, একান্তে সাক্ষাৎকারে মন খুললেন সুস্মিতা রায় চক্রবর্তী ((Susmita Roy Chakraborty) ।

  • Share this:

বাস্তবটা বড্ড কঠিন । পর্দার সামনে যিনি জাঁদরেল খলনায়িকা, ক্যামেরা সরলে কখনও তিনি লড়াকু এক নারী, অসহায় এক মা, দমে না যাওয়া এক অভিনেত্রী । পর্দায় কখনও ‘কৃষ্ণকলি’র পার্বতী, কখনও ‘অপরাজিতা অপু’র দিৎসা, আবার বাড়িতে সকলের আদরের ‘টুবলু’ । তিনি সুস্মিতা রায় চক্রবর্তী (Susmita Roy Chakraborty) । পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও হয়েও জেদ ছিল, কলকাতার বুকে নিজের রোজগারে বাড়ি-গাড়ি সব কিনবেন । আজ সেই ফ্ল্যাটে বসেই আড্ডা দিলেন News18 বাংলার প্রতিনিধি সিমলি রাহার সঙ্গে ।

প্রশ্ন: তোমার শুরুটা কী করে হল?

উ: ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করতাম আমি । কখনও স্কুলের নাটকে, কখনও পাড়ার ফাংশনে । গোসাবা, সুন্দরবনের মেয়ে আমি । ‘বড় হয়ে কী হতে চাই’ প্রশ্ন এলেই লিখতাম অভিনেত্রী । কিন্তু বাড়িতে সবার প্রবল আপত্তি ছিল । বাবা-মা সরকারি চাকুরিজীবী । ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে আসার ব্যাপারে তাঁরা কখনও সম্মতি দেননি । শেষ পর্যন্ত আমি পালিয়ে কলকাতায় চলে আসি । তখন কলেজে পড়ি ।

প্রশ্ন: গডফাদার বলতে কেউ নেই, একা একটা মেয়ে.... লড়াইটা নিশ্চয়ই খুব কঠিন ছিল?

উ: সেটা আর কী বলব? প্রত্যেকদিন একটু খাবার, মাথার উপরের ছাদের জন্যও লড়েছি আমি । শিয়ালদহের ফুটপাতে ত্রিপলের নীচে ১৫ দিন কেটেছে আমার । ওঁরা যে চাল-সব্জি-ডাল-নুন-মশলা-হলুদে ফোটানো খাবার খায়, সেটাই খেয়ে থাকতাম । সোনারপুর থেকে সল্টলেক হেঁটে অডিশনও দিতে গিয়েছি । কারণ টাকা ছিল না । বাড়িতে জানতে পেরে আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেছিল । কিন্তু একটাই জেদ ছিল । এই শহরে, এই পেশাকেই অবলম্বন করে নিজের টাকায় বাড়ি কিনব, গাড়ি কিনব । আজ সেই ফ্ল্যাটে বসেই আমি কথা বলছি (হাসি) । আর আজ আমার মা-বাবাই তাঁদের মেয়েকে নিয়ে প্রচণ্ড গর্বিত।

প্রশ্ন: কিন্তু বারবার নেগেটিভ চরিত্রই কেন?

উ: না, আমি অনেক পজিটিভ চরিত্রও করেছি । কিন্তু কোথাও একটা গিয়ে নেগেটিভ গুলোই বেশি ক্লিক করে গিয়েছে । আর এখন তো আমি এটা বেশ এনজয় করি । লোকে গালাগালি দেয়, সেটার মানে হল আমি আমার চরিত্রগুলোর সঙ্গে জাস্টিস করি ।

প্রশ্ন: তোমার লাইফে তো মারাত্মক লড়াইয়ের সময় গিয়েছে একটা সময়... কী করে সেটা ওভারকাম করলে?

উ: জানো তো, আমার লাইফটাও একটা সিরিয়ালের মতো । প্রত্যেক ছত্রে চমক । আমি প্রেগন্যান্ট হলাম যখন, তখন আমি ‘কৃষ্ণকলি’তে পার্বতীর চরিত্র করছি । সিরিয়ালের সেটেও সে সময় দেখানো হয় আমি অন্তঃসত্ত্বা । ডেলিভারির ১ সপ্তাহ আগে পর্যন্ত আমি শ্যুট করি । কোনও প্রবলেম ছিল না । বেবি একদম সুস্থ । কিন্তু চিকিৎসকের একটা ‘ছোট্ট’ ভুলে আমি মৃত সন্তান প্রসব করি । মায়ের শরীরের সমস্ত কষ্ট সহ্য করেও, আমার কোল ছিল শূন্য । টানা ২ মাস শুয়ে ছিলাম আমি.... হাঁটতেই ভুলে গিয়েছিলাম । ভাল করে কাঁদতেও পারতাম না সে সময় ।

প্রশ্ন: এই কঠিন সময় কাটিয়ে, সেটে ফিরে কী করে বাচ্চা নিয়ে একজন মায়ের চরিত্রে অভিনয় করলে?

উ: আমার পরিচালক, প্রযোজককে বারবার অনুরোধ করে আমি খানিকটা জোর করেই সেটে ফিরেছিলাম । সবাই দো’টানায় ভুগছিল । সেটে পার্বতীকে এ বার কী ভাবে দেখানো হবে ? আমি বলেছিলাম, ‘দুর্ঘটনা যা ঘটেছে সুস্মিতার সঙ্গে । পার্বতীর সঙ্গে কেন অন্যরকম কিছু হবে?’ আবার আমি সেটে আসি । পেটে কাপড় বেঁধে শ্যুট শুরু হয় । হাসপাতালে ভর্তি হই । বাচ্চা হয় আমার । রিয়েল লাইফে যা যা হতে পারত আমার সঙ্গে, সবটাই রিল লাইফে হল ।

প্রশ্ন: তোমার জীবনে এতটা কঠিন সময় গিয়েছে, শ্বশুরবাড়িতে তার কোনও প্রভাব পড়েনি?

উ: দেখো, আমার শ্বশুরবাড়িতে আমি বড় বৌমা নই, বড় ছেলের মতো । আমার বর সব্যসাচী চক্রবর্তী, নিউজ অ্যাঙ্কর । দেওর, সায়ক চক্রবর্তীও টেলিজগতেই আছে । ওঁরা সবাই খুব ভাল । সংসারের খুঁটিনাটি, বাজার থেকে দোকান, ঘর গোছানো, রান্না সবই আমি পারি । এমনিতে খুব ঘরোয়া আমি । পার্টির চেয়ে ঘরের মানুষদের সঙ্গে থাকতে আমি বেশি স্বচ্ছন্দ্য । তাই বাড়ির মানুষরা আমার সমস্ত ক্রাইসিসে পাশে ছিলেন । ওঁনারা খুবই সাপোর্টিভ । বাবা-মা’ও আমাকে এখন সব সময় আগলে রাখেন ।

প্রশ্ন: ‘অপরাজিতা অপু’র পর দর্শকদের কাছ থেকে কেমন রেসপন্স পাচ্ছ?

উ: এই তো সিরিয়ালে আমাদের অন্নপূর্ণা পুজো সবে দেখানো হল । সেখানে দিৎসা পুজোর সমস্ত পায়েস নষ্ট করে দেয় । এ বার দিন কয়েক আগে আমার জন্মদিন ছিল । সেখানে আমার পায়েসের বাটির ছবি দেখে লোকে বলছে, ‘তোমার পায়েসটাও নষ্ট করে দেওয়া উচিত’ । বুঝতেই পারছো, রোজ কী কী আমাদের শুনতে হয় । তবে আমার রাগ হয় না । এ সব নিয়ে আমরা বাড়িতে হাসাহাসি করি ।

Published by:Simli Raha
First published: