• Home
  • »
  • News
  • »
  • entertainment
  • »
  • Yearender 2020: পৃথিবীকে চিরতরে বিদায় জানালেন এই চিত্রতারকা ও শিল্পীরা

Yearender 2020: পৃথিবীকে চিরতরে বিদায় জানালেন এই চিত্রতারকা ও শিল্পীরা

দেখে নেওয়া যাক এই বছরে কোন কোন তারকা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন !

দেখে নেওয়া যাক এই বছরে কোন কোন তারকা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন !

দেখে নেওয়া যাক এই বছরে কোন কোন তারকা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন !

  • Share this:

২০২০ প্রায় শেষ হতে চলল। এই বছরে অনেক তারকা, মহাতারকা ও শিল্পী চলে গেলেন চিরনিদ্রার দেশে। এঁদের মধ্যে অনেকেই করোনা (Coronavirus) আক্রান্ত হয়েছিলেন। কেউ ভুগছিলেন মারণ রোগে। আবার কেউ আচমকাই না বলে বিদায় নিয়েছেন। মৃত্যু যেমনই হোক, যে ভাবেই হোক সেটা খুব বেদনার। দেখে নেওয়া যাক এই বছরে কোন কোন তারকা আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন!

দিব্যা ভটনাগর (Divya Bhatnagar)

দিব্যা ভটনাগর বিখ্যাত হয়েছিলেন ইয়ে রিস্তা কেয়া কহলাতা হ্যায় ধারাবাহিকের মাধ্যমে। কোভিড ১৯ (Covid 19) সংক্রান্ত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে মৃত্যু হয় দিব্যার। মুম্বইয়ের হাসপাতালে ভেনটিলেশন সাপোর্টে ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে দিব্যার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর।

রবি পটবর্ধন (Ravi Patwardhan)

নিজের বলিষ্ঠ অভিনয় ও গভীর কণ্ঠস্বরের জন্য পরিচিত ছিলেন মরাঠি ও হিন্দি ছবির অভিনেতা রবি পটবর্ধন। হার্ট অ্যাটাকে গত ৬ই ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি ২০০-র বেশি ছায়াছবি ও ১৫০-র ও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Somitra Chattopadhyay)

পঁচাশি বছর বয়সে গত ১৫ নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতার এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কিংবদন্তী অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। করোনার সংক্রমণ ধরা পরার পর বেল ভিউ নার্সিং হোমে টানা ৪০ দিন ভর্তি থাকার পর ১২.১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৫ই অক্টোবর তাঁকে করোনামুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। তবে ভাইরাস সংক্রমণ ছাড়াও ওঁর অন্যান্য অনেক শারীরিক সমস্যা ছিল। মূলত বাংলা ছবিতে অভিনয় করলেও হিন্দুস্থানি সিপাহি আর নিরুপমা বলে হিন্দি ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন।

আসিফ বসরা (Asif Basra)

নভেম্বরের বারো তারিখে হিমাচল প্রদেশের ধরমশালায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় অভিনেতা আসিফ বসরাকে। পুলিশ আসিফের বাড়িতে গিয়ে দেখেন যে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। কেন তিনি এই চরম পথ বেছে নিলেন সেটা স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে। হিমাচল প্রদেশের পুলিশ এই নিয়ে তদন্ত করছে।

এস পি বালাসুব্রাহ্মণ্যম (S P Balasubrahmanyam)

কিংবদন্তী গায়ক এস পি বালসুব্রহ্মণ্যম (S P Balasubrahmanyam) ২৫ সেপ্টেম্বর চেন্নাইতে চুয়াত্তর বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ছয়বারের জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই গায়ক ৫ অগস্ট থেকে অসুস্থ ছিলেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। বালাসুব্রাহ্মণ্যমকে স্নেহের সঙ্গে এঝ বলা হয়, তিনি ১৬টি ভারতীয় ভাষায় গাইতে পারতেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ৪০,০০০-এরও বেশি গান তিনি রেকর্ড করেছেন। ভাষা তাঁর কাছে কোনও বাধা ছিল না। এক সময়ে অভিনেতা সলমন খানের (Salman Khan) অন-স্ক্রিন কণ্ঠে পরিণত হয়েছিল তিনি।

নিশিকান্ত কামাত (Nishikant Kamat)

লিভার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে সতেরোই অগস্ট হায়দরাবাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন অভিনেতা পরিচালক নিশিকান্ত কামাত। লিভারের ক্রনিক রোগ ধরা পড়ার পর থেকেই পঞ্চাশ বছরের এই অভিনেতা পরিচালকের চিকিৎসা চলছিল। ৩১ জুলাই গাচিবাউলির এআইজি হাসপাতালে জন্ডিস আর পেট ফুলে যাওয়ার জন্য ভর্তি হন। টাবু ও অজয় দেবগন অভিনীত দৃশ্যম এবং ইরফান খান অভিনীত মাদারি ছবি পরিচালনা করে সবার নজরে আসেন নিশিকান্ত। ২৬/১১ র অ্যাটাক নিয়ে তাঁর মুম্বই মেরি জান ছবিটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।

কুমকুম (Kumkum)

২৮ জুলাই মুম্বইয়ে নিজের বাসভবনে মারা গেলেন বিগত কালের অভিনেত্রী কুমকুম। বয়স হয়েছিল ৮৬। কুমকুমের আসল নাম ছিল জেবুন্নেসা। ১৯৫৪ সালে আর পার ছবির জন্য একজন ভালো নৃত্যশিল্পী খুঁজছিলেন পরিচালক গুরু দত্ত। অবশেষে কুমকুমই ওই গানের সঙ্গে নাচ করেন যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৫৭ সালে গুরু দত্তের ক্লাসিক পেয়াসাতেও অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়াও তাঁকে দেখা গিয়েছিল মিস্টার এক্স ইন বম্বে, মাদার ইন্ডিয়া, সন অব ইন্ডিয়া, কোহিনূর, উজালা, নয়া দৌড়, শ্রীমান ফানটুস, ললকার, সিআইডি ও গীত ছবিতে।

রজত মুখোপাধ্যায় (Rajat Mukherjee)

মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত রোড এবং রোমান্টিক থ্রিলার পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া-র পরিচালক রজত মুখোপাধ্যায় ১৯ জুন কিডনির অসুখে প্রয়াত হলেন। মাত্র পঞ্চাশের কোটায় তাঁর বয়স ছিল। তাঁর মৃত্যুর খবর অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী সোশ্যাল মিডিয়া মারফত শেয়ার করেন।

জগদীপ (Jagdeep)

জুলাই মাসের নয় তারিখে সবাইকে রেখে অন্য জগতে চলে গেলেন হাস্যকৌতূক অভিনেতা জগদীপ। তাঁর আসল নাম ছিল সইদ ইশতিয়াক আহমেদ। ৪০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১। ধর্মেন্দ্র ও অমিতাভ বচ্চন অভিনীত শোলে ছবিতে সুরমা ভোপালির ভূমিকায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।

হরিশ শাহ (Harish Shah)

ধর্মেন্দ্র, শত্রুঘ্ন সিনহা ও রাজীব কাপুরের সঙ্গে তিনি করেছিলেন জলজলা (১৯৮৮) এবং তাঁর সর্বশেষ প্রযোজনা টাবু ও সানি দেওল অভিনীত জাল: দ্য ট্র্যাপ। ৭ই জুলাই ৭৬ বছর বয়সে মারা গেলেন পরিচালক হরিশ শাহ। ১০ বছর ধরে গলার ক্যান্সারে লড়াই করছিলেন তিনি। রাজেশ খান্না অভিনীত মেরে জীবন সাথী (১৯৭২) দিয়ে নিজের বলিউড যাত্রা শুরু করেছিলেন হরিশ। কালা সোনা (১৯৭৫), ঋষি কাপুর এবং নীতু সিংহের ধন দৌলত (১৯৮০) পরিচালনা করেছিলেন তিনিই।

সরোজ খান (Saroj Khan)

তিনবারের জাতীয় পুরষ্কার বিজয়ী, বলিউডের বর্ষীয়ান কোরিওগ্রাফার সরোজ খান ৩ জুলাই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে প্রয়াত হলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই মাস্টারজি নামে ডাকতেন। ১৭ জুন তাঁকে মুম্বইয়ের গুরু নানক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সরোজের কিডনির অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ এবং তাঁর নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছিল। মিঃ ইন্ডিয়া (১৯৮৭) ছবির হাওয়া হাওয়াই গানটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। চাঁদনি ও নাগিনার মতো অন্যান্য ছবিতে শ্রীদেবী (Sridevi) ও তাঁর জুটির কাজ ছিল দেখার মতো। তবে মাধুরী দীক্ষিতের (Madhuri Dixit) সঙ্গে তাঁর অনবদ্য জুটি উভয় শিল্পীর কেরিয়ারেই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে।

সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput)

সুশান্ত সিং রাজপুতের অনুরাগী এবং ভক্তদের পক্ষে এখনও তাঁর অকালমৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। ১৪ জুন, অভিনেতাকে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তাঁর বান্দ্রার অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বলিউডে আসার আগে টেলিভিশন শো পবিত্র রিস্তাতে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০১৩ সালে কাই পো চে ছবি দিয়ে বড়পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি, শুদ্ধ দেশি রোম্যান্স এবং ছিচোরে প্রমুখ ছবির জন্য তিনি প্রশংসা অর্জন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বলিউডে নেপোটিজম ও পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েকজন সেলিব্রিটি এবং রাজনীতিবিদ তাঁর মৃত্যুর সিবিআই তদন্তের দাবী করে। এখনও সেই কেস বিচারাধীন রয়েছে।

বাসু চট্টোপাধ্যায় (Basu Chatterjee)

কিংবদন্তী পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে ৪ জুন মুম্বইয়ে ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছোটি সি বাত (১৯৭৫), চিতচোর (১৯৭৬), রজনীগন্ধা (১৯৭৪), পিয়া কা ঘর (১৯৭২), খট্টা মিঠা, চক্রব্যূহ (১৯৭৮), বাতো বাতো মে (১৯৭৯)-এর মতো চলচ্চিত্রগুলির জন্য সব চেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। একজন সফল পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন সংলাপ লেখক, চিত্রনাট্য লেখক এবং প্রযোজক হিসাবেও পরিচিত ছিলেন।

ওয়াজিদ খান (Wajid Khan)

সুরকার সাজিদ-ওয়াজিদ-জুটির ওয়াজিদ খান ৪২ বছর বয়সে ১ জুন চিরবিদায় জানালেন সবাইকে। সলমন খানের ১৯৯৮ সালের ছবি পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া দিয়ে বলিউডে পা রেখেছিলেন সাজিদ-ওয়াজিদ। গর্ব, তেরে নাম, তুমকো না ভুল পায়েঙ্গে, পার্টনার এবং আরও অনেকগুলি ছবিতে এই জুটি সলমানের বিভিন্ন ছবির চার্টবাস্টার গানগুলিতে সুর দিয়েছিলেন।

ঋষি কাপুর (Rishi Kapoor)

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ঋষি কাপুর ৩০ এপ্রিল ৬৭ বছর বয়সে মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ঋষি। প্রায় এক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে ভারতে ফিরে এসেছিলেন তিনি। ২০২০ র ফেব্রুয়ারিতে ঋষি কাপুর তাঁর শারীরিক সমস্যার কারণে দু'বার হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন। কাপুর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের অভিনেতা ঋষি কাপুর ছিলেন অভিনেতা রাজ কাপুরের দ্বিতীয় পুত্র এবং পৃথ্বীরাজ কাপুরের নাতি। তিনি শিশুশিল্পী হিসাবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন মেরা নাম জোকার (১৯৭০) ছবিতে। এই ছবির জন্য জাতীয় পুরষ্কারও পেয়েছিলেন তিনি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নায়ক হিসাবে, তাঁর প্রথম ছবি ছিল সালে ববি (১৯৭৩)। তিনি পরবর্তী চার দশকে ৯০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। তাঁকে শেষবারের মতো তাঁর প্রিয় বন্ধু অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ১০২ নট আউটে দেখা গিয়েছিল।

ইরফান খান (Irrfan Khan)

কিংবদন্তী অভিনেতা ইরফান খান (Irrfan Khan) ২৯ এপ্রিল মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনেতা দীর্ঘ দিন অসুস্থ ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে কোলন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার পরে তাকে কোকিলাবেন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে তাঁর নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমার ধরা পড়ে। মৃত্যুর মাত্র তিন দিন আগে জয়পুরে তাঁর মাকে হারান ইরফান। তিনি তাঁর অসাধারণ অভিনয় দক্ষতার জন্য পরিচিত ছিলেন এবং হলিউডে ভারতের মুখ হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। লাইফ অফ পাই, দ্য লাঞ্চবক্স, পিকু, পান সিং তোমার, দ্য নেমসেক এবং মকবুলের মতো ছবিতে স্মরণীয় পারফরম্যান্সে তিনি দর্শকদের মন ভরিয়ে দেন।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: