মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে বাতিল পাঁচ জনের পরীক্ষা! সাসপেন্ড বেশ ক'জন শিক্ষক! কী ঘটেছিল?
- Reported by:SOMRAJ BANDOPADHYAY
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে কড়া বার্তা পর্ষদের, মোবাইল কাণ্ড ও হামলার অভিযোগে এক স্কুলে ৮ জন সাসপেন্ড, বাতিল ৫ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা!
মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন নজিরবিহীন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। একদিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সরকারি আধিকারিকের উপর হামলার অভিযোগ, অন্যদিকে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন সংক্রান্ত অনিয়ম—সব মিলিয়ে মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিন কার্যত কড়া নজরদারি ও কড়া শাস্তির দিন হয়ে উঠল।
পূর্ব বর্ধমানের আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক-সহ ছ’জন শিক্ষককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। একই সঙ্গে সাসপেন্ড করা হয়েছে স্কুলের এক গ্রুপ ডি কর্মীকেও। মোট আটজনকে সাসপেন্ড করা হল একটি মাত্র স্কুল থেকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ।
advertisement
advertisement
পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন ওই স্কুলে কর্তব্যরত এক অফিসার ইনচার্জ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, স্কুলের এক গ্রুপ ডি কর্মী মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেন। পরীক্ষা শেষের কিছু মুহূর্ত আগে তাঁর মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। তা লক্ষ্য করে অফিসার ইনচার্জ তাঁকে বাধা দিলে বচসা শুরু হয় এবং সেই বচসা মারধরের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অভিযোগ, মারধরে জড়িত ছিলেন প্রধান শিক্ষক-সহ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। বর্তমানে ওই অফিসার ইনচার্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
advertisement
পর্ষদ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও একটি নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ১১ মিনিটের ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভেন্যু সুপারভাইজারের সামনেই গোটা ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে পর্ষদ। তদন্তের জন্য আগামীকাল কলকাতা থেকে একটি বিশেষ টিম পাঠানো হচ্ছে ওই স্কুলে।
এদিকে, মাধ্যমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ছিল ইংরাজি পরীক্ষা। এই দিনেই মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগে পাঁচ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পশ্চিম বর্ধমানের বিধান নগর গভমেন্ট সব হাইস্কুল, উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ ডিএনএ হাই স্কুল, বীরভূমের কাইজলি হেমচন্দ্র হাই স্কুল, মুর্শিদাবাদের গোবরডাঙ্গা হাই স্কুল এবং উত্তর কলকাতার দেশবন্ধু বিদ্যালয়ের এক একজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। যদিও কারোর ফোনেই প্রশ্নপত্র বা উত্তরপত্রের ছবি পাওয়া যায়নি, তবু নিয়ম ভঙ্গের কারণে এই পাঁচজনের সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার একটি স্কুলে অবশ্য দু’জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা শুরুর আগেই স্বেচ্ছায় মোবাইল ফোন জমা দেন।
advertisement
পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী, সেন্টার সেক্রেটারি, অফিসার ইনচার্জ এবং ভেন্যু সুপারভাইজার ছাড়া আর কারও মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি নেই। সেই নির্দেশ ভঙ্গের ঘটনাকেই কেন্দ্র করে আঝাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই বড়সড় অশান্তি তৈরি হয়।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গাঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পর্ষদ ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছে। সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই আটজনকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার পর্ষদের আধিকারিকরা ওই স্কুলে যাবেন, জেলা শিক্ষা আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলবেন এবং শুক্রবার থেকে বাকি পরীক্ষাগুলি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
advertisement
এদিন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনেও কড়া অবস্থান নেয় পর্ষদ। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুল পরিদর্শনের সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে একটি জেরক্সের দোকান খোলা দেখতে পান পর্ষদ সভাপতি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সহায়তায় দোকানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে মাধ্যমিকের দ্বিতীয় দিনে স্পষ্ট বার্তা দিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ—পরীক্ষার শৃঙ্খলা নিয়ে কোনওরকম আপস নয়।
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Feb 03, 2026 7:59 PM IST











