Home /News /education-career /
US Study: স্নাতক, স্নাতকোত্তর না ডক্টরেট, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কোন বিকল্পটি উপযুক্ত?

US Study: স্নাতক, স্নাতকোত্তর না ডক্টরেট, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কোন বিকল্পটি উপযুক্ত?

অবশ্যই জানুন

অবশ্যই জানুন

US Study: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এগোতে হবে।

  • Share this:

SPAN Magazine: 

#নয়াদিল্লি: আমেরিকার কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পঠনপাঠন শেষ করার পরে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় পেশা বেছে নিতে পারেন। আর একজন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার কোন পর্যায়ে যাবেন, সেটা তাঁকেই ঠিক করতে হবে। কারণ এ-ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এগোতে হবে।

আবার ব্যাচেলর অফ আর্টস না ব্যাচেলর অফ সায়েন্স, কিংবা মাস্টার অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন না ডক্টর অফ ফাইন আর্টস- কোনটা আমার জন্য আদর্শ, সেটা বেছে নেওয়াটাই মূলত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বিকল্প রয়েছে একাধিক। তাই সঠিক পাঠ্যক্রম বাছাই করে নেওয়ার বিষয়টা প্রাথমিক ভাবে জটিল মনে হলেও তা কিন্তু একেবারেই নয়। আসলে ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতে সঠিক পাঠ্যক্রম বেছে নিতে পারেন, সেই বিষয়ে সাহায্য করতে পারেন অনেকেই। শুধু তা-ই নয়, এক্ষেত্রে বিভিন্ন উৎসের সাহায্য নিয়েও সঠিক পাঠ্যক্রম বাছাই করা সম্ভব।

স্নাতক ডিগ্রি: ভবিষ্যতে কীভাবে কেরিয়ার গড়বে অথবা কেরিয়ার গড়ার জন্য কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবে, সেটা ছেলেবেলা থেকেই ঠিক করে রাখে বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীই। আবার এমন অনেকে পড়ুয়া রয়েছে, যারা ঠিক করতে পারে না, কোন পথে এগিয়ে কেরিয়ার গড়বেন। এই বিষয়ে বার্নার্ড কলেজের নিয়োগ ও নির্বাচন পরিচালক রুবি ভট্টাচার্য (Ruby Bhattacharya) বলেছেন যে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র-ছাত্রীদের কেরিয়ারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না-নিতে পারাটা সেরকম কোনও সমস্যাই নয়। তিনি বলেন, “যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে-গোনা কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর থেকে জানতে চায় যে, তাঁরা কোন বিষয়ে পড়তে চাইছেন। প্রথমে ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এরপর প্রথম এক অথবা দুই বছরের মধ্যে তাঁদের অ্যাকাডেমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। স্নাতক স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিভিন্ন বিকল্পগুলির মধ্যে এটি অন্যতম।”

আরও পড়ুন: আলাদা জঙ্গলমহল রাজ্য! BJP সাংসদ সৌমিত্রের মন্তব্যে তোলপাড়, কেন এই দাবি?

সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিয়োগ ও নির্বাচন পরিচালক প্রণব প্রধান (Pranav Pradhan) বলেছেন, কম্পিউটার, বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসা, অর্থনীতি এবং মনোবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলি বেশির ভাগ ভারতীয় শিক্ষার্থীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি বলেন, “আমি ছাত্র-ছাত্রীদের পরামর্শ দেব, সব সময় একটা খোলা মনোভাব রেখে স্নাতক পর্যায়ে মূল বিষয়টি বেছে নেওয়া উচিত। একটি প্রোগ্রাম নির্বাচন করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিজের দক্ষতা, অ্যাকাডেমিক পছন্দ এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যের মতো বিষয়গুলিও বিবেচনা করা উচিত।”

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি: প্রণব প্রধানের বক্তব্য, “ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের স্নাতকের পাঠ শেষ হয়ে গেলে অনেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গণিতের মতো বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স করতে চান। এক্ষেত্রে আবার কম্পিউটার সায়েন্স এবং ডেটা সায়েন্সের মতো বিষয়ের চাহিদা সবথেকে বেশি। এছাড়াও আন্তঃবিভাগীয় এবং প্রযুক্তি-ব্যবস্থাপনামূলক প্রোগ্রামগুলিও ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।” নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যান্ডন স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অ্যাডমিশন অ্যাম্বাসাডর অভ্যুদয় পাই (Abhyuday Pai) বলেছেন, স্পেশালাইজড স্নাতকোত্তর ডিগ্রিগুলি একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিভাবানও হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞানকে প্রসারিত করার জন্য একটা উপযুক্ত ডিগ্রির প্রয়োজন হয়। তাই আমি সাধারণত স্নাতকের পড়াশোনার পরে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের পরামর্শ দিয়ে থাকি ছাত্র-ছাত্রীদের। এটি জ্ঞানের ভিত্তি প্রসারিত করার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক এবং পছন্দের বিষয়ের অন্যান্য দিক নিয়ে আরও গবেষণা করার সুযোগ প্রদান করে।” স্নাতক স্তরের তুলনায় স্নাতকোত্তর স্তরের বিষয়গুলি শিক্ষার্থীদের আরও বেশি মাত্রায় জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ দেয়। পাই আরও বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, কম্পিউটেশনাল বায়োলজি, রোবোটিক্স এবং মেকাট্রনিক্সের মতো বিষয়গুলির চাহিদা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেড়ে গিয়েছে। হিউম্যানিটিজ, কলা, সাহিত্য এবং ম্যানেজমেন্ট ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রেও (Non-STEM fields) বহু পড়ুয়ার আগ্রহ থাকে। তার মধ্যে অনেক ভারতীয় পড়ুয়া বেছে নিচ্ছেন আর্কিটেক্ট এবং ডিজাইনের মতো বিষয়, এমনটাই বলছেন অ্যারিজোনা স্টেস ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনের নিয়োগ উপদেষ্টা নিকি চোকসী (Niky Chokshi)। তিনি আরও জানান যে, শুধুমাত্র অ্যারিজোনা স্টেটেই সাড়ে চারশোরও বেশি স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য গ্র্যাজুয়েট সার্টিফিকেট কোর্সের সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: এবার হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনের নামে বিশেষ বদল! বিতর্ক থাকলেও সুফল দেখছে রেল

আবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু পড়ুয়ার ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিই পর্যাপ্ত নয়, কেরিয়ারে সাফল্য পেতে ডক্টোরাল ডিগ্রিরও প্রয়োজন হয়। এবার একটা ডক্টরেট ডিগ্রি পেতে গেলে আরও কয়েক বছর পড়াশোনা করতে হয়। এমনকী থিসিস প্রোজেক্টও প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু খেটেখুটে পড়াশোনা এবং থিসিস করার পর যে স্বীকৃতি মেলে, তা তাৎপর্যপূর্ণই বটে। আসলে ডক্টরেট ডিগ্রি থাকলে কেরিয়ারের বিকল্পের একাধিক দিশা খুলে যায়।

সঠিক ডিগ্রি বেছে নেওয়া: যখন ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি প্রোগ্রাম বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গ আসে, তখন একাধিক বিকল্প দেখে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। এ-ক্ষেত্রে সমস্ত দিক বিচার করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের বিষয় বেছে নেওয়া উচিত, এমনটাই মত পাইয়ের। তাঁর কথায়, “সম্পূর্ণ কেরিয়ারে একজন পড়ুয়া কী বিষয় শিখতে চাইছেন, সেই বিষয়টা সময় নিয়েই বুঝতে হবে। আর সেটাই সেই শিক্ষার্থীর প্যাশন হওয়া উচিত।” শিক্ষার্থী কোন কোন ডিগ্রি অর্জন করতে চাইছে, সেটা তাকে সবার আগে বুঝতে হবে। সেই সঙ্গে এটাও তাকে খুঁজে বার করতে হবে যে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পছন্দের বিষয়ের পঠনপাঠনের অ্যাকাডেমিক পরিকাঠামো সবচেয়ে ভালো। কিন্তু অনেকেই খ্যাতি, র‍্যাঙ্কিং ইত্যাদি দেখে কিংবা অভিভাবকদের চাপে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় অথবা পাঠ্যক্রম বেছে নিতে বাধ্য হন। এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কোন কাজে সাফল্য আসবে, সেটার উপরেই নজর দেওয়া উচিত। যদি কোনও বিষয়ে জিজ্ঞাস্য কিছু থাকে, তাহলে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ করা উচিত। তাঁরাই নানা তথ্য দিয়ে পড়ুয়াদের সাহায্য করতে পারবেন। আর বিশেষজ্ঞরা আর একটা বিষয় মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের যোগ্যতা দেখেই ভর্তি-প্রক্রিয়া হবে, তাঁদের অভিভাবকদের দেখে নয়।” পরিশেষে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে চাপের প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মত, যে দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে পড়ুয়ারা পাঠ্যক্রম বেছে নিয়েছেন, পাঠ্যক্রম চলাকালীন সেই দৃষ্টিভঙ্গী বজায় রাখাই এক্ষেত্রে সবথেকে বড় বিষয়।

First published:

Tags: US Study

পরবর্তী খবর