CBSE: লাল-কালি দিয়ে খাতা দেখা অতীত, বোর্ডের পরীক্ষার খাতা ‘চেক’ করছে AI! কীভাবে কাজ করে CBSE-র এই নতুন পদ্ধতি?
- Published by:Ankita Tripathi
- news18 bangla
Last Updated:
বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন৷
নয়াদিল্লি: লাল কালির পেন নিয়ে বসে খাতা কাটছেন শিক্ষকরা৷ খাতা দেখার চিরাচরিত এই ছবিই বদলে ফেলতে চলছে CBSE৷ সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন এবার বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ এবং দ্রুত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করছে। সম্প্রতি বোর্ড অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) এবং AI-ভিত্তিক সিস্টেম গ্রহণের দিকে বড় পদক্ষেপ নিল সিবিএসই বোর্ড৷
চিরাচরিত হাতে নাতে খাতা দেখা নয়, এবার ছাত্রছাত্রীদের উত্তরপত্র স্ক্যান করে দিয়ে দেওয়া হবে কম্পিউটার স্ক্রিনে৷ সেখানেই হবে উত্তরের মূল্যায়ণ৷ জানা গিয়েছে, AI-এর ব্যবহার শুধু খাতা পরীক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূল্যায়নের গুণগত মানও পর্যবেক্ষণ করে। যখন কোনও পরীক্ষক ডিজিটাল স্ক্রিনে খাতা পরীক্ষা করেন, তখন ব্যাকএন্ডে সক্রিয় AI সিস্টেম নজর রাখে—প্রতিটি উত্তরের জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে কিনা এবং নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসঙ্গতি আছে কিনা। এই প্রযুক্তির ফলে ফল প্রকাশের সময় কমে যাবে এবং পুনর্মূল্যায়ন ও নম্বর যোগ করার ভুল পুরোপুরি দূর হবে।
advertisement
advertisement
কীভাবে বদলে যাবে মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া?
CBSE পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে খাতাগুলি সরাসরি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পাঠান হয়, যেখানে উচ্চমানের স্ক্যানারের মাধ্যমে সেগুলি ডিজিটাইজ করা হয়। প্রতিটি ছাত্রের খাতায় একটি ইউনিক বারকোড দেওয়া হয়, যাতে পরীক্ষক ছাত্রের পরিচয় জানতে না পারেন। এই “ব্লাইন্ড ইভ্যালুয়েশন” পদ্ধতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করে। এরপর খাতাগুলি ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়।
advertisement
CBSE পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে খাতাগুলি সরাসরি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যেখানে উচ্চগতির স্ক্যানারের মাধ্যমে সেগুলি ডিজিটাইজ করা হয়। প্রতিটি ছাত্রের খাতায় একটি ইউনিক বারকোড দেওয়া হয়, যাতে পরীক্ষক ছাত্রের পরিচয় জানতে না পারেন। এই “ব্লাইন্ড ইভ্যালুয়েশন” পদ্ধতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করে। এরপর খাতাগুলি ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়।
advertisement
অন-স্ক্রিন মার্কিং কীভাবে কাজ করে
পরীক্ষকরা এখন বাড়িতে বা মূল্যায়ন কেন্দ্রে বসেই কম্পিউটার লগইনের মাধ্যমে খাতা পরীক্ষা করতে পারেন। স্ক্রিনের একদিকে থাকে ছাত্রের উত্তরপত্র এবং অন্যদিকে বোর্ডের মার্কিং স্কিম। পরীক্ষক প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর দেন। একটি খাতা সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত সিস্টেম পরবর্তী খাতা খুলতে দেয় না।
AI সিস্টেম মূলত তত্ত্বাবধায়কের মতো কাজ করে এবং কয়েকটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করে—
advertisement
অনিয়মিত মূল্যায়ন: যদি কোনও পরীক্ষক খুব দ্রুত খাতা পরীক্ষা করেন, AI সতর্কবার্তা পাঠায়।
নম্বর গণনা: AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোট নম্বর হিসাব করে, ফলে যোগফলের ভুল থাকে না।
প্যাটার্ন বোঝা: কোনও নির্দিষ্ট প্রশ্নে সব ছাত্র অস্বাভাবিকভাবে বেশি বা কম নম্বর পাচ্ছে কিনা, তা শনাক্ত করে, প্রয়োজনে মার্কিং স্কিম পর্যালোচনা করা যায়।
আগের পদ্ধতিতে অনেক সময় কিছু উত্তর অমূল্যায়িত থেকে যেত। কিন্তু এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়, কারণ কোনও ফাঁকা অংশ বা অচেকড পৃষ্ঠা থাকলে সফটওয়্যার সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করে। এছাড়া নম্বর সরাসরি মূল মার্কশিটে আপলোড হওয়ায় ডাটা এন্ট্রির ভুলও দূর হয়েছে।
advertisement
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এখন CBSE ছাত্রদের ফলাফল আরও নির্ভরযোগ্য হবে। AI এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নজরদারি করছে। ফলে নম্বর যোগের ভুলের কারণে নম্বর কমে যাওয়ার ভয় আর থাকবে না। বোর্ডের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ AI-নির্ভর স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে।
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Apr 04, 2026 8:30 PM IST











