Home /News /coronavirus-latest-news /
বৃদ্ধরা ভয় পাবেন না,সচেতন থেকে নিজের গতিবিধির ওপর নজর রাখুন,পরামর্শ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের

বৃদ্ধরা ভয় পাবেন না,সচেতন থেকে নিজের গতিবিধির ওপর নজর রাখুন,পরামর্শ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের

করোনায় আক্রান্ত হয়েও অনেকে উপসর্গহীন থাকছেন৷ কিন্তু সাধারণত করোনার দু'টি মূল উপসর্গের কথাই বলছেন চিকিৎসকরা৷ সেগুলি হলো জ্বর এবং কাশি৷ এর পাশাপাশি অনেকের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দেয়৷

করোনায় আক্রান্ত হয়েও অনেকে উপসর্গহীন থাকছেন৷ কিন্তু সাধারণত করোনার দু'টি মূল উপসর্গের কথাই বলছেন চিকিৎসকরা৷ সেগুলি হলো জ্বর এবং কাশি৷ এর পাশাপাশি অনেকের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দেয়৷

  • Share this:

করোনায় আক্রান্ত হতে পারে যে কোনও বয়সের মানুষ৷ তবে ষাটোদ্ধোদের ক্ষেত্রে করোনার প্রভাব হতে পারে মারাত্মক, কারণ জীবনহানি হওয়ার একটা আশঙ্কা থেকে যায়৷ এই তথ্যে ভীষণ ভয় পাচ্ছেন বয়স্ক মানুষরা৷ তবে অযথা ভয় নয়, সাহস করে এই রোগের মোকাবিলা করতে হবে৷ মনের জোরের সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব৷ পরামর্শ বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ তাপস রায়চৌধুরির৷

প্রশ্ন- তথ্য বলছে করোনায় বয়স্কদের মৃত্যুর হার বেশি৷ একেই এই বয়সের মানুষদের মনের জোর কিছুটা হলেও কমে যায়৷ জীবন সায়াহ্নে তারা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েন (মানসিক ও শারীরিকভাবে)৷ তার ওপর এই করোনা ভয়৷ বয়স্ক মানুষরা কী করবেন?

উত্তর- আসলে মেডিক্যাল অ্যাপলিকেশনের নিজস্ব রিসার্চ এখানে খুবই কম হয়৷ ৬০ পেরিয়ে যাওয়া ৬ ফুট লম্বা এক মার্কিনির শরীরের সঙ্গে আমাদের দেশের একজন বয়স্কর শারীরিকভাবে কোনও মিলই নেই৷ তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইতালিতে যা হয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি এখানে হবে, তার কোনও মানেই নেই৷ আসলে যেভাবে ভাবতে হবে সেটা হল, বয়সকালে একজন মানুষের শারীরিক ক্ষমতা অনেকটা কমে আসে৷ জীবেন নানা রকম পরিশ্রম, ঘাত-প্রতিঘাতে শরীরের কোনও কোনও অংশ দুর্বল হয়ে যায়৷ তাই শরীরের কোনও একটি অংশে রোগ বাসা বাঁধলে গোটা শরীর তা মোকাবিলা করতে শুরু করে৷ ফলে কী হয়, যুঝতে না পেরে মাল্টি অরগ্যান ফেলিঅরের ঘটনা ঘটে৷ যাদের কোনও ক্রোনিক সমস্যা আছে, তারা একটি বেশি সাবধানে থাকুন৷ কোনও রকম ঝুঁকি নেবেন না৷ কিন্তু যাদের সেভাবে কোনও রোগ নেই, তারা শুধু শুধু দুঃশ্চিন্তা করবেন না৷ নিজের খেয়াল রাখুন৷ বাড়িতে নিজের ইচ্ছে মতো সময় কাটান৷ পরিবারকে একসঙ্গে খুব একটা পাওয়া যায় না৷ এই সময় যদি সবাই একসঙ্গে থাকেন, তাহলে নিয়ম করে গল্প করুন৷ মন ভাল থাকবে৷ আর তার সঙ্গে একটু পরিশ্রম করুন৷ নিয়মিত হাঁটুন৷ আমি স্বাস্থ্য দফতরের কাছে আর্জি রাখব যাতে সকালে মাঠে হাঁটার ব্যবস্থা করা যায়৷ দূরত্ব বজায় রেখেই একটি হাঁটা চলা করলে বয়স্কদের শরীর ভাল থাকবে৷

প্রশ্ন- বাড়ি থাকলে কী কী খাওয়া যেতে পারে? এমন খাবার যাতে পেট ভরবে অথচ মোটা হবেন না?

উত্তর- নিয়ম করে খাওয়া দাওয়া করুন৷ ভাত বেশি খাবেন না৷ একটু শুকনো খাবার খেতে চেষ্টা করুন৷ যেমন স্যান্ডউইচ৷ ফল খান৷ সবজি খান৷ ডিম, মাছ, মাংস, যা যা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সবই খান৷ মাথায় রাখবেন যাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি খাওয়া না হয়৷ এতে শরীরের ভারীভাব বাড়ে৷ আর মুড়ি খেতে পারেন৷ সুন্দর ও স্বাদ করে মুড়ি মেখে খান৷ খুব অদ্ভুতভাবে মুড়ি ও চাল ধান থেকেই তৈরি কিন্তু মুড়ি খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে৷

প্রশ্ন- আপনি তো এক্সসারসাইজের কথাও বলেছেন৷ বাড়িতে কী কী করা যেতে পারে?

উত্তর- এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জগিং করুন৷ স্পট রানিং করা যেতে পারে৷ বাড়িতে শিঁড়ি থাকলে ওপর-নিচ করুন৷ সকাল-বিকেল ১ ঘণ্টা করে শরীরিক পরিশ্রম করলে আপনার হার্ট ভাল থাকবে, শরীর ফিট থাকবে৷ বিশেষ করে বাড়ির পুরুষরা তো সেভাবে ঘরের কাজে অভ্যস্থ নন৷ কারণ মহিলারা তো বাড়ির কাজ করেন, ফলে কিছু না কিছু পরিশ্রম তাদের হয়েই যায়৷

প্রশ্ন- করোনার জন্য হাইড্রক্সিক্লরোকুইনের কথা বলা হচ্ছে৷ এই ওষুধে কতটা কাজ হচ্ছে?

উত্তর- নিশ্চিত ভাবে বলা যাবে না৷ শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে তবে চিকিৎসক ঠিক করবেন কোন ওষুধ কীভাবে দিতে হবে৷ সাধারণ মানুষ যেন নিজে থেকে কিছু ওষুধ না বেছে নেন৷ এতে হীতে বিপরীত হতে পারে৷

প্রশ্ন- শরীরে করোনার জীবাণু রয়েছে, তবে কোনও উপসর্গ সেভাবে নেই, সেক্ষেত্রে রোগ বোঝার কী কোনও উপায় রয়েছে?

উত্তর- হতে পারে আপনার কিছু কিছু অনুভূতি কম হল৷ যেমন খাবার স্বাদ বা গন্ধ কিছুটা কমতে পারে৷ কনজাংটিভাইটিস হতে পারে৷ তার সঙ্গে জ্বর ও শুকনো কাশি৷ যদি অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ঠিক হয়ে যায়, তাহলে তো কোনও সমস্যাই নেই৷ না হলে সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করুন৷ তবে একটা বাড়তি কাজ সবাইকে করতে হলে৷ তা হল নিজের সঙ্গেই নিজের গোয়ান্দাগিরি৷ সম্প্রতি কোথায় গিয়েছিলেন, বা কার কার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, সব লিখে রাখতে হবে৷ কারণ প্রয়োজনে চিকিৎসকে জানাতে হবে আপনার ট্রাভেল হিস্ট্রি৷

Dr. Tapas Raychaudhury Dr. Tapas Raychaudhury

প্রশ্ন- চিনে এই রোগ প্রথম সামনে আসে ডিসেম্বর মাসে৷ সেখান থেকে মার্চ মাসে অনেকটাই প্রকোপ কমেছে৷ তাহলে কী বলা যেতে পারে আমাদের দেশে মার্চ থেকে শুরু হওয়া করোনার প্রভাব জুন মাসের মধ্যে কমার সম্ভাবনা থাকছে?

উত্তর- দেখুন চিনের তথ্যের ওপর খুব বেশি বিশ্বাস করা যায় না৷ বরং আমাদের দেশের গ্রামগুলিতে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা উচিৎ৷ কারণ একবার যদি গ্রামীণ স্তরে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আর আটকানোর উপায় থাকবে না৷

প্রশ্ন- মানুষকে কীভাবে সচেতন থাকতে বলবেন?

উত্তর- লকডাউন মেনে চলুন৷ প্রয়োজনে বাইরে গেলেও সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখুন৷ করোনা নিয়ে সবসময় সচেতন করা হচ্ছে৷ সংবাদমাধ্যম খুবই ভাল প্রচার করছে৷ তবে আর আমার অভিমত যে সব সাংবাদিকরা নিয়মিত রাস্তায় নামছেন, তাদেরও করোনা পরীক্ষা করা উচিৎ৷ চিকিৎসা কর্মীদের মতো প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তারাও তো বহু মানুষের সংস্পর্শে আসছেন৷ তাই অজান্তে শরীরে সংক্রমণ হতে পারে বা কেরিয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারে৷

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Coronavirus, COVID19

পরবর্তী খবর