Coronavirus Vaccine: ভারতবর্ষের গ্রামগুলোতে চলছে টিকা পৌঁছানোর কাজ

এই মহামারী থেকে রেহাই পাওয়ার সর্বোত্তম কৌশল হলো টিকাকরণ

এই মহামারী থেকে রেহাই পাওয়ার সর্বোত্তম কৌশল হলো টিকাকরণ

  • Share this:

    বিশ্বের বৃহত্তম Covid-19 টিকাকরণ প্রচারাভিযানগুলির মধ্যে একটি ভারতে চলছে এবং ৬ই মে পর্যন্ত ভ্যাকসিনের ১৬ কোটিরও বেশি ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে। এই মহামারী থেকে রেহাই পাওয়ার সর্বোত্তম কৌশল হলো টিকাকরণ। তবে, Covid-19 টিকাগুলির সুরক্ষা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কিত তথ্য উপলব্ধ থাকা সত্ত্বেও, সারা দেশ জুড়ে জনসাধারণের মধ্যে টিকা সম্পর্কে সন্দেহ এবং জ্ঞানের অভাব অব্যাহত রয়েছে। এটি বিশেষত গ্রামীণ এবং উপজাতীয় ভারতে আরও তীব্র কারণ সেখানে প্রযুক্তির অনুপ্রবেশ কম এবং টিকাকরণ বা কোভিড উপযুক্ত আচরণ (CAB) সম্পর্কে সরকারী বার্তা সীমিত। অতএব, টিকাকরণ চালু করার পাশাপাশি টিকা সম্পর্কে সময়োপযোগী, সঠিক এবং স্বচ্ছ তথ্য ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করার জন্য ভারতের গ্রামীণ অঞ্চল গুলিতে একটি কার্যকর যোগাযোগ ও সচেতনতা কৌশল গ্রহণ করা অপরিহার্য। এটি টিকা সম্পর্কে দ্বিধার বিরুদ্ধে লড়াই করবে, মানুষের আশঙ্কা দূর করবে, টিকার গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে এবং আরও নাগরিকদের টিকা নিতে উৎসাহিত করবে। এই ধরনের কৌশল গ্রামে পৌঁছানোর জন্য একটি বিকেন্দ্রীভূত পদ্ধতি গ্রহণ করা দরকার যেহেতু প্রযুক্তিগত এবং ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলগুলিতে প্রবেশ করা কঠিন।

    গণ টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সম্প্রদায়গুলিকে সংবেদনশীল করা, COVID-19 টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্যগুলিকে দূর করা ও মানুষের ভয় কমানো এবং সেইসাথে টিকাকরণের জন্য যোগ্য জনগণের রেজিস্ট্রেশনের সুবিধার্থে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য জ্ঞান, মনোভাব এবং অনুশীলনের উন্নতির বিষয়ে একটি প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

    টিকাকরণ সম্পর্কিত জ্ঞান: গ্রামাঞ্চলে, টিকাকরণ কী এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্প্রদায়গুলিকে প্রথমে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ। এই জাতীয় প্রাথমিক তথ্যের অভাব মানুষকে গুজব এবং ভুল তথ্যের প্রতি দুর্বল করে তোলে। এর জন্য, বার্তাগুলি স্থানীয় ভাষায় থাকতে হবে এবং সম্প্রদায়ের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পটভূমি অনুসারে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে। গ্রামীণ, উপজাতি, অ-উপজাতি এবং যেইসব জায়গায় পৌঁছানো খুব কঠিন সেইসব রাজ্য-নির্দিষ্ট বৈচিত্র্য এবং দুর্বলতাগুলিরও সমাধান করা দরকার।

    মনোভাব: সঠিক জ্ঞান টিকাকরণের প্রতি সঠিক মনোভাবের দিকে পরিচালিত করে। এভাবেই মানুষ ভুল তথ্য গুলি সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করতে এবং গুজবের মুখোমুখি হতে সক্ষম হয়।

    অনুশীলন: উন্নত জ্ঞান এবং মনোভাব সম্প্রদায়ের সদস্যদের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার ইন্ধন দেয়। এই ক্ষেত্রে, এর অর্থ টিকাকরণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা এবং সময়মতো উভয় ডোজ নেওয়া।

    গ্রামীণ অংশে টিকাকরণ চালু করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলি হলো প্রযুক্তির সীমিত অ্যাক্সেস এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষের মধ্যে আরও সীমিত জ্ঞান। " CO-WIN ড্যাশবোর্ড কী?", "আমি কীভাবে রেজিস্টার করবো?", "আমি কীভাবে আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করবো?", "আমার নিকটতম টিকাকেন্দ্র কোথায়?", ইত্যাদি প্রশ্নগুলি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি শহুরে সম্প্রদায়ের তুলনায় গ্রামীণ সম্প্রদায়গুলিকে অনেক বড় অসুবিধায় ফেলে দেয়, শহরে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি এবং প্রচলিত মধ্যস্থতামূলক বার্তাগুলি কেন্দ্রীভূত হয়। সাধারণ মানুষের রেজিস্ট্রেশনের সুবিধার্থে এই ব্যবধানটি পূরণ করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাম পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন কিয়স্ক স্থাপন করে এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য, অঙ্গনওয়াড়ি সেবিকা, আশা কর্মী ইত্যাদির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী মানুষদের সাহায্য নিয়ে নিজেদের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য মানুষকে একত্রিত করা যেতে পারে। সমস্ত বয়সের বিভাগের জন্য সরকার টিকাকরণ রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এটি একটি মূল কৌশল হবে। গ্রামীণ ভারতে টিকাকরণ করা জটিল। তবে, এটি বিকেন্দ্রীভূত পরিকল্পনা এবং একটি সম্প্রদায় ভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে অর্জন করা যেতে পারে। মানুষকে শিক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যে CAB গ্রহণ এবং টিকাকরণই স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায়।

    লিখেছেন: অনিল পারমার, পরিচালক, কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট, এনজিও পার্টনার - ইউনাইটেড ওয়ে মুম্বাই

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: