Home /News /business /
Recurring Deposit: রেকারিং ডিপোজিট করাবেন ভাবছেন ? আগে জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধাগুলি ....

Recurring Deposit: রেকারিং ডিপোজিট করাবেন ভাবছেন ? আগে জেনে নিন সুবিধা ও অসুবিধাগুলি ....

Recurring Deposit: ভালো আয়ের পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের খরচের জন্যও সঞ্চয় করার সুযোগ দেয়।

  • Share this:

    #কলকাতা: রেকারিং ডিপোজিট (Recurring Deposit) হল, অর্থ সঞ্চয় করার অন্যতম সুরক্ষিত এবং নিরাপদ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। ঝুঁকি এড়াতে চান, এমন বিনিয়োগকারীরা ভালো রিটার্নের জন্য এই স্কিমগুলিতে নিশ্চিন্তে এবং নিরাপদে টাকা লগ্নি করতে পারেন। রেকারিং ডিপোজিট খুবই সহজ এবং সরল অর্থনৈতিক ব্যাঙ্কিং পরিষেবা।

    রেকারিং ডিপোজিট কী ভাবে কাজ করে?

    রেকারিং ডিপোজিট (RD) স্কিমে গ্রাহকরা প্রতি মাসে কিস্তিতে ব্যাঙ্কে টাকা জমা করতে পারেন। স্কিমের মেয়াদ আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। মেয়াদ পূর্ণ হলে সুদ-সহ সম্পূর্ণ টাকা অ্যাকাউন্টের মালিককে ফেরত দেয় ব্যাঙ্ক। এই স্কিমের মেয়াদ ১ বছর থেকে শুরু ৫ বছর বা তার বেশিও হয়। মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হার বাড়ে অথবা কমে। মেয়াদ কম হলে কম সুদ পাওয়া যায়, দীর্ঘ মেয়াদী হলে বার্ষিক সুদের হার বেশি হয়। রেকারিং ডিপোজিট এবং ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) পার্থক্য হল, RD-এর ক্ষেত্রে মাসে মাসে টাকা জমা দেওয়া হয় এবং ব্যাঙ্ক তার উপর সুদ দেয়। অন্য দিকে, FD স্কিমে একবারে বড় অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হয়। এই কারণে যাদের পক্ষে একবারে মোটা অঙ্কের টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয় না, তারা রেকারিং ডিপোজিট বেছে নিয়ে থাকেন। লগ্নিকারি মেয়াদ চলাকালীন যত টাকা জমা দেন, মেয়াদ শেষে সুদ-সহ সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেয় ব্যাঙ্ক। RD স্কিমে সুদ ত্রৈমাসিক চক্রবৃদ্ধি গণনা করা হয়।

    আরও পড়ুন: পোস্ট অফিস না SBI এফডি ? কোথায় ইনভেস্ট করলে বেশি লাভবান হবেন....

    প্রত্যেক কয়েনের যেমন দু’টি দিক থাকে, তেমনই রেকারিং ডিপোজিটে সুবিধা এবং অসুবিধা দুইই রয়েছে। নীচে এই বিষয়গুলি বিস্তারে আলোচনা করা হল।

    রেকারিং ডিপোজিটের সুবিধা--

    RD স্কিমে ব্যাঙ্ক আকর্ষণীয় সুদ-সহ বিভিন্ন রকম অফার দেয়, যার ফলে গ্রাহক ভালো আয় বা উপার্জন করতে পারেন। এই স্কিমের সুবিধাগুলি নীচে দেওয়া হল।

    স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্যের জন্য উপযুক্ত: রেকারিং ডিপোজিটে অর্থ বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ঝুঁকিহীন। এটি গ্রাহককে ভালো রিটার্নের নিশ্চয়তা প্রদান করে। আমরা অনেকেই কম সময়ের জন্য টাকা বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন পেতে লগ্নি করার জন্য ভালো উপায় খুঁজি। সে ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ড বা স্টক রয়েছে, কিন্তু সেগুলি নিরাপদ না-ও হতে পারে এবং টাকা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি সব সময় থেকেই যায়। আর RD স্কিমগুলি এমন পরিকল্পিত ভাবে তৈরি করা, যেখানে লগ্নিকারি ১ বছর থেকে ৩ বছরের জন্য টাকা বিনিয়োগ করে মেয়াদ শেষে ভালো রিটার্ন-সহ সমস্ত টাকা তুলে নিতে পারেন।

    আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঋণ পাওয়ার জন্য কী করতে হবে....

    ভালো আয়ের পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের খরচের জন্যও সঞ্চয় করার সুযোগ দেয়। কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল--

    • সন্তানের বার্ষিক শিক্ষা খরচ
    • বাড়ির পরিচর্যা
    • বিদেশ ভ্রমণ
    • বিবাহের খরচ
    • চিকিৎসা

    সহজ এবং সরল বিনিয়োগ: একটি রেকারিং ডিপোজিটে বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে টাকা জমা করেন, যার ফলে ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের খাতায় যোগ হতে থাকে। বেতনভোগী কর্মীচারীদের ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের সব চেয়ে উপযুক্ত উপায় হল-- RD। প্রতি মাসে বেতন হাতে আসার আগেই ব্যাঙ্ক মাসিক কিস্তি রেকারিং ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দেবে। রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে ভালো রিটার্ন নিশ্চিত এবং সুদের হার এক বার নির্ধারিত হয়ে গেলে, তা আর পরিবর্তিত হয় না। ফলে অর্থনৈতিক মন্দা এলেও গ্রাহকের বিনিয়োগের উপর কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না।

    রেকারিং ডিপোজিটে সুদের হার: একটি RD স্কিমে সুদের হার জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণ এবং মেয়াদের উপর নির্ভর করে। ব্যাঙ্ক এবং গ্রাহকের বেছে নেওয়া স্কিমের উপর ভিত্তি করে বার্ষিক সুদের হার ৭.২৫% থেকে ৯% পর্যন্ত হতে পারে। প্রায় সমস্ত ব্যাঙ্কই প্রবীণ নাগরিকদের বেশি সুদ প্রদান করে।

    আরও পড়ুন: বিরাট দাম বাড়ল সোনা-রুপোর, দেখে নিন গত এক সপ্তাহে বাজারের অবস্থা

    রেকারিং ডিপোজিটের স্বাধীনতা: কিছু ব্যাঙ্ক বিনিয়োগকারীদের বিশেষ RD স্কিমের অফার দেয়, যেখানে কোনও মাসে কিস্তি জমা দিতে না-পারলেও কোনও জরিমানা কাটা হবে না। এ জাতীয় স্কিমে গ্রাহক চাইলে যে কোনও সময় রেকারিং ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা তুলে নিতে পারেন।

    রেকারিং ডিপোজিটের অসুবিধা--

    রেকারিং ডিপোজিট হল-- একটি নিরাপদ ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, কিন্তু এই স্কিমগুলিতেও কিছু অসুবিধা রয়েছে। নীচে সেই সব অসুবিধার তালিকা দেওয়া হল।

    লিক্যুইডিটি: একটি রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে টাকা বিনিয়োগ করার পর মেয়াদ পরিপূর্ণ না-হলে টাকা বিনিয়োগকারী টাকা তুলতে পারেন না। একটি লক্ষ্য নিয়ে টাকা জমা দেওয়ার পর উদ্দেশ্য পূরণেই অর্থ প্রাপ্তি হবে। কোনও গ্রাহক তাঁর বিনিয়োগে নমনীয়তা এবং স্বাধীনতা চাইলে রেকারিং ডিপোজিট এড়িয়ে চলাই ভালো। শুধুমাত্র কিছু ব্যাঙ্ক বিশেষ স্কিমে এই পরিষেবা প্রদান করে, তবে সে ক্ষেত্রে সুদের হার কম হতে পারে। অন্য দিকে, লগ্নিকারি যদি একসঙ্গে অনেক টাকা বিনিয়োগ করতে চান, তবে সে ক্ষেত্রে এই অসুবিধা তার জন্য সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।

    সীমাবদ্ধ মাসিক কিস্তি: রেকারিং ডিপোজিটে এক বার মাসিক কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত হয়ে গেলে কোনভাবেই তা বাড়ানো অথবা কমানো সম্ভব হয় না। অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এলেও একই পরিমাণ টাকা জমা দিতেই হবে। নিয়মিত মাসিক আয় নেই, এমন গ্রাহকদের জন্য রেকারিং ডিপোজিট স্কিমে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    Published by:Dolon Chattopadhyay
    First published:

    Tags: Investment and Returns, Recurring Deposits

    পরবর্তী খবর