• Home
  • »
  • News
  • »
  • astrology
  • »
  • RATHYATRA UNVEIL THE ASTROLOGICAL ASPECT BEHIND THIS CHARIOT FESTIVAL GS AC

Rath Yatra 2021: রাধার প্রেমে কৃষ্ণ নিলেন জগন্নাথের রূপ, জানুন রথযাত্রার কিংবদন্তী, লোকাচার আর পুণ্য তিথি বিষয়ে

একদা দ্বারকার মহিষীরা মাতা রোহিণীর কাছে জানতে চান- কৃষ্ণ এবং বলরাম বৃন্দাবনের প্রসঙ্গ উঠলেই এত আনন্দিত হন কেন!

একদা দ্বারকার মহিষীরা মাতা রোহিণীর কাছে জানতে চান- কৃষ্ণ এবং বলরাম বৃন্দাবনের প্রসঙ্গ উঠলেই এত আনন্দিত হন কেন!

  • Share this:

    Rath Yatra 2021:  শাস্ত্রে মন্দিরে স্থিত দেববিগ্রহের রথযাত্রার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বলা হয়েছে যে বছরে একবার পুণ্য তিথি অনুসারে সংশ্লিষ্ট বিগ্রহকে রথে বসিয়ে পুর পরিভ্রমণ করানো পুণ্য ফলদায়ক। এই রীতি অনুসারে দেশে এবং বিদেশের অনেক মন্দিরে রথযাত্রার উৎসব সম্পাদিত হয়। এর মধ্যে ওড়িশার পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রাই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

    বলা হয়, মন্দির উদ্বোধনের সময়ে স্বয়ং জগন্নাথ কয়েকটি নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠাতা রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নকে। তার মধ্যে একটি হল- প্রতি বছরে একবার করে রথে বসিয়ে তাঁকে গুণ্ডিচা মন্দিরে নিয়ে যেতে হবে! কেন না, পুরাণে জগন্নাথ একে নিজের জন্মস্থান বলে উল্লেখ করেছেন, এখানেই বৃদ্ধ সূত্রধর অনন্ত মহারাণার ছদ্মবেশে তিনি নিজেই তৈরি করেছিলেন তাঁর মূর্তি! সেই থেকে ভগবানের নিজের জন্মস্থান দেখার এই ইচ্ছা পূরণের জন্যই আয়োজিত হয়ে আসছে রথ যাত্রার উৎসব! দারুবিগ্রহের কার রথ কেমন হবে, সে নির্দেশও দিয়েছিলেন জগন্নাথ স্বয়ং; তাকে মাথায় রেখেই প্রতি বছরে তৈরি হয় জগন্নাথের রথ নন্দীঘোষ, বলভদ্রের রথ তালধ্বজ আর সুভদ্রার রথ দর্পদলন। এই রীতি অনুসারে মূর্তি তৈরির সময়ে রাজা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মন্দিরদ্বার খুলেছিলেন, তাই বিগ্রহ তৈরির কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটিই শঙ্খক্ষেত্রের দারুবিগ্রহের হস্তপদহীন রূপের সর্বাধিক জনপ্রিয় কিংবদন্তী।

    কিন্তু এছাড়াও রয়েছে আরও এক চমকপ্রদ কাহিনি! লোকবিশ্বাস মতে, একদা দ্বারকার মহিষীরা মাতা রোহিণীর কাছে জানতে চান- কৃষ্ণ এবং বলরাম বৃন্দাবনের প্রসঙ্গ উঠলেই এত আনন্দিত হন কেন! তাঁরা যখন এ কথা জানতে চেয়েছিলেন, তখন সুভদ্রাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তিনি রাধার সঙ্গে কৃষ্ণের প্রেমের বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তাই রোহিণী মেয়েকে ঘরের বাইরে চলে যেতে বলেন। তিনি জানতেন, বিচ্ছেদের এই গাথা সুভদ্রা সহ্য করতে পারবেন না! পাশাপাশি মেয়েকে তিনি দরজার বাইরে প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে থাকতেও বলেন। এ কথা মহিষীরা ছাড়া আর কেউ শুনুন, এ তিনি চাননি!

    কিন্তু মায়ের নিষেধ সুভদ্রার কৌতূহল বাড়িয়ে তুলল! তিনি দরজা সামান্য ফাঁক করে কান পেতে শুনতে থাকলেন রোহিণীর কথা। অচিরেই হারিয়েও গেলেন বৃন্দাবনের অপূর্ব কাহিনিতে। খেয়ালই করলেন না- কৃষ্ণ এবং বলরামও এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর পাশে, তাঁরাও আড়ি পেতে শুনছেন সব কিছু।

    বলা হয়, রোহিণীর বর্ণনা এতই অপূর্ব ছিল যে তা তিন ভাই-বোনেরই হৃদয় দ্রবীভূত করতে সমর্থ হয়। শুনতে শুনতে তাঁরা মূর্তির মতো স্থির হয়ে যান। তাঁদের চোখ ভাবাবেগে বড় বড় হয়ে যায়, মাথার চুল দাঁড়িয়ে যায় সোজা হয়ে, ঠোঁটের হাসি আবেগের আতিশয্যে চওড়া হয়ে যায় কান পর্যন্ত। যেমনটা আমরা এখন পুরীধামের শ্রীমন্দিরে বিগ্রহের রূপে দেখে থাকি! এই সময়ে নারদ ঋষি সেখানে আবির্ভূত হলে ভগবানের ওই অপরূপ রূপদর্শনে মুগ্ধ হন এবং অনুরোধ করেন তাঁরা যেন এই রূপেই ভক্তদেরও দর্শন দেন। এই ঘটনাকেই উদযাপন করা হয় পুরীধামে, এই রূপে তিনজনকে পুজো করে!

    জগতের এই নাথের উৎসবে কোনও রকম শ্রেণিবিভাজন স্বীকৃত হয় না। ইন্দ্রদ্যুম্ন নিজে যেমন রথের সামনের রাস্তা ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করেছিলেন, সেই রীতি মেনে আজও পুরীর রাজা রথ চলার আগে সোনার ঝাঁটা দিয়ে পথ পরিষ্কার করে দেন, এই রীতিকে ওড়িয়া ভাষায় বলে ছেরা পহরা। তার আগে তিন বিগ্রহকে স্নানান্তে নিজের নিজের রথে স্থাপন করা হয়। উৎসব চলে সাত দিন ধরে, উল্টোরথে তাঁরা আবার গুণ্ডিচা মন্দির থেকে প্রত্যাবর্তন করেন শ্রীমন্দিরে।

    চলতি বছরে রথযাত্রা পড়েছে ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে ১২ জুলাই, ২০২১ তারিখে। পঞ্জিকা মতে রথযাত্রার পুণ্য তিথি শুরু হচ্ছে ১১ জুলাই সকাল ৭টা ৪৭ মিনিটে, শেষ হচ্ছে ১২ জুলাই সকাল ৮টা ১৯ মিনিটে- এই সময়ের মধ্যে দারুব্রহ্মের পূজায় ভাগ্য প্রসন্ন হবে।

    সকলের জন্য রইল রথযাত্রার শুভেচ্ছা! জয় জগন্নাথ!

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: