ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের হেভিওয়েট কেন্দ্র খড়্গপুরে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। প্রতিদিনই চেনা মেজাজে দিলীপ ঘোষ। সোমবার শুরুতেই শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তোপ দাগেন দিলীপ। তিনি বলেন, “কল্যাণবাবু সকালে এক বলেন, রাতে আর এক। ওঁর সব কথার জবাব দেওয়া যায় না। এটাই ওঁর রাজনীতি। এবার ওঁর সব গুটিয়ে যাবে।” খড়্গপুরের বিজেপি প্রার্থীর দাবি, আর বড়জোর দু-চার বছর সাংসদ থাকবেন কল্যাণ, তারপর তাঁর রাজনীতির অধ্যায় ইতি হতে চলেছে।
advertisement
কালিয়াচকের ঘটনা ও এনআইএ তদন্ত প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, “কালিয়াচক, সুজাপুর, মোথাবাড়ি— এই এলাকাগুলোকে এতদিন আইন-শৃঙ্খলাহীন করে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট পাওয়ার জন্য দুষ্কৃতীদের ছাড় দেওয়া হয়েছিল।” তবে কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করায় এখন সব ‘পরিষ্কার’ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির পতাকা ছেঁড়া ও দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা করেন দিলীপ। তাঁর কথায়, “এগুলো হারার মানসিকতা। অনৈতিকভাবে বিজেপিকে আটকানোর চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু ঝান্ডা-ব্যানার ছিঁড়ে ভোট হয় না।”
আগামী ১১ এপ্রিল খড়গপুরে অমিত শাহের রোড-শো-এর কথা উল্লেখ করে দিলীপ জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বা নীতিন নবীন— বিজেপির হেভিওয়েট নেতারা লাগাতার প্রচার চালাবেন। তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দিলীপের পাল্টা প্রশ্ন, “ওরা বাংলাদেশ থেকে প্রচারক আনতে পারলে আমরা দিল্লি বা ইউপি থেকে কেন আনতে পারব না?” তাঁর কটাক্ষ, ” তৃণমূলের হাতে এখন কোনও ভাল প্রচারক নেই, তাই মানুষ দেখলেই পালিয়ে যাচ্ছে।”
টলিউডে শিল্পীর মৃত্যু ও কর্মবিরতি নিয়েও মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, টলিপাড়ায় দীর্ঘকাল ধরে ‘মাফিয়া রাজ’ চলছে। এক বছর ধরে অনেক শিল্পীকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। শিল্পীদের এই দুর্দশার জন্য সরাসরি শাসকদলের দিকেই আঙুল তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় এক কোটি ‘ভুয়ো ভোটার’ বাদ যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দাবি করেন, এর ফলে নির্বাচনের ফলাফল আমূল বদলে যাবে।সব মিলিয়ে ভোটের ময়দানে নামার আগে সপ্তাহের শুরুতেই রীতিমত আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন দিলীপ ঘোষ।





