পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-২ ব্লকের সাউরি গ্রামে জন্ম এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানীর। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও কৌতূহলী। ১৯৬৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি সমগ্র রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। সাউরি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি কলকাতায় পাড়ি দেন এবং সেখানকার নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যা নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ গড়ে ওঠে।
advertisement
জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণায় তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য সূর্যের ব্যাস নির্ণয়। সূর্যগ্রহণের সময় বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে তিনি সূর্যের সঠিক ব্যাস মাপতে সক্ষম হন, যা সেই সময়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯৯৫ সালে রাজস্থানের দিল্লি-জয়পুর হাইওয়েতে প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে সারা দেশ থেকে বাছাই করা পড়ুয়াদের নিয়ে এক অভিনব পরীক্ষার মাধ্যমে সূর্যের ব্যাস নির্ণয় করেন তিনি। নতুন ও নির্ভুল পদ্ধতিতে সূর্যের ব্যাস নির্ণয়কারী প্রথম ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি স্বীকৃতি পান।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
গবেষণার পাশাপাশি লেখালেখিতেও তিনি সমান দক্ষ ছিলেন। ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের ওপর তাঁর লেখা বই আজও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় ‘Challenge to Astronomy’ এবং ১৯৯৭ সালে ‘Observational Planner’। এছাড়াও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান সম্পদ। একসময় যাঁর পড়াশোনা থমকে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল, সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর সাফল্যের উড়ান। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে সূর্যের ব্যাস নির্ণয় করে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নারায়ণ চন্দ্র রানা। তাঁর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্য আজও সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা।





