জানা গিয়েছে, পেশায় কৃষক পার্থ প্রতিদিনের মতো শনিবার সন্ধ্যাতেও নিজের জমি দেখতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন চিন্তিত হয়ে পড়েন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পার্থর বাবা তাঁকে জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

আরও পড়ুনঃ জ্বালানির আগুন দাম! সুন্দরবনের নৌকাগুলিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘বিপজ্জনক’ তেল, জলে-স্থলে ছড়াচ্ছে বিষ

advertisement

ওই কৃষকের বাবার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পার্থকে উদ্ধার করে দ্রুত জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের মতে, ইঁদুরের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হওয়া ঠেকাতে পার্থ জমির চারপাশে জিআই তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ করেছিলেন। তবে সেই ব্যবস্থা তাঁর জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

advertisement

মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। এলাকাবাসীদের কথায়, গত বছর একইভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কুলতলিতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তবুও সচেতনতার অভাবে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তাঁরা জানিয়েছে, এমন বিপজ্জনক পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয়। তবে গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব এবং ফসল রক্ষার জন্য কৃষকদের নিরুপায় অবস্থাই এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করছেন প্রশাসন।

advertisement

অন্যদিকে পার্থের অকালমৃত্যুতে তাঁর পরিবারের পাশাপাশি পুরো গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের কাছে গ্রামবাসীদের দাবি, এমন দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা শিবির এবং বিকল্প ফসল রক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রামের মানুষদের সচেতন করা হোক।