‘রবিদা’কে ঘিরে আবেগ, উন্নয়নের খতিয়ান আর রাজনৈতিক বার্তা, সব মিলিয়ে এই গান এখন কাটোয়ার ভোটযুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার। বর্তমানে এআই-এর যুগে প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই গান লেখা, সুর তৈরি এমনকি গাওয়াও সম্ভব। তবে এই গানটি সেই পথে হাঁটেনি, পুরোপুরি মানবিক প্রচেষ্টায়, যুব তৃণমূল কর্মীদের ভাবনা, লেখা ও কণ্ঠেই তৈরি হয়েছে এই গান। ফলে গানটির আবেগ ও মাটির টান আরও বেশি করে ধরা পড়েছে বলে মত অনেকের। এই গানটি লিখেছেন ও গেয়েছেন কাটোয়া শহরের যুব তৃণমূল কর্মীরাই। এর নেপথ্যে রয়েছেন বিজয় অধিকারী, সৌম্য রুদ্র ব্যানার্জী-সহ একাধিক তরুণ কর্মী।
advertisement
আরও পড়ুন: ভোটের প্রচারে এবার কমিশনের নয়া নির্দেশ! ‘সবুজ’ কড়াকড়িতে চিন্তা বাড়ছে দলগুলির, কোথায় থেকে আসবে টাকা
“কাটোয়াতে কাজের ঢেউ, তিনি ছাড়া কি আছেন কেউ…” এই লাইনেই যেন ধরা পড়েছে তাঁদের আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তা। শুধু গান নয়, সেই গানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে একটি ভিডিও, যেখানে কর্মীদের উচ্ছ্বাস আর প্রচারের নতুন ছন্দ স্পষ্ট। বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এই গান প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের যারা যুব তৃণমূল কর্মী অতি উৎসাহে তারাই এই গান লিখেছে এবং গেয়েছে সেই গানই ভাইরাল হয়েছে।”গানের কথায় উঠে এসেছে গত পাঁচ বছরে কাটোয়ায় হওয়া একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের চিত্র। নতুন সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পানীয় জলের উন্নতি, রাস্তার আলো থেকে শুরু করে দাঁইহাটে দমকল কেন্দ্র ও টাউনহলের সংস্কার। “স্বাস্থ্যকেন্দ্র পাশে রয়, চিকিৎসাতে ভয়টা ক্ষয়…”এই ধরনের লাইনের মাধ্যমে সরাসরি উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। শুধু উন্নয়ন নয়, রাজনৈতিক খোঁচাও রয়েছে গানে। ‘ডবল ইঞ্জিন’ ইস্যু থেকে শুরু করে বিরোধীদের উদ্দেশে পরোক্ষ কটাক্ষ সবই জায়গা পেয়েছে এই প্রচারসঙ্গীতে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পাশাপাশি ‘যুবসাথী’ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নেতৃত্বকেও তুলে ধরা হয়েছে গানের মাধ্যমে, যা স্পষ্টতই তৃণমূলের বৃহত্তর প্রচার কৌশলের অংশ। কাটোয়া শহর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিজয় অধিকারী বলেন, “এই গানকেই আমরা এবার ভোট প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার বলে মনে করছি।” তবে এটাই প্রথম নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২২ সালের পুরসভা নির্বাচনেও ‘রবিদা’কে ঘিরে গান ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও গানই হয়ে উঠেছে প্রচারের প্রধান অস্ত্র। ইতিমধ্যেই লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এই ভিডিও, যা কার্যত ভাইরাল। সবমিলিয়ে গানের সুরে যেন জমে উঠেছে কাটোয়ার রাজনৈতিক ময়দান।





