TRENDING:

WB Assembly Elections 2026: মুর্শিদাবাদের শেষ নবাব পরিবারের নাম বাদ এসআইআর-এ, ভরসা এবার ট্রাইব্যুনাল

Last Updated:

মুর্শিদাবাদের শেষ নবাব পরিবারের নাম বাদ এসআইআর-এ, ভরসা এবার ট্রাইব্যুনাল। মুর্শিদাবাদ জেলার ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা-সহ পরিবারের ২৮৬ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ। ট্র্যাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: মুর্শিদাবাদ জেলার ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা-সহ পরিবারের ২৮৬ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ। ট্র্যাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। কারণ যে নবাব পরিবারের হাত ধরে ৩০০ বছর আগে বাংলা-বিহার-ওড়িশা সমৃদ্ধ হয়েছিল, যে পরিবারের দরবারে লক্ষ লক্ষ প্রজা প্রতি বছর নজরানা এবং খাজনা দিতে আসত, আজ সেই মীরজাফরের বংশধররাই নিজেদের ‘ভারতের নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণ করতে লড়াই করছেন। বিধানসভা ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রায় শতাধিক সদস্যের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ডিলিট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে । তাঁরা আদৌ আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে এখন সন্ধিহান নবাব পরিবারের সদস্যরা । এই ঘটনার পর তারা যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালে।
advertisement

যদিও ‘শুনানি’র নোটিশ পেয়ে নবাব বংশের সদস্যরা সব নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু শুনানির পরেও পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায় , ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ব্রিটিশের সহায়তায় মসনদে বসেন মীরজাফর। বর্তমানে তাঁর ১৫ তম বংশধর মহম্মদ রেজা আলি মির্জা, (যিনি মুর্শিদাবাদে ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত) এখনও ‘কিল্লা নিজামত’ এলাকার ঘণ্টা ঘরের কাছে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন । ১৬তম বংশধর সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জাও বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। ‘কিল্লা নিজামত’ চত্বরে নবাব পরিবারের আরও বহু সদস্যর বাস। তাঁদের অনেকের নামও ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

advertisement

মীরজাফরের ১৬তম বংশধর তথা মুর্শিদাবাদ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ফাহিম আলি মির্জা বলেন, “আমার বাবা একসময় রাজ্য সরকারের অধীনে নবাবী এস্টেটে চাকরি করতেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা ও আমার নাম ছিল, আমরা ভোটও দিয়েছিলাম।” তবে এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় লালবাগের নব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২১ নম্বর বুথে যেখানে নবাবি পরিবারের সদস্যরা ভোট দেন, সেখানে প্রায় ৮৫০ জনের মধ্যে ২৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে, যাঁদের বেশিরভাগই নবাব পরিবারের। বাদ পড়া ভোটারদেরদের মধ্যে ফাহিম, তাঁর বাবা, স্ত্রী, জ্যাঠা মহম্মদ আব্বাস আলী মির্জার দুই মেয়ে ও বড় ছেলে রয়েছেন।

advertisement

গলায় আক্ষেপ নিয়ে ফাহিম বলেন, “মুর্শিদাবাদ শহরে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ থেকে অন্যান্য নবাবি স্থাপত্য, সব আমাদের পূর্বপুরুষের তৈরি। অথচ ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে দেওয়া হল। আমার পূর্বপুরুষ (মীরজাফরের ১৩ তম বংশধর) সৈয়দ ওয়াসিফ আলি মির্জাকে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পরিবার চিরকাল ভারতীয়। শুনানির নোটিশ পেয়ে নির্বাচন কমিশনকে সম্মান জানিয়ে অসুস্থ শরীরে আমার ৮২ বছর বয়সি বাবা নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে সব নথি জমা দেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হল না “

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
মর্গে চলছে ময়নাতদন্ত, কান্নায় ভেঙে পড়লেন রাহুলের মামা-মামিমা
আরও দেখুন

আক্ষেপের সুরে ছোটে নবাব রেজা আলি মির্জা জানান, “নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে আবেদনের পথ আছে, আমরা সেখানে আবেদন করব। কিন্তু শুনানি হতে এত সময় লাগবে যে ততদিনে বিধানসভা ভোট পেরিয়ে যাবে। পরিবারের কেউই এবছর ভোট দিতে পারবেন না।”

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
WB Assembly Elections 2026: মুর্শিদাবাদের শেষ নবাব পরিবারের নাম বাদ এসআইআর-এ, ভরসা এবার ট্রাইব্যুনাল
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল