বিগত বিধানসভা গ্রাম পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে ভোটে রাজনৈতিক হিংসা দেখেছে পূর্ব মেদিনীপুর। এমনকি এই রাজনৈতিক হিংসায়ে প্রাণ হারিয়েছে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। আবার নির্বাচনের দিন বুথে বুথে রিগিং ও অবাধ ছাপ্পা দেওয়ার খবর শিরোনামে উঠে এসেছে। আবার অনেক সময় নির্বাচনের কাজে বা ভোটের দিন সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠেছে। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আর সেসব না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া চালাতে কড়া দাওয়াইএর ব্যবস্থা করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে ও ভোটের দিন সরকারি কর্মচারীরা বাধা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং এফআইআর করা হবে।
advertisement
নিমতৌড়ি জেলাশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এমনই কড়া অবস্থানের কথা জানালেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। জেলাশাসক জানান, “জেলায় আগামী ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ মে প্রকাশিত হবে ফলাফল। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। নির্বাচনের সময় কোনও সরকারি কর্মচারী বা অন্য কোনও কর্মী যদি দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন বা কাজে বাধা সৃষ্টি করেন, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রশাসনের মূল লক্ষ্য যে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন জেলাশাসক। বিগত নির্বাচনে যেসব এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেসব এলাকাকে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়ানো যায়। তবে এখনও পর্যন্ত কতগুলি বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জেলাশাসক জানান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় অতীতে ভোটের সময় উত্তেজনার নজির রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবারের নির্বাচনে যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয়, তার জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।