বাউল শুধু গান নয়, এটি একটি জীবনযাত্রা। এই দর্শনকেই আপন করে নিয়েছেন এই দুই বিদেশি শিল্পী। বাউল আখড়ায় দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁদের নাম হয়েছে যমুনা ও নবনীত। ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হলেও এখন সাবলীলভাবেই বাংলায় বাউল গান পরিবেশন করছেন তাঁরা। লালনের নানা পাঠ ও দর্শন রপ্ত করে গুরুমার অনুমতিতেই এখন বিভিন্ন মঞ্চে গান গাইছেন এই দুই শিল্পী।
advertisement
এদিন কল্যাণগড় পৌরসভার কচুয়া মোড় সংলগ্ন অশোকনগর উৎসবে দেশি বাউল শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া এই দুই বিদেশি শিল্পীর পরিবেশনা দেখে রীতিমতো অবাক হন দর্শকরা। তাঁদের গানের টানে ভিড় জমে যায় উৎসব প্রাঙ্গণে। বাদ যায়নি কচিকাঁচারাও। হাতে তাল দিতে দিতে সকলে মন দিয়ে শোনেন বাউল সংগীত।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বাংলা-সহ দেশ-বিদেশে বাউল সংগীতের জনপ্রিয়তা যে ক্রমশ বাড়ছে, ভ্যালিডি ও স্যামুয়েলের বাউলপ্রের তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। বর্তমানে তাঁরা শান্তিনিকেতনের সন্তান সেবাশ্রম সংঘের আখড়ায় থেকে বাউল সংগীতের পাঠ নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দুই বিদেশি বাউল শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদেশের মাটিতেই প্রথম বাউল সংগীত শোনেন তাঁরা। সেই সংগীতের গভীর দর্শন ও সুরে মুগ্ধ হয়ে নিজের দেশ ছেড়ে ভারতে এসে বাউল সাধনার পথে নামেন। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলনের পর আজ তাঁরা প্রতিষ্ঠিত শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন মঞ্চে গান পরিবেশনের সুযোগ পাচ্ছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
নিজেদের গান নিয়ে তাঁরা জানান, বাউল সংগীত পরিবেশন করতে পারা তাঁদের কাছে পরম আনন্দের। বাংলার এই লোকসংগীতকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও জনপ্রিয় করে তোলাই এখন তাঁদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছেন এই দুই বিদেশি বাউল শিল্পী।





