বুধবার রাতে চুঁচুড়ার প্রিয়নগরে বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের বাড়িতে যান চুঁচুড়ার বাম সমর্থীত ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী সুনীল সাহা। অসিত মজুমদারের বাড়ি গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা হয়। কথাবার্তা শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন সুনীল সাহা। ঠিক তখন হঠাৎই অসিত মজুমদারের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। বাম প্রার্থীকে দেখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন দেবাংশু। দু’জনে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। বেশ কিছুক্ষণ দু’জনের মধ্যে রাজনৈতিক কথাবার্তা হয় এদিন।
advertisement
পরে দেবাংশু চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। দেবাংশু তাঁর বাড়িতে যেতেই মানভঞ্জন হল অসিতের! ব্যাট ধরলেন দেবাংশুর হয়েই। প্রার্থী না করায় অভিমানের সুর ঝরে পড়েছিল অসিত মজুমদারের গলায়। জানিয়ে দিয়েছিলেন আর রাজনীতি করবেন না। চুঁচুড়া থেকে তিন বারের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন অসিত মজুমদার। তৃণমূল কংগ্রেস এবার তাঁকে টিকিট দেয়নি। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পর অভিমানী অসিত জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাজনীতি আর করবেন না তিনি। ওকালতি পেশায় ফিরে যাবেন। সময় কাটাবেন বই পড়ে এবং ক্লাব সংগঠন করেই।
অসিত মজুমদারের অভিমানের কথা কানে যেতেই দেবাংশু বুধবার প্রিয়নগরে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। অসিত দেবাংশুকে জড়িয়ে ধরেন। তারপর ম্যারাথন আলোচনা হয় দু’জনের মধ্যে।
সুনীল সাহা বলেন, ‘‘সবটাই সৌজন্য এর মধ্যে কিছু খোঁজা অর্থহীন। রাজনীতিতে সৌজন্য থাকা উচিত। মানুষ যাকে ভোট দেবে সেই জিতবে। বয়সের ছোট বড়, এমনটা নয়। ময়দানে লড়াই চলবে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা থাকবে।’’
অসিত মজুমদারের বাড়িতে আসা প্রসঙ্গে সুনীল বলেন , ‘‘শুধু অসিত দা-র বাড়িতে এসেছি এমনটা নয়। কিছুটা শহরে যে সমস্ত বর্ষিয়ান লোকেরা আছেন সে যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন তাদের বাড়িতে আমি যাচ্ছি। আমি বামফ্রন্টের প্রার্থী, আমার একটা নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে সকলের কাছে যাওয়ার । এটা একটা নৈতিকতা সে কারণেই আমি সাক্ষাৎ করে গেলাম । এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ব্যাপার নেই ।’’
তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে দেবাংশু বলেন, ‘‘অসিত দা সিনিয়র মানুষ ৷ তাঁর কাছ থেকে আশীর্বাদ নিতে সবাই আসবে। অসিত দা-র সঙ্গে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী যখন এসেছিলেন দেখা করতে, ঠিক তখনই আমার সঙ্গে দেখা হল ৷ আমি তাঁকে প্রণাম করে শুভেচ্ছা জানিয়েছ, আগামী দিনে লড়াই করার জন্য। তিনি আমার সিনিয়র আমি তাঁকে প্রণাম করেছি। এটাই চুঁচুড়ার বিশেষত্ব, সে কারণেই চুঁচুড়া সবার থেকে আলাদা।’’
অসিত মজুমদার বলেন, ‘‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দলের যারা কর্মী, জনপ্রতিনিধি তৃণমূলের টিকিটের জয়ী হয়েছেন তারা আশা করি দলের প্রার্থীকে জেতার জন্য কাজ করবেন। দেবাংশুকে আলাদা করে চেনানোর দরকার নেই, ওকে সবাই চেনে। আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। আমি বলেছিলাম কর্মীদের সঙ্গে বসব এবং বসে সিদ্ধান্ত নেব তৃণমূলটা করবো কি না।’’ তাহলে কি অন্য দলে যাওয়ার কথা ভাবছেন? সে উত্তর অবশ্য পাওয়া যায়নি অসিত মজুমদারের কাছ থেকে।
