ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার বিকেলে, যখন রাঙ্গামাটি ফেরিঘাটে দামোদর নদ থেকে বালি উত্তোলনের সময় পে-লোডারের খননে আচমকাই উঠে আসে তিনটি ভারি লোহার গোল বস্তু। প্রথমে স্থানীয়রা বিষয়টি লক্ষ্য করে সোনামুখী থানায় খবর দেন। পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বোমাগুলিকে বালি দিয়ে ঢেকে নিরাপদ অবস্থায় রাখে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, এগুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এবং সম্ভবত আমেরিকার তৈরি।
advertisement
পরবর্তী কয়েকদিন ধরে গোটা এলাকা কার্যত পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে ছিল। নদীর ওই অংশে বালি তোলা বন্ধ রাখা হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। অবশেষে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট পৌঁছে বোমাগুলিকে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে গিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। বিস্ফোরণের মুহূর্তে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং স্থানীয়দের ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হয়। এই ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, তবে একইসঙ্গে নতুন করে আতঙ্কও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, নদীগর্ভে আরও এমন বিস্ফোরক থাকতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ভবিষ্যতে নদী এলাকায় খননের আগে বিশেষ সমীক্ষা চালান হবে এবং সন্দেহজনক কিছু দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। যুদ্ধের প্রায় আট দশক পরেও দামোদরের বুকে লুকিয়ে থাকা এই বিস্ফোরক, যুদ্ধের স্মৃতি কতটা ভয়ংকর হতে পারে তারই প্রমাণ দিল।





