কেন্দ্রের দাবি, এই রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণে সাহায্য করছে না, আর রাজ্যের দাবি কেন্দ্র এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ না দেওয়াই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। ২০০৮ সালে তৎকালীন লোকসভার অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এসেছিলেন সুন্দরবনে। বাসন্তীর কুলতলিতে তাঁর হাতে এই রেলপথের দাবি নিয়ে এলাকার দুই লক্ষ মানুষের সই করা আবেদনপত্র তুলে দেন তৎকালীন সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য লোকমান মোল্লা। দিল্লি ফিরে সেই দাবি তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবকে তুলে দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। দিল্লিতে দ্রুত ফাইল চালাচালিও হয়। ২০০৯ সালে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন তখন এই রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। মাতলা নদীর উপর রেল সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়।
advertisement
কিন্তু নদীর উপর কয়েকটি কংক্রিটের খুঁটি তৈরি হয়েই কাজ সম্পূর্ণ থমকে যায়। তারপর থেকে এই রেলপথ সম্প্রসারণের কোনও অগ্রগতিই হয় নি আজ পর্যন্ত। এদিকে রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয় সে কারণে সুন্দরবনবাসী নাগরিক মঞ্চ তৈরি করেন। নানা ভাবে রেল দফতরে আবেদন নিবেদন করেন। একের পর এক রেলমন্ত্রীর কাছে তাঁদের দাবি-দাওয়া পৌঁছে দেন। কিন্তু কোনও লাভ হয় নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও চিঠি দেওয়া হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয় প্রত্যুত্তর চিঠিতে। কিন্তু ঐ আশ্বাসই সার, আজও কাজ শুরু হয়নি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সম্প্রতি ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেটেও নুন্যতম এক টাকাও বরাদ্দ হয় নি রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য। সূত্রের খবর, এই রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে সেই জমি অধিগ্রহণের কাজে সাহায্য করছে না রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কারকে) এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে বলা হলেও কোনও উদ্যোগ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। যদিও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চায় নি।
ফলে আজও সুন্দরবনের ঝড়খালি পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ এলাকার মানুষের কাছে অধরা। লোকমান মোল্লা বলেন, “সুন্দরবনের ৫০ লক্ষ মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর তাই সারা দেশের উন্নয়ন এই প্রত্যন্ত এলাকায় এসে পৌঁছয় না। আমরা নাগরিক মঞ্চ তৈরি করেছি, আন্দোলন চলছে। এই রেলপথ সম্প্রসারণ হলে একদিকে যেমন সুন্দরবনে পর্যটন অনেক উন্নতি করত, তেমনই এই এলাকার অর্থনীতিও অনেক বদলে যেত। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই তা সম্ভব হবে।”






