ছোটবেলা থেকেই আঁকিবুঁকি, কাগজ কেটে বিভিন্ন মডেল বানানো আর রঙ নিয়ে কাজ করার প্রতি অদ্ভুত টান ছিল শিবনাথের। আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল না হলেও স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। ধীরে ধীরে নিজে নিজেই শিখেছেন ফাইবার, থার্মোকল, কাপড় ও রঙ ব্যবহার করে বড় বড় চরিত্রের মূর্তি ও কস্টিউম বানানো। প্রথমদিকে পাড়ার ছোটখাটো অনুষ্ঠানে কাজ করলেও এখন তার তৈরি চরিত্র ছাড়া অনেক বার্থডে পার্টিই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
advertisement
কলকাতার বিভিন্ন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এখন নিয়মিত যোগাযোগ রাখে শিবনাথের সঙ্গে। বিশেষ করে শিশুদের থিম পার্টিতে তার তৈরি কার্টুন চরিত্রের চাহিদা ব্যাপক। শুধু মডেল নয়, তিনি নিজেই অনেক সময় চরিত্রের পোশাক পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন, যা শিশুদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
আরও পড়ুন : পাঁচদিন ধরে চলে পুজোপাঠ-আরতি, ঐতিহ্য মেনে ভক্তরা মেতে উঠলেন প্রাচীন গণেশজননীর আরাধনায়
তবে শিবনাথের সাফল্যের আসল গল্পটা শুধু ব্যক্তিগত নয়। তাঁর এই কাজকে কেন্দ্র করে গ্রামের আরও কয়েকজন যুবক-যুবতী আজ নিয়মিত উপার্জন পথ পেয়েছেন। কেউ রঙের কাজ করেন, কেউ কাটিং-সেলাই, কেউ আবার মডেল তৈরিতে সাহায্য করেন। ফলে একধরনের ছোট শিল্পগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে গ্রামেই। শিবনাথ বলেন, “শহরে কাজ করতে এসে বুঝেছি, প্রতিভা থাকলে গ্রামের ছেলে হয়েও বড় কিছু করা যায়।” তার স্বপ্ন, একদিন নিজের একটি বড় ওয়ার্কশপ খুলে আরও বেশি মানুষকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া। গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়েই স্বপ্ন ছোঁয়ার এই গল্প আজ অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা।