কোনও অপরাধের ঘটনার পর অতি উৎসাহ দেখিয়ে ক্রাইম সিনে প্রবেশ করা বড়সড় সমস্যার কারণ হতে পারে। এতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ। সমাজের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেন বিশিষ্ট অপরাধ বিজ্ঞানী ড. মৌসুমী রক্ষিত।
advertisement
তিনি জানান, অপরাধ ঘটার পর ফরেনসিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সময় এবং পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই বহু মানুষ সেখানে প্রবেশ করেন, ফলে প্রকৃত তথ্য বিঘ্নিত হয়। এই প্রবণতা থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। এই সমস্যা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের জন্য চালু করেছে আধুনিক মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব ভ্যান।
জলপাইগুড়িতেও এই বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্য ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি ও নির্ভুলতা-দুটিই বাড়বে বলে আশা। এরই সঙ্গে ফরেনসিক বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা, পড়ুয়াদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করা হয় এখানে। কলেজে পড়াকালীন ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করলেই মিলতে পারে এই সুযোগ।
উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার অপরাধ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তদন্তের দায়িত্বে থাকা বঙ্গতনয়া ড. মৌসুমী রক্ষিত আরও জানান, ফরেনসিক সায়েন্স বা অপরাধ বিজ্ঞান অপরাধ ও অপরাধীর ধরনকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে বিচার ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই এই বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আসে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ফরেনসিক বিজ্ঞানের ইতিহাস প্রসঙ্গে উঠে আসে দুই কৃতি বঙ্গ সন্তানের নাম। ১৯৫২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধান চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে ফরেনসিক বিভাগ প্রতিষ্ঠার ভাবনা বাস্তবায়িত হয়। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন ভারতের ফরেনসিক বিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ ড. ষষ্ঠী চৌধুরী। আর.জি.কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি স্টেট ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার জন্য স্থাপিত জলপাইগুড়ি রিজিওনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (RFSL) দেশের অন্যতম সেরা ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের মুকুট ধরে রেখেছে। ড. মৌসুমী রক্ষিতের বার্তা স্পষ্ট, আইনের সহায়ক হতে হলে আগে সচেতন হতে হবে। ক্রাইম সিনে নয়, দায়িত্বশীল আচরণেই লুকিয়ে রয়েছে ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ।





