উদ্ধার হওয়া তাম্রলিপি থেকে জানা যায়, পাল বংশের রাজা মদনপাল তাঁর প্রধান রানি চিত্রমতিকাদেবীকে মহাভারত পাঠ করে শোনানোর দক্ষিণাস্বরূপ এক ব্রাহ্মণকে একটি গ্রাম দান করেছিলেন। সেই গ্রামই বর্তমানে মনোহোলি গ্রাম নামে পরিচিত।
advertisement
ইংরাজির ১৮৯০ সাল নাগাদ মনোহোলি গ্রামে ছিল ডাকাতদের দাপট। ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল ডাকাতের ডেরা। ভয়ঙ্কর ডাকাত দলকে সরিয়ে তারাচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় মনোহোলি রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন। বর্ধমান জেলার কাটোয়ার সিন্নি গ্রাম থেকে এসে মনোহোলি গ্রামে নিজের জমিদারি স্থাপন করেন তিনি। পরবর্তীকালে ডাকতদেও সমাজের মূল স্রোতে ফেরান তিনি। তাঁর হাত ধরেই জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। পুজোর জন্য একটি মন্দির দালানও তৈরি করান তিনি। এই পুজো অবিভক্ত দিনাজপুরের বনেদি বাড়ির পুজোর মধ্যে অন্যতম। জমিদার পরিবার থেকে বর্তমানে সর্বজনীন রূপ নিয়েছে প্রাচীন এই পুজো।
একসময় এই জমিদার বাড়িতে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব এবং নহবত বসত। তবে কালের নিয়মে জমিদার ও জমিদারি প্রথা সবই ঘুচেছে। পড়ে রয়েছে ভগ্নপ্রায় প্রাসাদ। যা এখনও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। পর্যটকদের কাছে মনোহোলির এই রাজবাড়ি অন্যতম একটি আকর্ষণ। বহু ইতিহাসপ্রেমীও জায়গাটি পরিদর্শন করতে আসেন।
কীভাবে যাবেন মনোহোলি রাজবাড়ী?
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে আপনাকে প্রথমে ট্রেনে করে বালুরঘাট আসতে হবে। স্টেশন থেকে রাজবাড়ির দূরত্ব সড়কপথে প্রায় ৩১-৩৪ কিমি। তপন-বালুরঘাট বাইপাস রোড হয়ে নিজস্ব গাড়ি, ট্যাক্সি বা বাসে করে মনোহোলি পৌঁছে যাবেন। সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা।
এছাড়া কলকাতা বা শিলিগুড়ি থেকে বালুরঘাটগামী এনবিএসটিসি (NBSTC) বা বেসরকারি বাসে চেপে বালুরঘাট বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় যানে তপন ব্লকের মনোহোলি গ্রামে যাওয়া যায়।
