নির্বাচন মানেই পতাকা আর পতাকা মানেই বাঁশের বাতা। প্রতি নির্বাচনের মতো এবারও এই ছোট্ট উপকরণকে ঘিরেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাজার। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট কারখানা বা বাড়ির উঠোনে বসেই তৈরি হচ্ছে এই বাতা। কোথাও দু’জন, কোথাও আবার তিনজন শ্রমিক নিয়ে চলছে কাজ। সকাল থেকে সন্ধ্যা, অবিরাম কাটাকুটি, মাপজোক আর বাঁধাইয়ের মধ্যেই তাঁদের দিন কাটছে।
advertisement
বিক্রেতাদের মতে, গতবারের তুলনায় এবার কিছুটা দাম বেড়েছে। গত নির্বাচনে যেখানে একটি বাতা ৪ টাকায় বিক্রি হত, এবার তা বেড়ে ৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক বান্ডিলে থাকছে ১০০টি বাতা, যার দাম রাখা হচ্ছে ৫০০ টাকা। তবে বড় অর্ডার বা দরদাম হলে কিছুটা ছাড়ও দিচ্ছেন বিক্রেতারা। ইতিমধ্যেই অনেকের ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত বাতা বিক্রি হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় থেকেও অর্ডার আসছে।
বিক্রেতা মোহাম্মদ বাবুল বলেন, “নির্বাচন এলেই আমাদের কাজ বেড়ে যায়। এবার দাম একটু বাড়াতে হয়েছে, কারণ কাঁচামালের খরচ বেড়েছে। তবে বিক্রি ভালই হচ্ছে, এখনও অনেক দিন বাকি। আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”
অন্যদিকে জাহানারা বেগমের কথায়, “আমরা বাড়ি বসে এই কাজ করি। স্বামী-স্ত্রী মিলে বানাই। দিনে যত বেশি বানাতে পারি, তত বেশি লাভ। এবারে ভালই অর্ডার আসছে, বড় বড় দলগুলো একসঙ্গে অনেক নিচ্ছে।”
জয়ন্ত ঘোষ জানান, “আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরেই কাজের চাপ বেড়েছে। এখন প্রতিদিন কয়েকশো করে তৈরি করছি। পাইকারি নিলে একটু কম দামে দিচ্ছি, তাই ক্রেতারও সুবিধা হচ্ছে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই শিলিগুড়িতে জমে উঠেছে বাঁশের বাতা ব্যবসা। বড় বড় মঞ্চের আড়ালে এই ছোট্ট শিল্পই হয়ে উঠেছে বহু মানুষের রুজির পথ। ভোট যত এগোবে, ততই বাড়বে চাহিদা— এমনটাই আশায় বুক বাঁধছেন এই পরিশ্রমী বিক্রেতারা।





