সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরাসরি সহযোগিতা চাওয়ার মধ্য দিয়েই সমর্থন গড়ার এই পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছে বামেরা। মুষ্টিভিক্ষার মত ছোট ছোট সহায়তাকেই বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন বাম কর্মী ও প্রার্থীরা। সেই লক্ষ্যেই পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে তারা।
আরও পড়ুন: ATM-এ টাকা তুলতে গিয়ে মেশিনে আটকে গিয়েছে কার্ড? টানাটানি নয়, সঙ্গে সঙ্গে করুন এই কাজ…এখনই জানুন
advertisement
এতে মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও দৃঢ় হচ্ছে বলে মনে করছে দল। এই আহ্বানে কেউ টাকা দিচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন চাল। বহু বছর আগে বামপন্থীদের যে ঝোলা কাঁধে প্রচারের ছবি দেখা যেত, সেই দৃশ্য যেন আবার ফিরেছে। তবে এবার তা নতুন প্রজন্মের হাত ধরে।
একসময় রাজ্যে বামেদের দীর্ঘ শাসন ছিল। তখন নির্বাচনী খরচের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে সাহায্য আসত। পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন সবই পৌঁছে যেত প্রার্থীদের হাতে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। তহবিলে টান পড়েছে।
তহবিলে ভাটার টান তাই ছোট ছোট উদ্যোগেই চলছে প্রচার। পাড়া বৈঠকের পর কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে যাচ্ছেন প্রার্থী। ভোট চাইছেন, পাশাপাশি দলের জন্য সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রচারের সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে কর্মীদের ডাল-ভাতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
প্রার্থী সৈকত গিরি বলেন, “এই লড়াই সাধারণ মানুষের জন্য। কোনও বড় কর্পোরেটের অর্থে নয়, মানুষের ছোট ছোট সাহায্যেই এগোতে চাই।” পটাশপুরে সিপিআই সমর্থক সরকারি কর্মীর সংখ্যা আগেও খুব বেশি ছিল না। এখন তাঁদের অনেকেই অবসর নিয়েছেন। ফলে আর্থিক ভরসা আরও কমেছে।
এই অবস্থায় অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে প্রার্থী। ডিজিটাল মাধ্যমে আবেদন জানান হচ্ছে সমর্থকদের কাছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ঝোলা-রাজনীতিতেই ফিরতে হচ্ছে সিপিআইকে। মানুষের সহানুভূতি জোগাড়ই এখন ভরসা। এখন দেখার, এই আবেগনির্ভর প্রচার কতটা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারবে।





