সিকিম প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই মহিলা কন্যা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে উত্তর সিকিম ভ্রমণে গিয়েছিলেন। লাচুংয়ের ফকায় একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯,৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লাচুংয়ে পৌঁছনোর পর থেকেই তাঁর শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার তাঁরা ১৫,৩০০ ফুট উঁচু জিরো পয়েন্ট ও ইউমথাং ভ্যালি ঘুরে হোটেলে ফেরেন।
advertisement
জিরো পয়েন্ট থেকে ফেরার পরই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে তিনি ঘুমোতে গেলেও মাঝরাতে হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটে। ঘনঘন বমি, তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে লাচুংয়ের সেনা মেডিক্যাল ক্যাম্পে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, উচ্চতায় ওঠার ফলে হওয়া ‘হাই অল্টিটিউড সিকনেস’-ই মৃত্যুর কারণ। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ভ্রমণের আগে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত নিচু এলাকায় নেমে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি জীবনরক্ষাই যে সবচেয়ে জরুরি, সেই বার্তাই আবারও সামনে এল এই ঘটনায়।






