রাঢ়বঙ্গের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা। মন্দির ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। নববর্ষ হোক কিংবা অন্য কোনও শুভ কাজ দেবী চরণে পুজো দিয়ে শুরু করেন বর্ধমানবাসী। আর শুধু বর্ধমানই নয়, বর্ধমানের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও বহু ভক্ত আসেন এখানে। মন্দিরের দক্ষিণ দিকে দরজা দিয়ে প্রবেশ করলেই প্রথমেই চোখে পড়ে টেরাকোটার কাজে সুসজ্জিত দুইটি শিব মন্দির, ইন্দ্রেশ্বর ও চন্দ্রেশ্বর। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের বিষয়ে আমরা নানা ইতিহাস জানলেও অনেকেই জানেন না এই মন্দিরগুলিকে প্রতিষ্ঠা।
advertisement
আরও পড়ুন: হাহাকার বীরভূমে! হাঁড়ি-বালতি নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ, কাঠফাটা গরমের আগেই কেন জলকষ্ট? ফুঁসছেন বাসিন্দারা
আসলে এই মন্দিরগুলি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের প্রথম রাজা চিত্রসেন। ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ বলেন, শিব মন্দির দু’টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বর্ধমানের যিনি প্রথম রাজা উপাধি পেয়েছিলেন অর্থাৎ চিত্রসেন রাই। তার দু’জন স্ত্রী ছিলেন। একজন হলেন ইন্দ্র কুমারী, অন্যজন হলেন ছন্দ কুমারী। তার দুই স্ত্রীকে খুশি করার জন্যই তিনি বানিয়েছিলেন এই দুই শিব। নাম দিয়েছিলেন চন্দ্রেশ্বর ও ইন্দ্রেশ্বর। মন্দিরে গেলেই দেখা যায় মন্দিরের গায়ে শিলা ফলকে দেবতার প্রতি উৎসর্গ করা এই দুই মন্দির তার যে লেখো সে দু’টি দেখতে পাওয়া যায়। এই মন্দির দু’টি গর্ভগৃহে প্রবেশদ্বারের ওপরে রয়েছে দু’টি টেরাকোঠার কাজও। তার মধ্যে একটি হল দেবী দুর্গার টেরাকোটা যা, রাঢ়বঙ্গের বিরল টেরাকোটার মধ্যে একটি। টেরাকোটা গবেষকরাও এই মূর্তিটির বিশেষ গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরে অবস্থিত রাজা চিত্রসেনের তৈরি এই দুই শিব মন্দির আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাংলার স্থাপত্যশৈলী আর পারিবারিক ইতিহাসের এক অনন্য মেলবন্ধন। ইন্দ্রেশ্বর আর চন্দ্রেশ্বরের গায়ে খোদাই করা সেই প্রাচীন টেরাকোটার কারুকার্য আজও নিভৃতে সাক্ষী দিয়ে চলেছে এক হারানো সময়ের।





