সেই ইচ্ছে পূরণের পথ খুঁজে পায় একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবে। বাবার স্মার্টফোনে রিলস দেখতে দেখতেই প্রথম পরিচয় যোগাসনের সঙ্গে। রঙিন ভিডিওর ভিড়ে হঠাৎই নজর কেড়ে নেয় শরীরচর্চার সেই ভঙ্গিমা। আর সেখান থেকেই শুরু নতুন স্বপ্ন। প্রথমে কৌতূহল। তারপর ধীরে ধীরে আগ্রহ। সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে নিজেই অনুশীলন শুরু করে স্বর্ণজিতা। বাড়ির উঠোনই হয়ে ওঠে তার প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কোনও প্রশিক্ষক ছিল না পাশে। ছিল শুধু অদম্য ইচ্ছে। ভিডিও থামিয়ে থামিয়ে শিখত প্রতিটি আসন। বারবার চেষ্টা করত। ভুল হলে আবার শুরু করত। পরিবারও ধীরে ধীরে উৎসাহ দিতে শুরু করে। পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত অনুশীলন চলতে থাকে। গ্রামের প্রতিবেশীরাও অবাক হয়ে দেখতেন তার একাগ্রতা। খুব অল্প সময়েই কঠিন কঠিন আসন রপ্ত করে ফেলে সে। তার শরীরের নমনীয়তা আর মনোযোগ সবাইকে চমকে দেয়।
advertisement
এরপর সুযোগ আসে স্কুলের যোগাসন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার। সেখানেই প্রথম মঞ্চে ওঠা। আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয় স্বর্ণজিতা। একের পর এক আসন নিখুঁতভাবে প্রদর্শন করে। বিচারকদের প্রশংসা কুড়ায়। প্রতিযোগিতায় জয়ও পায়। সেখান থেকেই শুরু তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা। পরে স্থানীয় প্রশিক্ষকের কাছে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে। মহকুমা স্তরে সাফল্য আসে। তারপর জেলা স্তরেও সেরার তালিকায় নাম লেখায়। সাফল্যের ধারা থেমে থাকেনি। রাজ্যস্তরের মঞ্চেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছে সে। একাধিক মেডেল জিতে আজ সে জেলার ক্রীড়া মহলে পরিচিত নাম। প্রত্যন্ত গ্রামের এই ছোট্ট স্বর্ণজিতার আজ অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে।
যে বয়সে অধিকাংশ শিশু মোবাইল গেম বা বিনোদনে ব্যস্ত, সে বেছে নিয়েছে শেখার পথ। স্মার্টফোনের রিলসকেই বানিয়েছে শিক্ষার মাধ্যম। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও যে বড় স্বপ্ন দেখা যায়, তা প্রমাণ করেছে সে। ইচ্ছে আর পরিশ্রম থাকলে পথ তৈরি হয় নিজে থেকেই। ভবিষ্যতে জাতীয় স্তরেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছে স্বর্ণজিতা। ছোট্ট এই মেয়েটির সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে, প্রতিভা কোনও সীমান্ত মানে না। সুযোগ পেলে গ্রামের মাটিও জন্ম দিতে পারে রাজ্য কাঁপান তারকা।