জেলা কৃষি আধিকারিক ও স্থানীয় এফপিসি-র সহযোগিতায় আয়োজিত শিবিরে হাতে-কলমে দেশি বীজের রক্ষণাবেক্ষণের পাঠ নিলেন ৪০ জন কৃষক ও উৎসাহী যুবক-যুবতী। এদিন প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল আকর্ষণ ছিল কৃষকদের নিয়ে আসা বীজের বৈচিত্র্য। প্রায় ৭০টি ভিন্ন জাতের দেশীয় ধান, পাহাড়ি ও সমতলের আলু এবং হরেক রকমের মরশুমি সবজি ও ফলের বীজ তুলে ধরা হয়।
advertisement
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কেবল ফলন বাড়ানো নয়, বরং পুষ্টি নিরাপত্তা ও জলবায়ুর প্রতিকূলতা সহ্য করার ক্ষমতা শুধু মাত্র দেশি বীজের মধ্যেই রয়েছে তা বারবার উঠে এসেছে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়। পূর্ব মেদিনীপুর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বীজ বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সুদীপ মণ্ডল এই শিবিরের নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, শুধু বীজ বুনেই দায়িত্ব শেষ নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তার জেনেটিক বিশুদ্ধতা বজায় রাখা, সিড ব্যাংক (Seed Bank) তৈরি এবং মানোন্নয়নের কৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি।”
বীজ সংরক্ষণের প্রধান দিকগুলি হল, ক্ষেত ভিত্তিক সংরক্ষণ। অর্থাৎ নিজের জমিতেই কীভাবে বীজের গুণমান বজায় রাখা যায়। কমিউনিটি সিড ব্যাংক বা পাড়ায় বা গ্রামে গোষ্ঠীগতভাবে বীজ ভাণ্ডার গড়ে তোলা। দেশীয় জাত সংরক্ষণের জন্য সরকারি ‘প্ল্যান্ট জিনোম সেভিয়ার অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো পুরস্কারের দিশা দেখান।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
দেশীয় বীজ বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, আর কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে – এই মন্ত্রকেই গ্রামের কৃষক ও যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। এদিনের কর্মসূচিতে শুধু চাষবাস নয়, বরং উৎপাদিত বীজকে কীভাবে বাজারে বিপণন করা যায়, সেই পাঠও দেওয়া হয়।
‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘জাতীয় কৃষি উন্নয়ন যোজনা’ (RKVY)-র অধীনে কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO) এবং মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে (SHG) আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন আধিকারিকরা। জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্দেশ্য, আগামী দিনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকে দেশীয় বীজ সংরক্ষণের অন্যতম ভাণ্ডার হিসাবে গড়ে তোলা।





