আরও পড়ুন: ভূমিকম্পের উৎসস্থল বাংলাদেশের খুলনা, তীব্রতা ৫.৫! কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কম্পন নিয়ে আপডেট
ড্রোনের এই অবাধ ওড়াওড়িতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে প্রশাসন! একটা সময় ছিল যখন ড্রোন মানেই ছিল যুদ্ধের সাজ বা বড়জোর সিনেমার শুটিং। প্রযুক্তি সস্তা হতেই ছবিটা বদলেছে। ইদানীং শহর থেকে গ্রাম যে কোনও অনুষ্ঠানে ক্যামেরা বসান ড্রোন ওড়ানোই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গোল বেঁধেছে ড্রোনের ‘রুচিপথ’ নিয়ে। অভিযোগ, শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, এমনকি স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও ড্রোনের উঁকিঝুঁকি থামছে না। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট ক্রিয়েশনের নামে যত্রতত্র ড্রোন উড়িয়ে চলছে কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। এবার প্রশাসনিক অনুমতি না নিয়েই যত্রতত্র ড্রোনের এই অবারিত দ্বৈরাচার রুখতে কোমর বাঁধছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।
advertisement
নিয়ম বলছে, ড্রোন ওড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট ‘ড্রোন নীতি’ রয়েছে। ওজন ও উচ্চতা ভেদে প্রয়োজন হয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের ছাড়পত্র। রেড রোড, রাজভবন কিংবা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মত এলাকায় ড্রোন ওড়ান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা ‘নো ড্রোন জোন’।
কিন্তু কে শোনে কার কথা! পুলিশ প্রশাসন সূত্রে খবর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় থানার অনুমতি না নিয়েই ওড়ান হচ্ছে ড্রোন। যান্ত্রিক ত্রুটিতে ভিড়ের মধ্যে ড্রোন ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে। ড্রোনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি চুরির ভয় বাড়ছে। এমনকি উপকূলবর্তী এলাকা, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, রেল স্টেশন বা লাইন সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোনের অবাধ বিচরণ চিন্তায় ফেলছে প্রশাসনকে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ এ বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ অবলম্বন করেছে, ড্রোন ওড়ান নিয়ে কড়া নজরদারি চালান হবে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, ড্রোন ওড়ানোর একটা সীমারেখা টানা জরুরি। কারণ ড্রোন ওড়ানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম ও আইন রয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে যদি সেই আইন বা নিয়ম ভাঙা হয় তাহলে যে ব্যক্তি ড্রোন ওড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেআইনিভাবে ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে যন্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে চালকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে। ড্রোনের লেন্সে প্রশাসনের কড়া নজর যে থাকছেই, তা বলাই বাহুল্য।