ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। মাত্র এক বছর বয়স থেকেই বই হাতে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যেত তাকে। মা-বাবা লক্ষ্য করেন, সে খুব দ্রুত যেকোনও বিষয় মনে রাখতে পারে। শুনে শুনেই অনেক কিছু মুখস্থ করে ফেলত। সেই অসাধারণ স্মৃতিশক্তি দেখে অবাক হয়ে যান তার বাবা-মা। এরপর থেকেই শুরু হয় তার নিয়মিত অনুশীলন। খেলার ফাঁকেই তাকে ছোট ছোট কবিতা শোনানো হত। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার শেখার পরিধি। এখন সে একটানা অনর্গল বলতে পারে ৪৫টি কবিতা। পাশাপাশি বলতে পারে ৫০টির বেশি সাধারণ জ্ঞান। একটানা বলে যেতে পারে ৩০টি দেশের নাম, তিনটি বৈদিক মন্ত্র।
advertisement
খুদে অবস্থাতেই দুষ্টুমির সঙ্গে তার পড়াশোনার অনুশীলন চলতে থাকে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে তাকে নতুন কিছু শেখানো হয়। আবার আগের শেখা বিষয়গুলোও বারবার বলানো হয়। দিশানীর বাবা দেবব্রত দাস অধিকারী বলেন, ‘এক বছর বয়স থেকেই তার বই পড়ার প্রতি আগ্রহ এবং মনে রাখার ক্ষমতা আমরা দেখতে পাই। সেই প্রতিভা আমাদের চমকে দেয়। তারপর আমরা তাকে নিয়মিত অনুশীলন দিতে শুরু করি। এখন সে একটানা সবকিছু বলতে পারে। তার এই প্রতিভা ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ নজর কেড়েছে।’
মা-বাবার ধৈর্য আর যত্নে ধীরে ধীরে তার প্রতিভা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দিশানী খুব মনোযোগ দিয়ে সবকিছু শোনে। তারপর একবার বা দু’বার শুনলেই তা মনে রাখতে পারে। তার এই অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং বলার ভঙ্গি অনেককেই মুগ্ধ করে। এত অল্প বয়সে এমন প্রতিভা দেখে এলাকাবাসীও অবাক হয়ে গেছেন। অনেকেই বাড়িতে এসে তার মুখে কবিতা ও সাধারণ জ্ঞান শুনে যান। ভবিষ্যতেও কন্যার এই প্রতিভা বিকাশে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পরিবারের আশা, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে দিশানী একদিন বড় মঞ্চেও নিজের প্রতিভা তুলে ধরতে পারবে।





