আরও পড়ুন: এখনও নিষ্পত্তি হয়েছে ৭.৫ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নাম, বাকি কত? জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন
ভাতার থানা এলাকার খুরুল গ্রামের বাসিন্দা,পেশায় ট্রাক্ট্রর চালক শিবদাস মাঝি। মেঠো পথ হোক বা ধুলোবালি মাখা পিচ রাস্তা, শিবদাসের লড়াইটা সহজ ছিল না কোনোদিনই। মাত্র ১১ বছর বয়সে সংসারের দায়িত্ব তুলে নিতে হয়েছিল নিজের কাঁধে। এমনকি পরিবারের আর্থিক অনটনের কারনে আর সুযোগ হয় নি পড়াশোনার।ছোট্ট বয়সেই ট্রাক্টরের স্টিয়ারিং ধরতে হয়ছিল তাকে। চাষের জমি চষতে চষতেই ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা। মাঠের পর মাঠ ঘুরে যে সামান্য উপার্জন হত, তা দিয়েই কোন রকমের চলত সংসার। ট্রাক্টরই হয়ে ওঠে তাঁর জীবিকার একমাত্র ভরসা। কিন্তু হঠাৎই ঘটে এক ছন্দপতন। প্রায় তেরো বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা বদলে দেয় তাঁর জীবন। যে ট্রাক্টর ছিল তার একমাত্র ভরসা সেই ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় তিনি হারান তার ডান পা।
advertisement
দীর্ঘ চিকিৎসা, যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তায় কেটে যায় বহুদিন। সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁর পক্ষে আর আগের মত কাজে ফেরা সম্ভব নয়, তবে হার মানেননি শিবদাস। এক বছর চিকিৎসা ও বিশ্রামের পর আবারও শুরু করেন লড়াই। এবার সঙ্গী একপা আর একজোড়া ক্রাচ। সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনার স্মৃতি তাড়া করলেও তিনি ফের উঠে বসেন ট্রাক্টরের সিটে। ধীরে ধীরে অনুশীলন করে ফের শুরু করেন কাজ। শুরুটা সহজ না হলেও,হাল ছাড়েননি তিনি।
প্রতিদিন ভোরে খুরুল গ্রামের নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে ওঠে একটি ট্রাক্টরের ইঞ্জিন। স্টিয়ারিং হাতে সেই চেনা যোদ্ধা শিবদাস মাঝি।শিবদাস মাঝি বলেন, সীমিত আয়ের মধ্যেও চার মেয়ের পড়াশোনা ও বিয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন সম্মানের সঙ্গে। এখন বাড়িতে ছোট সংসার স্বামী-স্ত্রী দু’জনের জীবন। তবুও প্রতিদিন ভোর হলে তিনি বেরিয়ে পড়েন কাজের সন্ধানে। কারন কাজই তাঁর বেঁচে থাকার শক্তি।
দুর্ঘটনা পাহাড়ের মত বাধা হয়ে দাঁড়ালেও, শিবদাসের ইচ্ছা শক্তির কাছে মেনেছে হার। শারীরিক বাধাকে তুচ্ছ করে এগিয়ে চলেছেন তিনি,হয়ে উঠেছেন সকলের অনুপ্রেরণা। কারণ এ লড়াই শুধু তার অন্ন সংস্থানের নয়,নিজের অস্তিত্ব রক্ষারও।