একাধিক পাঁজর ভাঙা, মেরুদণ্ডে চোট, মুখে গুরুতর আঘাত, দীর্ঘ চিকিৎসার পর কোনওভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এখনও রয়েছে প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো রোগ, মাঝেমধ্যেই ব্ল্যাকআউট হয়, এমনকি রাতে ঘুমোতে গেলে অক্সিজেন সাপোর্ট নিতে হয়। তবুও তিনি থামেননি।তাঁর কথায়, “মানুষের আশীর্বাদে বেঁচে আছি, তাই মানুষের জন্যই কাজ করি।” ভোর থেকে রাত, প্রায় পুরোটা সময়ই কাটান মানুষের মধ্যে। চিকিৎসার জন্য কখনও দিল্লি, কখনও হায়দ্রাবাদ যেতে হলেও, কাজের ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক রাখেন না। রাজনীতিতে তাঁর আসা মূলত অনুপ্রেরণার জায়গা থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাজ ও জনমুখী প্রকল্পই তাঁকে আকৃষ্ট করে।
advertisement
দীর্ঘদিন কংগ্রেস করার পর তিনি যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে এবং গত প্রায় দেড় দশক ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছেন। আউশগ্রাম এলাকার উন্নয়ন নিয়েও তিনি আশাবাদী। তাঁর দাবি, একসময় নকশালপ্রবণ ও অনুন্নত এই অঞ্চলে এখন রাস্তাঘাট, আলো, পানীয় জল থেকে শুরু করে নানা সরকারি প্রকল্প পৌঁছে গিয়েছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। জঙ্গলমহলের শান্তি ও পরিবর্তনকেও তিনি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, কষ্ট হলেও মানুষের কথা আমি ভাবি। যতদিন পারবো মানুষের জন্য কাজ করে যাব।
শুধু রাজনীতি নয়, মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই যেন সবচেয়ে বড় শক্তি। অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিদিন মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাওয়া, সমস্যার কথা শোনা, পাশে থাকার চেষ্টা,এই মানবিক দিকটাই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরছে।ভোটের আবহে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, তখন সেখ আব্দুল লালনের মতো এক নেতার এই লড়াই শরীরের সঙ্গে, পরিস্থিতির সঙ্গে এক অন্য বার্তা দেয়। রাজনীতি যে শুধুই ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানুষের জন্য কাজ করার দায়বদ্ধতাও, সেই ছবিটাই যেন সামনে আনছেন “দাতা লালন”।





