বড়ঞার সভা মঞ্চ থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মুর্শিদাবাদ সিল্ক থেকে ছানাবড়া মিষ্টি অনেক বিখ্যাত তাই এই জেলার নাম সকলের জন্য বিখ্যাত। কান্দি মহকুমার একাধিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। মুর্শিদাবাদে সব থেকে বড় সমস্যা গঙ্গা ভাঙন। ফরাক্কা ব্যারেজের কোন ড্রেজিং হয় না বলেই সেই জলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। মালদহ, মুর্শিদাবাদ বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা পড়তে হয়। গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে ছিল এখন আর নেই। গঙ্গা ভাঙন ও নদী ভাঙন রোখা যায় না।”
advertisement
সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, “বিজেপি গুন্ডারাজ শুধু থাকবে। আমি হিন্দু মুসলিম বা তপশিলী ভাগ করি না। আজকে বাংলা ভাষায় কথা বললে ওড়িশা অত্যাচার কর। আমরা বাংলায় দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে, তাদের আমরা ভাই-বোনের মতো ভালবাসি। আজকে বিজেপি সরকার দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। এসআইআর-এর নামে লাইন দেওয়ার জন্য মানষিক কষ্টে অনেকে মারা গিয়েছে। হিন্দু-মুসলিম দুই পক্ষ মারা গিয়েছে। আগুন লাগলে দুই পক্ষের থেকেই লাগে। আজকে বলা হচ্ছে যাদের নাম নেই, তারা নাকি অনুপ্রবেশকারী। আজকে অনুপ্রবেশ যদি করে থাকে। আজকে মতুয়া থেকে রাজবংশী এদের নাম কাটা হয়েছে। অনেকেই জানে ভোটের অধিকার সবার অধিকার।”
মমতা আরও বলেন, “আজকে নতুন নতুন লোক উঠেছে, আর ভাবছে সরকার দখল করবে। সারাজীবন লড়াই করেছি, আগামী দিনে লড়াই করে যাব। আজকে ঐতিহ্য সংস্কৃতি ভাবছে বিজেপি কেড়ে নেবে। যেমন যার ইচ্ছে সেটা খাবে, বাংলায় বিজেপি যদি খাবার নিয়ে কিছু বললে রেয়াত করা হবে না। মহিলাদের গায়ে হাত দিয়ে অসম্মান করলে রেয়াত করা হবে না। আজকে ওরা বাংলাকে টার্গেট করেছে। যে কোনও জায়গায় প্রার্থী ভুলে যান, সব জায়গায় প্রার্থী জোড়া ফুল। আপনাদের উপর হামলা করতে এলে রুখে দাঁড়াবেন।”
মমতা বলেন, “এত ওসি আইসি পরিবর্তন হচ্ছে মানেই ভোটের আগে গ্রেফতার করবে বলেই আইসি ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। এমন কোনও নোংরামো চক্রান্ত নেই যা করা হচ্ছে না আমার বিরুদ্ধে। তবে রাজ্যে বিজেপির যেতা কোনও সম্ভাবনা নেই। ওরা বাংলাকে টার্গেট করেছে, আমরা বাংলা জিতে দিল্লিকে টার্গেট করব। একটা ভোট ভাগাভাগি করবেন না। বিজেপির খেলা এখন ভোট কাটার জন্য কাউকে কাউকে ক্যাশ টাকা দিয়ে থাকে। একবার করা হয়েছে নোট বন্দি এখন করা হচ্ছে ভোট বন্দি। বিজেপি যতই কর চক্রান্ত, তুমি হবে ব্যর্থ। আজকে এত জনের নাম বাদ গেল তখন কংগ্রেস কী ঘুমিয়ে ছিল? হিন্দু মুসলিম ভাগাভাগি নয়। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন কর্ম হল ধর্ম। ধর্মের নাম সবাই কে এক করে রাখা। বাংলা থেকে বেশ কিছু জেলাকে ভাগ করে আলাদা রাজ্যে করার জন্য তৈরি আছে। বাংলা দখল করে থামবে না, এবার আমাদের টার্গেট দিল্লি। আমি সরকারে থেকেও বিরোধীতা করে।আমাকে ভয় করে বিজেপি। আমি লড়াই করতে জানি। লড়াই আমি আগেও করেছি। বিহারের ভোট নাম তুলে এখানেও নাম তোলা হচ্ছে। বিজেপি ভ্যানিস ওয়াসিং মেশিনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ।”
