পরিবেশ প্রেমীদের একাংশের দাবি পূর্ব বর্ধমান জেলা শাসকের দফতরের সামনে একপ্রকার অযত্নে পড়ে আছে বিরল প্রজাতির এই গাছটি। বিরল প্রজাতির এই গাছের খবর মিলতেই এই গাছ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষজন।
পরিবেশপ্রেমীদের একাংশের দাবি আফ্রিকান ‘বাওবাব অ্যাডানসোনিয়া’ গোত্রের সবচেয়ে বিস্মিত একটি প্রজাতি,যা মূলত আফ্রিকা মহাদেশ, দক্ষিণ আরব উপদ্বীপে দেখা যায়। এক একটি বাওবাব গাছ হাজার থেকে ১২০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এই ‘বাওবাব গাছ’ কোন কোন অঞ্চলে বানরুটি গাছ, উল্টো গাছ বা ক্রিম অফ টারটার গাছ নামেও পরিচিত।
advertisement
আরও পড়ুন: ভারতীয় ১০০ টাকার ‘মূল্য’ আমেরিকায় গেলে কত হবে জানেন…? চমকে দেবে আজকের ‘রেট’!
এই গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম অ্যাডান সোনিয়া ডিজিটাটা। পশ্চিমবঙ্গের বোটানিক্যাল গার্ডেনেও রয়েছে এই গাছ। তবে বর্ধমানে এই গাছ থাকাটি কিছুটা বিস্ময়কর। ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞরা নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন গাছটিকে নিয়ে। তবে এই গাছ বর্ধমানে এল কোথা থেকে?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আফ্রিকান ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল। আবার অনেকে মনে করছেন বর্ধমান মহারাজাদের হাত ধরেও বিদেশ থেকে এই গাছ বর্ধমানে আসতে পারে। কারণ বর্ধমানের গোলাপবাগ চত্বরে বহু বিদেশি গাছের দেখা মেলে যা বর্ধমান মহারাজদের হাত ধরেই আনা হয়েছিল।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপিকা শিখা দত্ত সেনগুপ্ত বলেন, বাওবাব গাছ মূলত শুষ্ক অঞ্চলের উদ্ভিদ হওয়ায় এর কান্ডে বিপুল পরিমাণ জল ধরে রাখতে এ জুড়িমেলা ভার। ছবিতে দেখে বর্ধমানের গাছটিকে আফ্রিকান বাওবাব মনে হচ্ছে। বিভিন্ন কারণে এর ফিচার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। নিজের চোখে দেখলে আরও ভালভাবে বলতে পারব এ বিষয়ে।
বর্তমানের এই গাছটি সত্যিই আফ্রিকান বাওবাব কিনা তা নির্ভর করছে বিশেষজ্ঞদের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর। তবে এটি আফ্রিকান বাওবাব হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছটিকে যাতে সংরক্ষণ করা হয় তার দাবি তুলছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
সায়নী সরকার





