স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত্যুর পরেই চিকিৎসক সহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের একটি দল বাড়িতে এসে ওই বৃদ্ধার কর্নিয়া সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় লোকজন মৃতার বাড়িতে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের দাবি মৃতদেহের কর্নিয়া বিক্রি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতয়ালি থানার পুলিশ। তারা মৃতার ছেলে, পুত্রবধূ সহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের দাবি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ওই বৃদ্ধা মৃত্যুর আগে কর্নিয়া দান করে গিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে পারেনি তারা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা কর্নিয়া চুরির অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বৃদ্ধার দুই ছেলে, দুই কন্যা ও এক পুত্রবধূকে পুলিশ গ্রেফতার করে। আজ তাদের কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে মৃতার ছেলে একজন সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। এ বিষয়ে সরব হয়েছেন পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরাও।
advertisement
মায়ের কর্নিয়া চুরির অভিযোগ মানতে নারাজ মৃতের ছেলে আমির চাঁদ শেখ৷ তাঁর দাবি, তাঁদের পরিবারকে ফাঁসানো হচ্ছে।
দেহদান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা সংগঠন গণদর্পণের সম্পাদক মনীশ সরকারও কৃষ্ণনগরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাটি পুলিশের সম্পূর্ণ অশিক্ষিত মনোভাবের পরিচয়৷ ১৭.১০.২৪ তারিখে রাবেয়া বিবি দেহ দান এবং চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেছিলেন৷ পরিবারের সবাই মৃত্যুর পর চক্ষুদানের জন্য সম্মতি দিয়েছিলেন৷ যদি মৃত ব্যক্তির অঙ্গীকার পত্র নাও থাকত তবুও পরিবারের সবাই সম্মতি দিলেই চক্ষুদান করা যেত৷ যেখানে পুলিশের উচিত ছিল, পরিবারের সদস্যদের ক্ষুব্ধ জনতার থেকে উদ্ধার করে থানায় সংর্ধনা দেওয়ার, সেখানে পুলিশ তাঁদেরকে গ্রেফতার করে অশিক্ষার পরিচয় দিল৷’
প্রাক্তন পুলিশকর্তা বিকাশ চট্টোপাধ্যায়ও এই গ্রেফতারিকে বেআইনি বলে দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘চক্ষুদান মহৎ কাজ৷স্থানীয় মানুষ যদি এরকম বোকার মতো কাজ করেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক৷ পুলিশের এই গ্রেফতারির কোনও কারণ নেই। এটি বেআইনি গ্রেফতারি। অভিযোগ থাকতেই পারে। পুলিশের ভেরিফিকেশন করা দরকার ছিল।’
সহ প্রতিবেদন- সমীর রুদ্র, নদিয়া
