তখনও তিনি জানতেন না, এই লেখালেখিই একদিন তাঁকে দুই বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে। ধীরে ধীরে তাঁর কবিতা আকার নিতে থাকে। শব্দের ভেতরে উঠে আসে ভাল থাকার বার্তা। মানুষের প্রতি মানুষের টান।
আরও পড়ুন-‘মহাপ্রলয়’ আসছে….! কেতুর গোচরে কাঁপবে দুনিয়া, ৩ রাশির জীবন সঙ্কটে, আর্থিক ক্ষতি কাঙাল করে ছাড়বে
পেশায় তিনি একজন গণিত শিক্ষক। পটাশপুরের শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুলে দীর্ঘদিন ধরে পড়াচ্ছেন। ক্লাসের অঙ্কের ফাঁকেই ভাবনার খাতায় জন্ম নেয় কবিতা। সময় পেলেই লিখে ফেলেন দু’চার লাইন। কখনও কবিতা। কখনও গান। ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি যেমন প্রিয় শিক্ষক, তেমনই পাঠকদের কাছে প্রিয় কবি। তাঁর লেখায় নেই জটিলতা। নেই ভারী শব্দ। সহজ ভাষায় তিনি বলেন জীবনের কথা। বলেন ভাল থাকার কথা। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও কীভাবে নিজেকে একটু সময় দেওয়া যায়, সেটাই তাঁর লেখার মূল সুর। শিক্ষকতার দায়িত্ব আর লেখালেখি—দুটোই তিনি সামলান সমান যত্নে।
advertisement
আরও পড়ুন-‘ভয়ঙ্কর নির্যাতন! টাকার জন্য এটাও করেছি…!’, বলিউডের নোংরা কেচ্ছা ফাঁস করলেন নীনা গুপ্তা
মানস মাইতির লেখা কবিতাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘ভাল থাকা’, ‘কারমাটার আজও কাঁদে’, ‘মানুষ ও ঈশ্বর’-সহ আরও অনেক লেখা। এই কবিতাগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়। ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের মত মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর শব্দ। আজ তাঁর কবিতা পৌঁছে যাচ্ছে কোটি কোটি মানুষের কাছে। বহু জনপ্রিয় কণ্ঠে আবৃত্তি হচ্ছে তাঁর লেখা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাঁর লেখায় খুঁজে পাচ্ছেন নিজের জীবনের গল্প। মন্তব্যে আসছে আবেগের প্রকাশ। কেউ লিখছেন অনুপ্রেরণার কথা। কেউ বলছেন মানসিক শক্তি পাওয়ার কথা।
শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। ওপার বাংলা থেকেও আসছে শুভেচ্ছা বার্তা। সেখানেও রয়েছে তাঁর অসংখ্য পাঠক। দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন সহজ কথায়। কবিতা দিয়ে শুধু মন জয় করাই তাঁর লক্ষ্য নয়। তিনি মানুষকে ভাল থাকার পথ দেখাতে চান। কাজের চাপ, জীবনের ক্লান্তি, মানসিক অবসাদের মাঝেও যেন মানুষ একটু হাসতে পারে—এটাই তাঁর উদ্দেশ্য। সেই কারণেই তিনি কবিতাকেই বেছে নিয়েছেন মাধ্যম হিসেবে। শব্দের শক্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই লিখে চলেছেন একটার পর একটা কবিতা, একটার পর একটা গান।





