আরও পড়ুন: ৪৬ বছরে ঘটেনি! ৩০ শতাংশ কমে গেল রুপোর দাম, হুড়মুড়িয়ে পড়ল সোনাও, কতটা সস্তা দুই ধাতু?
উৎসবের মূল আকর্ষণ সেই পেটাই পরোটা। যা বছরের পর বছর ধরে একই ধর্মীয় রীতি ও সংস্কৃতিকে বজায় রেখেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ কুইন্টাল ময়দা দিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ পরোটা। বড় বড় কড়াইয়ে, বিশাল তাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে রান্না। গরম গরম পেটাই পরোটা প্রসাদ হিসেবে পরিবেশন করা হয় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষের মধ্যে। সারি দিয়ে বসে একসঙ্গে খাওয়ার সেই দৃশ্য যেন এক অন্য রকম আনন্দের ছবি এঁকে দেয়।
advertisement
এই উৎসবের আরেকটি বিশেষ দিক হল—গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কেউ ময়দা মাখছেন, কেউ আগুন জ্বালাচ্ছেন, কেউ পরিবেশনের দায়িত্বে। কারও মুখে ক্লান্তির ছাপ নেই, বরং চোখেমুখে গর্ব—কারণ এ এক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্য।স্থানীয় বাসিন্দা বটকৃষ্ণ পাল জানান, প্রায় আড়াই শতাব্দী আগে সাধক হারু বৈরাগী এই উত্তরপল্লী হরি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। হরিনাম সংকীর্তনের প্রসার ও গ্রামের মঙ্গলকামনাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেই সময় থেকেই ভীম একাদশীতে এই বিশেষ পুজো ও পেটাই পরোটা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: টি২০ বিশ্বকাপের জরুরি ইভেন্ট বাতিল করল পিসিবি, পাকিস্তানের খেলা নিয়ে বিরাট মোড়! তবে কি…
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, যখন আধুনিকতার স্রোতে বহু গ্রামীণ উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে, তখন নেধুয়ার এই উৎসব যেন ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত। ধর্ম, সংস্কৃতি আর ভ্রাতৃত্ববোধ—সব মিলিয়ে এই পেটাই পরোটা উৎসব আজ শুধুই খাবারের আয়োজন নয়, এটি গ্রামবাংলার আত্মার প্রতিচ্ছবি। দর্শনার্থীদের কথায়, “এখানে শুধু পরোটা নয়, মানুষ মানুষকে আপন করে নেয়।” গ্রামের মানুষও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ—এই ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের হাত ধরে আরও দূরে পৌঁছে যাবে।