সালটা ১৯৯৩। নদিয়ার শান্তিপুরের বেলঘড়িয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের কালিপুর এলাকার বাসিন্দা ফেলানি বসাক আজও তাঁর মেয়ের ধর্ষকদের বিরপদ্ধে শাস্তির আশায় বসে ছিলেন। সেদিনের সেই দাবি আজও পুরন হল না তাঁর। মেলেনি ন্যায়বিচার। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় ফেলানি বসাকের মূক ও বধির মেয়েকে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার পেতে বর্তমান নদিয়া জেলা পরিষদ সভাধিপতি রিক্তা কুণ্ডু সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। আজকের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসকে সেই সময় সঙ্গে নিয়ে তৎকালীন যুব কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখাও করেন ফেলানি। সেখান থেকে একাধিক দাবি-সহ এই ঘটনায় উপযুক্ত শাস্তির দাবি নিয়ে সেইদিন তৎকালীন বাম সরকারের সদর দফতরে হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
advertisement
রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ভিতর এহেন বিক্ষোভের কেঁপে উঠেছিল তাদের প্রতিহত করতে সেদিন কলকাতার রাজপথে চলেছিল গুলি। প্রাণ গিয়েছিল ১৩ কংগ্রেস কর্মীর। পরবর্তী সময় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দল তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে অনুসরণ করে সেই সময় কংগ্রেস ছেড়ে আরও অনেক নেতাই বেরিয়ে এসেছিলেন। মমতার সেদিনের দাবিগুলির মধ্যে আগামীদিনে বেশ কিছু বিষয় বাস্তবায়িত হয়। কিন্তু, মূল দাবিগুলির অন্যতম ফেলানী বসাকের মেয়ের ধর্ষণকারীদের প্রকৃত শাস্তি মেলেনি।
সোমবার বেলা ১২’টা নাগাদ নিজের বাড়িতেই বয়স্কজনিত কারণে পরলোক গমন করেন ফেলানি বসাক। ঘটনার খবর পেতে শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফেলানি বসাককে দলীয় পতাকা এবং মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অপরদিকে, আগামীতে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। মায়ের দেখানো পথেই আগামীতে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার ডাক মৃত ফেলানি বসাকের ছেলের।






