উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার বিথারী হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ তারালী এলাকায় সোনাই নদীর পাড়েই অবস্থিত প্রাচীন রাম-সীতা মন্দির। ভৈমি একাদশী উপলক্ষে মন্দির চত্বর ও নদীর দুই তীরে বহু ভক্তের সমাগম হয়। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আসা এপার বাংলার ভক্তদের পাশাপাশি ওপার বাংলার বহু মানুষও এই পুজোয় অংশ নিতে চান।
advertisement
তবে সীমান্তের কড়া বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে কেউ নদী পেরিয়ে মন্দিরে আসতে পারেন না। ফলে সোনাই নদীকেই তাঁরা পুজোর স্থান হিসেবে বেছে নেন। ধূপ, ধুনো, ফল-মিষ্টি নিবেদন করে নদীর জলে প্রার্থনা জানান তাঁরা। বিএসএফের কড়া নজরদারির মধ্যেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই রীতি।
আরও পড়ুনঃ নিমপীঠে কৃষি মেলায় ‘বিরাট’ আয়োজন! ৮ ফুটের কচু, ৬ কেজির লাউ দেখতে ভিড়, পুরস্কৃত ১৫০ কৃষক
যদিও এবছর নদীর দু’পাড়ে ভক্তদের সেই চিরচেনা ভিড় কিছুটা কম দেখা গিয়েছে। মন্দির কমিটির উদ্যোক্তারা জানান, স্বাধীনতার আগে দক্ষিণ তারালীর রাম-সীতা মন্দির ছিল দুই বাংলার মানুষের মিলনকেন্দ্র। এই দিনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির তৈরি হতো। একসঙ্গে পুজো, অর্চনা আর খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়ে কাটত দিনটি। দেশভাগের পর সীমান্তের বেড়াজালে সেই দৃশ্য আজ ইতিহাস।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবুও ভৈমি একাদশীর দিনটি আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সোনাই নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে দূর থেকে কথা বলা, একে অপরকে দেখা- এই সুযোগটাই যেন সীমান্তবাসীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নদীর জলে পুজো ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দুই বাংলার মানুষের শান্তি ও মঙ্গলকামনা করেন ভক্তরা। প্রায় চার শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে দক্ষিণ তারালীর রাম-সীতা মন্দির। সময় বদলালেও, সীমান্ত কঠোর হলেও, ভৈমি একাদশীর দিনে সোনাই নদী আজও দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ের দূরত্ব ঘোচানোর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকে।





