মকর সংক্রান্তির ভোরে সূর্য ওঠার আগেই কল্পগঙ্গা হয়ে ওঠা রায়মঙ্গলের তীরে মানুষের ঢল নামতে দেখা যায়। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাপাড় ও গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। কিন্তু সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার বহু মানুষের পক্ষে দূরবর্তী গঙ্গাসাগরে যাওয়া সম্ভব হয় না। যাতায়াতের অসুবিধা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে তাঁদের বহুদিনের আক্ষেপ থেকেই যায়। সেই আক্ষেপ দূর করতেই এদিন স্থানীয় মানুষেরা রায়মঙ্গল নদীর জলেই পুণ্যস্নান সারেন।
advertisement
আরও পড়ুনঃ কখনও নদীতে স্নান, কখনও জল পান! ডুয়ার্সে জোড়া হাতির বিরল দৃশ্য, গজরাজদের কীর্তি দেখতে ভিড়
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তির দিন নদী বা সাগরের জলে স্নান করে সূর্য প্রণাম করলে পুণ্যলাভ হয় এবং মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সেই বিশ্বাসকে সঙ্গে রেখেই ভোরবেলা থেকে রায়মঙ্গলের তীরে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। স্নান, সূর্য প্রণাম ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে তাঁরা এই পবিত্র তিথি পালন করেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের হেমনগর কোস্টাল থানা এলাকার রায়মঙ্গল নদীতে এদিন এক অনন্য দৃশ্য ধরা পড়ে। সারি সারি মানুষ নদীতে নেমে পুণ্যস্নান করেন। নদীর পাড় জুড়ে দেখা যায় উৎসবের আমেজ, ধর্মীয় আচার ও ভক্তির আবহ। গঙ্গাসাগরে যেতে না পারার কষ্ট থাকলেও রায়মঙ্গল নদীকেই কল্পগঙ্গা হিসেবে গ্রহণ করে মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথি উদযাপন করেন সুন্দরবনবাসী। বিশ্বাস আর আস্থার জোরেই তাঁদের কাছে রায়মঙ্গলের জল হয়ে ওঠে গঙ্গাসাগরের সমতুল্য, সেখানেই পূর্ণতা পায় তাঁদের পুণ্যস্নানের আকাঙ্ক্ষা।





